সংস্কৃতিতে প্রযুক্তির ছোঁয়ার সঙ্গে প্রয়াত লোকমান হোসেন ফকিরকে স্বাধীনতা পুরস্কার প্রদানের দাবি
দেশের লোকায়ত সংস্কৃতির বিকাশে প্রযুক্তির ব্যবহারের সঙ্গে গীতি কবি জাসাস প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি লোকমান হোসেন ফকিরের স্বাধীনতা পদক দাবি করলেন বক্তারা। সেই দাবির সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে বর্তমান প্রজন্মের সামনে বাংলাদেশের সংস্কৃতির বিকাশ জাসাস' পূণর্জাগরণে সব কিছু করার আশ্বাস দিলেন ডাক, টেলিযোগাযোগ, তথ্য-প্রযুক্তি ও বিজ্ঞান মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম।
একুশে পদকসহ বহু পুরস্কার প্রাপ্ত এই গীতিকবির ৩৫ তম মৃত্যু বার্ষিকী স্মরণে ১৬ মে সন্ধ্যায় শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালায় অনুষ্ঠিত আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে এই প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন মন্ত্রী।
নিজের চাচাকে স্মরণ করে মাহবুব আনাম স্বপন বলেন, সব কিছুর পেছনেই আসে সংস্কৃতি। লোকসঙ্গীত দেশময় ছড়িয়ে দিতে আমরা কাজ করবো। জাসাস-কে এগিয়ে নিতে আমি সব করবো।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থা-
জাসাস জাতীয় কমিটির সভাপতি অভিনেতা হেলাল খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আৃলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম বলেন,বাংলাদেশে একটা জটিল সময় চলছে। জাসাস সহ গত ২০ বছর বিএনপি সমর্থকরাও নিগৃহীত হয়েছে। তাই এখন আমাদের জাতীয়তাবাদী কর্মপদ্ধতি তৈরি করতে হবে।
দেশের সংস্কৃতি অঙ্গন পূণর্গঠনের প্রত্যয় ব্যক্ত করে তিনি আরও বলেন, মাথচাড়া দিয়ে ওঠা মৌলবাদের বিপক্ষে এখন রাজনীতি ছাপিয়ে মানুষের মনোস্তাত্বিক উন্নয়নে সংস্কৃতি অন্যতম হাতিয়ার। আনুষ্ঠানিকতার বাইরে উদার গণতন্ত্রের বিকাশ ঘটাতে হবে। অতীতের মতো রাজনীতিকে এখানে টেনে আনা যাবে না। এজন্য দিনব্যাপী কর্মশালার মাধ্যমে এই অঙ্গনের বিশৃঙ্খলা রোধ করে বাংলাদেশের সংস্কৃতিকে বিশ্বমানের করে তুলে ধরা দরকার। এজন্য ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির প্রতিটি মাধ্যম ও ক্ষেত্রে আধুনিকতার ছোঁয়া দেয়ার উপর গুরুত্ব আরোপ করেন প্রতিমন্ত্রী।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির মধ্যে আরও বক্তব্য রাখেন ময়মনসিংহ জেলা পরিষদের প্রশাসক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, বিএনপির সংস্কৃতি বিষয়ক উপদেষ্টা আশরাফ উদ্দিন আহমেদ উজ্জ্বল ও সহ-সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক সাঈদ সোহরাব।
ডিজিটাল দুনিয়ায় জাতীয়তাবাদী সাংস্কৃতি পৌঁছে দিতে মন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানান নায়ক উজ্জ্বল। আর বিএনপির দুর্দিনে ফকির পরিবারের পূণর্গঠনে নেয়া নানা অনবদ্য ভূমিকার কথা স্মরণ করেন প্রিন্স।
অনুষ্ঠানে গুণী এই শিল্পির জন্য স্বাধীনতা পুরস্কার দাবি করা হয়।
আলোচকদের মধ্যে কবির লেখা গান গেয়ে শোনান সঙ্গীত শিল্পী কল্যাণী ঘোষ, আবৃত্তি শোনান আরেক বক্তা। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে গান ও ক্যোরিয়গ্রাফি পরিবেশন করা হয়।
ডিবিটেক/এমএম/ইকে



