রূপপুরে জ্বালানি লোডিং ২৮ এপ্রিল: বিদ্যুৎ উৎপাদনের পথে বড় মাইলফলক

রূপপুরে জ্বালানি লোডিং ২৮ এপ্রিল: বিদ্যুৎ উৎপাদনের পথে বড় মাইলফলক
২৪ এপ্রিল, ২০২৬ ১০:১৩  

বাংলাদেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র-এর প্রথম ইউনিটে আগামী ২৮ এপ্রিল জ্বালানি (ইউরেনিয়াম) লোডিং কার্যক্রম শুরু করতে চূড়ান্ত প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনা শেষে জ্বালানি লোডিংয়ের তারিখ চূড়ান্ত করা হয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে জ্বালানি লোডিংয়ের ওই অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে  ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ, রোসাটম-এর মহাপরিচালক আলেক্সি লিখাচেভ এবং আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তি সংস্থা-এর প্রতিনিধি এবং রুশ সরকারের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের।

২৪ এপ্রিল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আনোয়ার হোসেন এই দিনক্ষণের কথা নিশ্চিত করেছেন। আর ইউরেনিয়াম লোডিং কার্যক্রম শুরু করতে পারাকে দেশের বিদ্যুৎ খাতে একটি ঐতিহাসিক অগ্রগতি অর্জিত হতে যাচ্ছে বলে আশাবাদী তিনি। কেননা এটি কেন্দ্রটির কমিশনিংয়ের পূর্ববর্তী গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে বিবেচিত। 

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, জ্বালানি লোডিং শুরুর তিন মাসের মধ্যে প্রথম ইউনিট থেকে পরীক্ষামূলকভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হতে পারে। প্রাথমিকভাবে প্রায় ৩০০ মেগাওয়াট উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে এবং ধাপে ধাপে বাড়িয়ে ২০২৭ সালের জানুয়ারির মধ্যে পূর্ণ সক্ষমতায় পৌঁছানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

এর আগে গত ১৬ এপ্রিল বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ প্রথম ইউনিটের কমিশনিং লাইসেন্স প্রদান করে, যা আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হয় বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন-এর চেয়ারম্যান ড. এম মঈনুল ইসলামের কাছে। লাইসেন্স প্রাপ্তির আগে কিছু গুরুত্বপূর্ণ কারিগরি ইস্যুর কারণে ৭ এপ্রিল নির্ধারিত জ্বালানি লোডিং কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছিল।

নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. জায়েদুল হাসান জানান, কেন্দ্র পরিচালনার জন্য ৫২ জন বিশেষজ্ঞ আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে লিখিত, মৌখিক ও সিমুলেশন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে লাইসেন্স অর্জন করেছেন। এই পরীক্ষাগুলো পরিচালনায় অংশ নেয় রাশিয়ার নিয়ন্ত্রক সংস্থা রোস্টেকনাডজর, প্রযুক্তিগত প্রতিষ্ঠান ভিও-সেফটি এবং সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।

তিনি আরও বলেন, জ্বালানি লোডিংয়ের পর বিভিন্ন ধাপে পরীক্ষা-নিরীক্ষা সম্পন্ন করে ফাইনাল সেফটি অ্যানালাইসিস রিপোর্ট প্রস্তুত করা হবে। পুরো কমিশনিং প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে প্রায় ১০ থেকে ১১ মাস সময় লাগতে পারে।

এদিকে, জ্বালানি লোডিং সামনে রেখে প্রকল্প এলাকায় জনসম্পৃক্ততা বাড়াতে ২৩ এপ্রিল পাবনার ঈশ্বরদীর চরসাহাপুরে একটি উঠান বৈঠকের আয়োজন করা হয়। এতে স্থানীয় জনগণের কাছে প্রকল্পের নিরাপত্তা, পরিবেশগত প্রভাব ও প্রযুক্তিগত বিষয় সহজভাবে তুলে ধরা হয়।

পদ্মা নদীর তীরে প্রায় ১২ দশমিক ৬৫ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ে নির্মিত এই প্রকল্পে রাশিয়ার সহায়তায় দুটি ভিভিইআর-১২০০ রিঅ্যাক্টর স্থাপন করা হয়েছে। দুটি ইউনিট চালু হলে কেন্দ্রটি মোট ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনে সক্ষম হবে, যা দেশের মোট চাহিদার ১০ শতাংশের বেশি পূরণ করতে পারবে।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মতে, বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের অস্থিরতার মধ্যে এই কেন্দ্র চালু হলে দেশের বিদ্যুৎ সংকট কমবে এবং আমদানিনির্ভর জ্বালানির ওপর চাপও উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে।

ডিবিটেক/আইএইচ/ইকে