বিশ্ব টেলিযোগাযোগ ও তথ্য সংঘ দিবসে 

সংযুক্ত ও সহনশীল ডিজিটাল সমাজ গঠনের প্রত্যয়ে যা থাকছে দুই দিনের আয়োজনে

সংযুক্ত ও সহনশীল ডিজিটাল সমাজ গঠনের প্রত্যয়ে যা থাকছে দুই দিনের আয়োজনে
১৬ মে, ২০২৬ ২১:৩২  

১৭ মে, রবিবার বিশ্ব টেলিযোগাযোগ ও তথ্য সংঘ দিবস-২০২৬। এ বছরের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে—“Digital Lifelines: Strengthening Resilience in a Connected World” বা “ডিজিটাল জীবনধারা: সংযোগে স্থিতি, সহনশীলতায় শক্তি”। এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর অংশগ্রহণে নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে দিবসটি উদযাপন করা হবে।

রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) ভবনের প্রধান সম্মেলন কক্ষে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। একইসঙ্গে ১৭ ও ১৮ মে বিটিআরসি প্রাঙ্গণে দুই দিনব্যাপী টেলিকম মেলাও অনুষ্ঠিত হবে।

ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিব বিলকিস জাহান রিমির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সচিব কাজী আনোয়ার হোসেন। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেবেন বিটিআরসির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল মো. এমদাদ উল বারী (অব.)।

দিবসটি উপলক্ষে বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশ, স্মারক ডাকটিকিট উন্মোচন, প্রযুক্তিবিষয়ক স্মরণিকা প্রকাশ, রচনা প্রতিযোগিতা, টেলিভিশনে বিশেষ আলোচনা অনুষ্ঠান এবং টেলিকম মেলাসহ বিভিন্ন কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে। আয়োজকদের মতে, এসব আয়োজনের মাধ্যমে ডিজিটাল প্রযুক্তির ইতিবাচক ব্যবহার, টেলিযোগাযোগ খাতের অগ্রগতি এবং একটি সংযুক্ত ও সহনশীল ডিজিটাল সমাজ গঠনে জনসচেতনতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

দিবসটি উপলক্ষে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় আন্তর্জাতিক টেলিকমিউনিকেশন ইউনিয়নের (আইটিইউ) মহাসচিব ডোরিন বোগডান-মার্টিন বলেন, ডিজিটাল সংযোগ এখন শুধু প্রযুক্তিগত সুবিধা নয়, বরং মানবিক সহনশীলতা, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং সামাজিক নিরাপত্তার অন্যতম ভিত্তি। একটি নির্ভরযোগ্য ডিজিটাল অবকাঠামো গড়ে তুলতে পারলে সংকট মোকাবিলা, উদ্ভাবন এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন নিশ্চিত করা সম্ভব হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পর দিবসের প্রতিপাদ্যের আলোকে একটি সেমিনার অনুষ্ঠিত হবে। বিটিআরসির কমিশনার মাহমুদ হোসেনের সঞ্চালনায় আয়োজিত এ সেমিনারে ডিজিটাল অর্থনীতিতে কানেক্টিভিটির গুরুত্ব, ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থা, অন্তর্ভুক্তিমূলক ডিজিটাল সেবা এবং প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিয়ে আলোচনা হবে।

সেমিনারে আলোচক হিসেবে অংশ নেবেন জেডটিই কর্পোরেশনের ডেপুটি চিফ টেকনিক্যাল অফিসার সৈয়দ মো. শামশুর রহমান, বিকাশের চিফ এক্সটার্নাল অ্যান্ড কর্পোরেট অ্যাফেয়ার্স অফিসার মেজর জেনারেল মনিরুল ইসলাম (অব.), গ্রামীণফোনের চিফ বিজনেস অফিসার ড. আসিফ নাইমুর রশিদ, বিডিজবস ডটকমের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও এ কে এম ফাহিম মাশরুর, রবির চিফ কর্পোরেট অ্যান্ড রেগুলেটরি অফিসার শাহেদ আলম, ইন্টারক্লাউড লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হাসিবুর রশিদ এবং শিখোর প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও শাহির চৌধুরী।

প্রসঙ্গত, ১৮৬৫ সালের ১৭ মে আন্তর্জাতিক টেলিযোগাযোগ ইউনিয়ন প্রতিষ্ঠার স্মরণে ১৯৬৯ সাল থেকে বিশ্ব টেলিযোগাযোগ দিবস পালন করা হচ্ছে। পরে ২০০৬ সালে আইটিইউ সম্মেলনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দিনটি “বিশ্ব টেলিযোগাযোগ ও তথ্য সংঘ দিবস” হিসেবে পালিত হয়ে আসছে।

ডিবিটেক/এমএ/এমইউএম