জুলাই থেকে বাধ্যতামূলক হচ্ছে বাংলা কিউআর কোড

জুলাই থেকে বাধ্যতামূলক হচ্ছে বাংলা কিউআর কোড
১২ মে, ২০২৬ ১২:২৭  

আগামী জুলাই মাস থেকে দেশের সব ধরনের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে বাংলা কিউআর কোড ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হবে বলে জানিয়েছেন –এর গভর্নর ।

১২ মে, মঙ্গলবার রাজধানীর একটি হোটেলে ‘বাংলাদেশ স্টার্টআপ ইনভেস্টমেন্ট কোম্পানি’র উদ্বোধনী তহবিল ঘোষণা অনুষ্ঠানে তিনি এ তথ্য জানান। গভর্নর বলেন, দেশে ডিজিটাল লেনদেনকে আরও সহজ, নিরাপদ এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক করতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক এই উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে।

তিনি জানান, বাংলা কিউআর হচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক অনুমোদিত একটি সর্বজনীন ও আন্তঃলেনদেনযোগ্য ডিজিটাল পেমেন্ট প্ল্যাটফর্ম। এর মাধ্যমে একটি মাত্র কিউআর কোড স্ক্যান করেই যেকোনো ব্যাংক অ্যাপ বা মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস ব্যবহার করে অর্থ পরিশোধ করা যাবে। ফলে ভিন্ন ব্যাংক বা মোবাইল আর্থিক সেবার গ্রাহকদের জন্যও একই প্ল্যাটফর্মে লেনদেন সম্ভব হবে।

গভর্নর বলেন, ছোট দোকান থেকে বড় শপিংমল—সব ধরনের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে একই বাংলা কিউআর ব্যবহার করা যাবে। এতে বিক্রেতাদের আলাদা আলাদা পেমেন্ট গেটওয়ে বা কিউআর কোড ব্যবহারের প্রয়োজন হবে না। ক্রেতা স্মার্টফোন দিয়ে কোড স্ক্যান করলেই তাৎক্ষণিকভাবে পেমেন্ট সম্পন্ন হবে এবং স্বয়ংক্রিয় নোটিফিকেশন পাওয়া যাবে। পাশাপাশি প্রতিদিনের লেনদেনের হিসাবও ডিজিটালভাবে সংরক্ষিত থাকবে।

তিনি আরও জানান, যেকোনো ব্যাংকে সেভিংস, কারেন্ট বা এসএনডি হিসাব থাকলে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বাংলা কিউআর সুবিধা নিতে পারবে। এ জন্য ব্যাংক হিসাব ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের তথ্য দিয়ে আবেদন করতে হবে। আবেদন জমার তিন থেকে চার দিনের মধ্যে কিউআর কোড প্রস্তুত করা হবে এবং এসএমএস বা ই-মেইলের মাধ্যমে গ্রাহককে জানানো হবে।

বাংলা কিউআর ব্যবস্থায় মাসিক ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত লেনদেনের ক্ষেত্রে জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি ও পাসপোর্ট সাইজের ছবি প্রয়োজন হবে। এর বেশি লেনদেনের ক্ষেত্রে টিন সার্টিফিকেট ও টিন রিটার্ন স্লিপও জমা দিতে হবে।

অনুষ্ঠানে আরও জানানো হয়, প্রযুক্তিনির্ভর উদ্যোক্তা ও স্টার্টআপে বিনিয়োগ বাড়াতে ‘বাংলাদেশ স্টার্টআপ ইনভেস্টমেন্ট কোম্পানি’ নামে নতুন ভেঞ্চার ক্যাপিটাল প্ল্যাটফর্ম চালু হয়েছে। ৩৯টি বাণিজ্যিক ব্যাংকের অংশগ্রহণে ৪২৫ কোটি টাকার মূলধন নিয়ে গঠিত এই তহবিল ব্যাংকগুলোর মুনাফার এক শতাংশ থেকে তৈরি করা হয়েছে।

অনুষ্ঠানে বিএসআইসি চেয়ারম্যান বলেন, শুধু প্রযুক্তিভিত্তিক স্টার্টআপ নয়, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তারাও এই ভেঞ্চার ক্যাপিটাল সুবিধার আওতায় আসবেন।

এদিকে কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, ব্যাংকগুলোর ৪২৫ কোটি টাকার বিনিয়োগের পাশাপাশি ভেঞ্চার ক্যাপিটাল খাতে অতিরিক্ত ৫০০ কোটি টাকার পুনঃঅর্থায়ন সুবিধা দেবে । সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ডিজিটাল পেমেন্ট অবকাঠামো ও স্টার্টআপ অর্থায়নের এই সমন্বিত উদ্যোগ দেশের ক্যাশলেস অর্থনীতি গঠনে নতুন গতি আনবে।

ডিবিটেক/এনএ/ইকে