বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রস্তাবিত ছায়া বাজেটে শিক্ষা ও প্রযুক্তি খাতকে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে ১ লাখ ২৫ হাজার ৫৭৫ কোটি টাকা বা মোট বাজেটের ১৪.৯৬ শতাংশ বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। স্বাস্থ্য খাতে ৫.৩৯ শতাংশ বরাদ্দের পাশাপাশি কর ও প্রশাসনিক সংস্কারের বিভিন্ন প্রস্তাবও তুলে ধরা হয়েছে।

জামায়াতের ছায়া বাজেটে শিক্ষা ও প্রযুক্তি খাতে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বরাদ্দের প্রস্তাব

জামায়াতের ছায়া বাজেটে শিক্ষা ও প্রযুক্তি খাতে ১ লাখ ২৫ হাজার ৫৭৫ কোটি টাকা বা ১৪.৯৬ শতাংশ বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। স্বাস্থ্য, কৃষি, যোগাযোগ ও সামাজিক নিরাপত্তা খাতেও উল্লেখযোগ্য বরাদ্দের রূপরেখা তুলে ধরা হয়েছে।

জামায়াতের ছায়া বাজেটে শিক্ষা ও প্রযুক্তি খাতে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বরাদ্দের প্রস্তাব
৯ জুন, ২০২৬ ১৭:০১  

জাতীয় বাজেটের বিকল্প হিসেবে উপস্থাপিত বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ছায়া বাজেটে শিক্ষা ও প্রযুক্তি খাতকে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। প্রস্তাবিত বাজেটে এ খাতে ১ লাখ ২৫ হাজার ৫৭৫ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে, যা মোট বাজেটের ১৪ দশমিক ৯৬ শতাংশ।

মঙ্গলবার (৯ জুন) রাজধানীর মগবাজারে আল ফালাহ মিলনায়তনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে দলের আমির ডা. শফিকুর রহমান ‘জাতীয় বিকল্প বা ছায়া বাজেট’ উপস্থাপন করেন। এ সময় নির্বাহী পরিষদের সদস্য ও ঢাকা-১২ আসনের সংসদ সদস্য সাইফুল ইসলাম খান মিলন বাজেটের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।

বাজেট উপস্থাপনকালে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দেশের আর্থিক বছর জুলাই-জুন হওয়ায় উন্নয়ন প্রকল্পের বড় অংশ বর্ষাকালে তড়িঘড়ি বাস্তবায়নের চেষ্টা করা হয়, যা কার্যত অপচয় ও দুর্নীতির সুযোগ সৃষ্টি করে। এ কারণে আর্থিক বছরকে ক্যালেন্ডার বছরের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করার প্রস্তাব দেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

জামায়াতের প্রস্তাবিত বাজেট বিশ্লেষণে দেখা যায়, জনপ্রশাসন খাতে সর্বোচ্চ ২ লাখ ২ হাজার ২৪৫ কোটি টাকা বা ২৪ দশমিক ০৯ শতাংশ বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। এর পরেই শিক্ষা ও প্রযুক্তি খাতকে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে ১৪ দশমিক ৯৬ শতাংশ বরাদ্দের রূপরেখা দেওয়া হয়েছে।

স্বাস্থ্য খাতেও তুলনামূলক বড় বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। এ খাতে ৪৫ হাজার ২৪০ কোটি টাকা বা মোট বাজেটের ৫ দশমিক ৩৯ শতাংশ বরাদ্দের কথা বলা হয়েছে। শিক্ষা, প্রযুক্তি ও স্বাস্থ্য খাতকে মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

ছায়া বাজেটে ঋণের সুদ পরিশোধের জন্য ১ লাখ ২৭ হাজার ৫০০ কোটি টাকা বা ১৫ দশমিক ১৯ শতাংশ বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এছাড়া পরিবহন ও যোগাযোগ খাতে ৬৫ হাজার ৩৪০ কোটি টাকা, কৃষি খাতে ৫১ হাজার ৬৭০ কোটি টাকা এবং সামাজিক নিরাপত্তা ও কল্যাণ খাতে ৪৮ হাজার ১৫০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে।

এছাড়া স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন খাতে ৪৫ হাজার ২২০ কোটি টাকা, প্রতিরক্ষা খাতে ৪৩ হাজার ৪৬২ কোটি টাকা, জনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা খাতে ৩৪ হাজার ৪৫৭ কোটি টাকা এবং জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতে ২৪ হাজার ৯৫০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে।

করব্যবস্থার সংস্কারের অংশ হিসেবে জাতীয় পরিচয়পত্রকে (এনআইডি) ট্যাক্স আইডেন্টিফিকেশন নম্বর (টিআইএন) হিসেবে ব্যবহারের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে স্মার্ট সোশ্যাল সিকিউরিটি নম্বর চালুর কথাও বলা হয়।

করদাতাদের জন্য করমুক্ত আয়সীমা সাড়ে ৪ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫ লাখ টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে। পাশাপাশি সন্তানদের শিক্ষা ব্যয় বাবদ বছরে ৫০ হাজার টাকা এবং পরিবারের প্রতিটি সদস্যের জন্য অতিরিক্ত ৫০ হাজার টাকা কর রেয়াতের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

অনুষ্ঠানে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা, অর্থনীতিবিদ এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

//ডিবিটেক/এসএইচ/এমআই//