অনলাইন জুয়ায় দিনে অবৈধ আয় ২ কোটি টাকা, হুন্ডি-ক্রিপ্টোতে পাচার
দেশীয় ও আন্তর্জাতিক অনলাইন জুয়ার সাইট পরিচালনা করে প্রতিদিন প্রায় দুই কোটি টাকা অবৈধভাবে সংগ্রহ এবং তা বিদেশে পাচারকারী একটি সংঘবদ্ধ চক্রের হোতাসহ আট সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। আটক ব্যক্তিরা হলেন- মো. আশরাফ উদ্দীন আহম্মেদ (৩২), সজীব চক্রবর্তী (২৯), মো. আশরাফুল ইসলাম (৪০), মো. জসীম উদ্দীন (৩৬), তৈয়ব খান (২৬), সৌমিক সাহা (২৮), মো. কামরুজ্জামান (৩৬) এবং আব্দুর রহমান (৪৭)।
গত ছয় মাস ধরে সক্রিয় এই চক্রটি জুয়ার সাইটের মাধ্যমে প্রতিদিন ১ কোটি ৮০ লাখ থেকে ২ কোটি টাকা অবৈধভাবে আয় করছিল, যা পরবর্তীতে ডিজিটাল হুন্ডি ও ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে বিদেশে পাচার করা হতো।
১৭ মে, রবিবার রাজধানীর মালিবাগে সিআইডি সদর দপ্তরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংস্থার প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি মোসলেহ উদ্দিন আহমেদ এসব তথ্য জানান।
সিআইডি প্রধান জানান, চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও দেশীয় অনলাইন জুয়ার প্ল্যাটফর্ম পরিচালনা করে আসছিল। এসব সাইটে সাধারণ মানুষকে প্রলোভিত করে মোবাইল ব্যাংকিং সেবা, ব্যাংক হিসাব ও ক্রিপ্টো ওয়ালেট ব্যবহার করে অর্থ লেনদেন করা হতো। সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টারের (সিপিসি) নিয়মিত অনলাইন নজরদারির সময় বিষয়টি নজরে আসলে ঢাকা মহানগর পুলিশের পল্টন মডেল থানায় সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশে একটি মামলা দায়ের করা হয়।
এরই ধারাবাহিকতায় গত ৬ মে সিআইডির একটি দল ময়মনসিংহ ও কিশোরগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে চক্রের মূল চার সদস্য আশরাফ, সঞ্জীব, আশরাফুল ও জসীমকে গ্রেফতার করে। পরে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আজ ১৭ মে নরসিংদীর পলাশ এবং ঢাকার ধানমন্ডি এলাকায় অভিযান চালিয়ে চক্রের আরও চার সদস্য তৈয়ব, সৌমিক, কামরুজ্জামান ও আব্দুর রহমানকে গ্রেফতার করা হয়। অভিযান দুটি থেকে ১৩টি মোবাইল ফোন, ২০টি সিম কার্ড এবং দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ভুয়া এজেন্ট সিম পাঠানোর একাধিক কুরিয়ার রসিদসহ বিপুল পরিমাণ ডিজিটাল ডিভাইস জব্দ করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামিরা অনলাইন জুয়া ও ডিজিটাল হুন্ডি কার্যক্রমের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন।
পাচার হওয়া অর্থ ফেরতের বিষয়ে অতিরিক্ত আইজিপি মোসলেহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, পাচারকৃত অর্থ উদ্ধারে সিআইডি বর্তমানে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) ও আন্তর্জাতিক আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছে। পাশাপাশি গ্রেফতারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে এই চক্রটির আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক ও সংশ্লিষ্ট ক্রিপ্টো ওয়ালেটগুলো শনাক্ত করার কার্যক্রম চলমান রয়েছে। অনলাইন জুয়া প্রতিরোধে সিআইডির সাইবার ইন্টেলিজেন্স অ্যান্ড রিস্ক ম্যানেজমেন্ট ইউনিটের এই নিয়মিত মনিটরিং ও অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি জানান।
ডিবিটেক/আরই/এমআই



