এআই নিজেই তৈরি হতে শুরু করলে কী হবে?

এআই নিজেই তৈরি হতে শুরু করলে কী হবে?
১৭ মে, ২০২৬ ০১:৫০  

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই যখন মানুষের কোনো সাহায্য ছাড়াই নিজেকে নিজে আরও উন্নত ও শক্তিশালী করে তুলতে শুরু করবে, তখন প্রযুক্তির দুনিয়ায় কী ঘটবে—তা নিয়ে সিলিকন ভ্যালিতে শুরু হয়েছে নতুন তোলপাড়। এই লক্ষ্যকে সামনে রেখে বিপুল বিনিয়োগ ও শীর্ষ গবেষকদের নিয়ে সম্প্রতি আত্মপ্রকাশ করেছে সান ফ্রান্সিসকো-ভিত্তিক নতুন স্টার্টআপ ‘রিকার্সিভ সুপারইন্টেলিজেন্স’। 

গত বুধবার প্রায় ৬৫ কোটি (৬৫০ মিলিয়ন) ডলারের বিশাল তহবিল নিয়ে বাজারে আসা এই প্রতিষ্ঠানটির মূল লক্ষ্য হলো এমন একটি এআই মডেল তৈরি করা, যা মানুষের হস্তক্ষেপ ছাড়াই নিজের দুর্বলতা নিজে চিহ্নিত করে স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিজের নকশা বা আর্কিটেকচার পুনর্নির্মাণ করতে পারবে। প্রযুক্তিবিশ্বে একে বলা হচ্ছে ‘রিকার্সিভ সেলফ-ইম্প্রুভমেন্ট’ (আরএসআই), যা সমসাময়িক এআই গবেষণার চূড়ান্ত লক্ষ্য বা ‘হোলি গ্রেইল’ হিসেবে পরিচিত।

খাত সংশ্লিষ্ট জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্ম ‘ইউ ডটকম’-এর প্রতিষ্ঠাতা এবং এআই জগতের সুপরিচিত ব্যক্তিত্ব রিচার্ড সোচার এই নতুন উদ্যোগের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তার সাথে যুক্ত হয়েছেন গুগলের ‘ডিপমাইন্ড’ এবং ‘ওপেনএআই’-এর সাবেক শীর্ষ গবেষকেরা। 

এক সাক্ষাৎকারে সোচার জানান, সাধারণ এআই-কে দিয়ে অন্য কোনো কাজ বা কোডিং উন্নত করার নাম স্বয়ংক্রিয় গবেষণা হতে পারে, কিন্তু তা রিকার্সিভ সেলফ-ইম্প্রুভমেন্ট নয়। তাদের লক্ষ্য হলো এআই-এর চিন্তাভাবনা, বাস্তবায়ন এবং গবেষণার ধারণাগুলোর সত্যতা যাচাইয়ের পুরো প্রক্রিয়াটিকে সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয় করে তোলা। এর ফলে এআই নিজের সীমাবদ্ধতা সম্পর্কে এক ধরনের ‘আত্মসচেতনতা’ তৈরি করবে এবং প্রতিনিয়ত নিজেকে আগের চেয়ে বেশি বুদ্ধিমান করে তুলবে।

এই পদ্ধতিতে গবেষণাকে এগিয়ে নিতে তারা ‘ওপেন-এন্ডেডনেস’ বা উন্মুক্ত বিবর্তনের ধারণাকে কাজে লাগাচ্ছেন, যা অনেকটা জৈবিক বিবর্তনের মতো কাজ করে। যেমন সাইবার নিরাপত্তার ক্ষেত্রে ‘রেড টিমিং’ বা এআই-এর ত্রুটি খোঁজার জন্য এখন মানুষ দীর্ঘ সময় ব্যয় করে। কিন্তু এই নতুন পদ্ধতিতে একটি এআই মডেল আরেকটি এআই মডেলকে প্রতিনিয়ত আক্রমণ করবে এবং কোটি কোটি বার চেষ্টার মাধ্যমে প্রথম মডেলটির সমস্ত ত্রুটি দূর করে তাকে সম্পূর্ণ নিরাপদ ও নিখুঁত করে তুলবে। প্রযুক্তিবিদদের ভাষায় একে বলা হচ্ছে ‘রেইনবো টিমিং’। 

সোচার মনে করেন, বুদ্ধিমত্তার কোনো শেষ সীমা নেই এবং গণিত বা প্রোগ্রামিংয়ের মতো জটিল বিষয়ে এই এআই মডেলগুলো মানুষের চেয়ে বহুগুণ দ্রুত পারদর্শিতা দেখাতে পারবে।

বিশ্লেষকদের মতে, রিকার্সিভ সেলফ-ইম্প্রুভমেন্টের এই যুগ যদি সত্যিই সফল হয়, তবে ভবিষ্যতে যেকোনো সমস্যা সমাধানের জন্য ‘কম্পিউট পাওয়ার’ বা প্রসেসিং ক্ষমতাই হবে একমাত্র প্রধান সম্পদ। তখন মানবসভ্যতার সামনে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হবে—ক্যান্সার নিরাময় নাকি কোনো মারাত্মক ভাইরাসের প্রতিষেধক তৈরি, কোন সমস্যার পেছনে পৃথিবী কতটা কম্পিউট বা প্রসেসিং শক্তি ব্যয় করতে চায়। 

কেবল গবেষণাগারেই সীমাবদ্ধ না থেকে আগামী কয়েক প্রান্তিকের মধ্যেই সাধারণ মানুষের ব্যবহারের উপযোগী করে তাদের প্রথম বাণিজ্যিক পণ্য বাজারে আনা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেছে রিকার্সিভ সুপারইন্টেলিজেন্স।

ডিবিটেক/বিএমটি   ।   সূত্র: টেকক্রাঞ্চ