নকিয়া-বিপিসিএস চুক্তি এসলটিই চুক্তি সই
মার্চে বাজারে আসতে চায় দেশের প্রথম বেসরকারি সাবমেরিন ক্যাবল কোম্পানি
বিতর্ক এড়িয়ে প্রথম বেসরকারি সাবমেরিন কোম্পানি হতে ফিনল্যান্ডের কোম্পানি নকিয়ার সাবমেরিন লাইন টার্মিনাল ইক্যুইপমন্ট কিনতে চুক্তিবদ্ধ হলো বাংলাদেশ প্রাইভেট ক্যাবল সিস্টেম (বিপিসিএস) কনসোর্টিয়াম।
১৪ ডিসেম্বর, রবিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর একটি হোটেলে কনসোর্টিয়াম সদস্য মেটাকোর সাবকম, সামিট কমিউনিকেশন ও সিডিনেট কমিউনিকেশন নিয়ে এই চুক্তিটি সম্পাদিত হয়।
নকিয়া ইন্ডিয়ার হেড অব সেলস প্রশান্ত মালকানি ও ও নকিয়ার সিনিয়র সেলস অ্যাকাউন্ট ডিরেক্টর সুমন প্রাসাদ এবং সামিট কমিউনিকেশনের সিইও আরিফ আল ইসলাম, সিডিনেট সিইও মশিউর রহমান ও মেটাকোর সাবকম সিইও আমিনুল হাকিম চুক্তিতে সই করেন।
এসময় ইউরোপীয় ইউনিউনের বাংলাদেশে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার, ভারতে নিযুক্ত ফিনল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত ড: আন্তে হারলেভি, জাপানের রাষ্ট্রদূত দায়সাকু তুসকাও প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে জানানো হয় ৫০ টিবিপিএস সক্ষমতার এই ক্যাবলটি যুক্ত হবে সিঙ্গাপুর-মায়ানমার হয়ে। এর জীবনকাল ২০ বছর।
অনুষ্ঠানে আমিনুল হাকিম বলেন, সাবমেরিন ক্যাবল শুধু সমুদ্র তলদেশের একটি কানেক্টিভিটি নয়। এটি সার্বভৌমত্বের প্রতীক। নতুন সেবাদাতা আসলে ভিষ্যত ব্যান্ডউইথ চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি বাজার প্রতিযোগিতায় মূল্যও কমবে।
সিডিনেট সিইও মশিউর রহমান একটি উপস্থাপনা পেশ করে জানান, ৬ শতাধিক প্রতিষ্ঠান ১ লাখ ৫০ হাজার লাইনের মাধ্যমে ১৮০০টিবিপিএস সংযোগ দিচ্ছে। সিঙ্গাপুর-বাংলাদেশ তিনটি ক্যবলে সংযুক্ত। তবে এবছরই শেষ হলেও আরও তিন বছর চলতে পারবে সিমিউই ৪। আর সিমিউই ৫ ক্যাপসিটিটর ২.৫ ব্যবহৃত হয়েগেছে। ফলে নতুন সামেরিন ক্যাবলের ব্যাপক চাহিদা রয়েছ। এই সেবা চালু করতে পারলে আর প্রতিবেশি দেশ থেকে ব্যন্ড উইথ আমদানি করতে হবে না।
বাংলাদেশ সাবমেরিন ক্যাবল কোম্পানির সাবেক এই ব্যবস্থপনা পরিচালক বলেন, নকিয়ার প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে কম বিদ্যুৎ খরচে ও স্বল্প জায়গায় ইকুইপমেন্ট ব্যবহার করা যায় বিধায় ডেটা সেন্টারের জায়গা কম লাগে। ফলে খুব সহজে নেটওয়ার্ক ম্যানেজ করা যাবে এবং সার্বিক ব্যয় হ্রাস পাবে। ফলে ভবিষ্যতে ব্যান্ডউইথের মূল্য কমে গ্রাহক পর্যায়ে ইন্টারনেট খরচ কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।
পরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে কনসোর্টিয়ামের অন্যতম সদস্য মেটাকোর সাবকম সিইও ও আইএসপিএবি সভাপতি আমুনুল হাকিম বলেন, আমরা ২৫ বছরের জন্য লাইসেন্স পেয়েছি। ক্যবলের আয়ুস্কাল ২০ বছর। মার্চ- এপ্রিল নাগাদ আমরা সেবা চালু করতে চাই। এই লাইন চালু হলে ব্যান্ডউইথের দাম কমবে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত।
তিনি জানান, ক্যাবলের দুই প্রান্তেই নকিয়ার এসএলটিই ব্যবহৃত হচ্ছে যা উচ্চমানের সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে বলে দাবি করা হয়েছে। সিঙ্গাপুর–কক্সবাজার রুটের নতুন এই ৩ পেয়ার ক্যাবল চালু হলে ভারতের ওপর নির্ভরতা কমবে এবং দেশ ব্যান্ডউইথে স্বয়ংসম্পূর্ণতার দিকে এগিয়ে যাবে।
চুক্তি অনুষ্ঠানে নকিয়ার পক্ষ থেকে আরও উপস্থিত ছিলেন নকিয়ার হেড অব এমার্জিং বিজনেস জিবিতেশ নায়াল, নকিয়ার মার্কেটিং ম্যানেজার রাহুল দেরওয়ানি, নকিয়ার অ্যাকাউন্ট ম্যানেজার মোহাম্মদ আর. ইসলাম ও নকিয়া বাংলাদেশের হেড অব সেলস ক্রিস্টোফার স্যামুয়েল।
ডিবিটেক/আইএইচ/ওআর



