রিজার্ভ চুরির ঘটনা পর্যালোচনা কমিটির মেয়াদ বাড়লো ২ মাস

রিজার্ভ চুরির ঘটনা পর্যালোচনা কমিটির মেয়াদ বাড়লো ২ মাস
১০ নভেম্বর, ২০২৫ ১০:৪৩  

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির ঘটনা সংক্রান্ত বিষয়ের পর্যালোচনা কমিটির সুপারিশ দেওয়ার সময় আরও দুই মাস বাড়লো। সুপারিশ দেওয়ার সময় আগামী ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়িয়ে ৯ নভেম্বর, রবিবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।

এর আগে ১১ মার্চ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির ঘটনা সংক্রান্ত বিষয় পর্যালোচনা করতে আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুলকে সভাপতি করে হয় সদস্যের উচ্চ পর্যায়ের একটি কমিটি করে সরকার। কমিটিতে তিন মাসের মধ্যে সুপারিশ দিতে বলা হয়। পরে মেয়াদ দুই দফা বাড়ানো হয়। সুপারিশ দেওয়ার সেই সময় শেষ হয় গত ৩১ অক্টোবর।

এ কমিটিতে সদস্য হিসেবে রয়েছেন- সড়ক পরিবহন ও সেতু এবং বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান; ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের পরিচালক আলী আশফাক এবং রূপালী ব্যাংকের চেয়ারম্যান মো. নজরুল হুদা।

কমিটিকে ২০১৬ সালে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির ঘটনা তদন্তকাজের অগ্রগতি ও এ সংক্রান্ত গৃহীত সরকারি অন্যান্য পদক্ষেপ পর্যালোচনা, এ ঘটনার দায়-দায়িত্ব নির্ধারণ এবং এর পুনরাবৃত্তি রোধে প্রয়োজনীয় সুপারিশ দিতে বলা হয়েছে।

২০১৬ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে ৮ কোটি ১০ লাখ ডলার চুরি হয়। অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিরা সুইফট পেমেন্ট পদ্ধতিতে প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউইয়র্কে রাখা বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে এই বিপুল অর্থ হাতিয়ে নেন।

এ ঘটনায় নিউ ইয়র্কের আদালতের পাশাপাশি ঢাকার একটি আদালতেও মামলা চলমান রয়েছে। ওই মামলায় গত ২১ সেপ্টেম্বর ফিলিপিন্সের রিজল কমার্শিয়াল ব্যাংকের (আরসিবিসি) ৮ কোটি ১০ লাখ ডলার বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দিয়েছে ঢাকার আদালত।

নিউ ইয়র্কের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকে থাকা বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব থেকে স্থানান্তরিত অর্থ পাঠানো হয়েছিল ফিলিপিন্সে তিনটি ক্যাসিনোতে।

এর মধ্যে একটি ক্যাসিনোর মালিকের কাছ থেকে দেড় কোটি ডলার উদ্ধার করে ফিলিপিন্স সরকার বাংলাদেশ সরকারকে বুঝিয়ে দিলেও বাকি ৬ কোটি ৬৪ লাখ ডলার আর পাওয়া যায়নি।

ওই বছরের ১৫ মার্চ রাজধানীর মতিঝিল থানায় মামলা করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের অ্যাকাউন্টস অ্যান্ড বাজেটিং বিভাগের যুগ্ম পরিচালক জুবায়ের বিন হুদা; অর্থপাচার প্রতিরোধ আইনের ওই মামলায় সরাসরি কাউকে আসামি করা হয়নি।

মামলাটি তদন্ত করছে সিআইডি। কিন্তু দফায় দফায় সময় নিয়ে তদন্ত প্রতিবেদন দিতে পারেনি সংস্থাটি।

ডিবিটেক/বিএন/ইক