অ্যালগরিদমে ধরা পড়ছে ভ্যাট ফাঁকি, এনবিআরের অটো অডিটে ৬০০ প্রতিষ্ঠান
ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ইলেকট্রনিক ফিসকাল ডিভাইস (ইএফডি), পস মেশিন বা সফটওয়্যার থেকে বিক্রির তথ্য এখন সরাসরি জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সার্ভারে পৌঁছাচ্ছে। এর সঙ্গে অনলাইনে জমা দেওয়া ভ্যাট রিটার্নের তথ্য এবং আমদানির তথ্য এ্যাসাইকুডা সিস্টেম থেকে যুক্ত হচ্ছে। ফলে বিক্রয়, ক্রয়, ইনপুট ও আউটপুট ভ্যাট—সব তথ্য এক প্ল্যাটফর্মে মিলিয়ে দেখা সম্ভব হচ্ছে।
এই ডিজিটাল সমন্বয়ের মাধ্যমে কোনো গরমিল থাকলে তা তাৎক্ষণিকভাবে শনাক্ত করতে পারছে সিস্টেম। সফটওয়্যার অ্যালগরিদম ব্যবহার করে ঝুঁকিপূর্ণ করদাতা চিহ্নিত করা হচ্ছে—যেমন হঠাৎ কম বিক্রি দেখানো, অস্বাভাবিক ইনপুট ভ্যাট দাবি বা পূর্বের তুলনায় বড় পার্থক্য। যাদের ঝুঁকি বেশি, তাদের অডিটে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।
এনবিআর জানিয়েছে, ই-ভ্যাট ব্যবস্থায় যুক্ত করা হয়েছে একটি বিশেষ ‘অটোমেটেড রিস্ক ম্যানেজমেন্ট মডিউল’। এতে ২০টি সুনির্দিষ্ট ঝুঁকির সূচক নির্ধারণ করা হয়েছে, যার মাধ্যমে কোনো প্রতিষ্ঠানের তথ্য যাচাই করে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ঝুঁকি নির্ধারণ করা হয়। এই পদ্ধতিতে সিস্টেম নিজেই অডিটের জন্য প্রতিষ্ঠান নির্বাচন করে, ফলে কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত প্রভাব খাটানোর সুযোগ কমে আসে।
স্বয়ংক্রিয় এই ব্যবস্থায় প্রথম দফায় ৬০০টি প্রতিষ্ঠান অডিটের আওতায় এসেছে। এর মধ্যে রয়েছে ৪০৫টি উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান, ৯৮টি সেবাপ্রদানকারী, ৬৫টি খুচরা ও পাইকারি বিক্রেতা এবং আমদানিকারক ও রপ্তানিকারক ক্যাটাগরির ৩২টি প্রতিষ্ঠান।
এনবিআরের মতে, এই স্বচ্ছ ও প্রযুক্তিনির্ভর উদ্যোগ ভ্যাট ব্যবস্থাপনায় নতুন যুগের সূচনা করবে। অডিট শেষে কোনো প্রতিষ্ঠান তথ্য গোপন বা গরমিল প্রমাণিত হলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সংস্থাটি আরও জানিয়েছে, এই পদ্ধতির কার্যকারিতা পর্যবেক্ষণ করে ভবিষ্যতে ঝুঁকির সূচক আরও শক্তিশালী করা হবে। কাস্টমস ও ভ্যাট প্রশাসনকে আধুনিক, স্বচ্ছ ও দক্ষ করার অংশ হিসেবে ‘ট্রেড ফেসিলিটেশন’ কার্যক্রমও জোরদার করা হচ্ছে।
এনবিআর আশা করছে, স্বয়ংক্রিয় এই ব্যবস্থার ফলে একদিকে করদাতাদের হয়রানি কমবে, অন্যদিকে রাজস্ব ফাঁকি রোধ আরও কার্যকর হবে। ভ্যাট প্রশাসনকে করদাতা-বান্ধব ও সম্পূর্ণ ডিজিটাল করার লক্ষ্যে এ ধরনের অটোমেশন কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
ডিবিটেক/আইএইচ/ইকে



