তাওহিদ হৃদয়ের অবিশ্বাস্য ডাবল সেঞ্চুরি
এক প্রান্তে একের পর এক উইকেট পড়ছে, দলের সামনে বড় ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ার শঙ্কা। সেখান থেকে একাই লড়াইয়ের চিত্র বদলে দিলেন তাওহিদ হৃদয়। টেস্ট ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরিকে রূপ দিলেন ডাবল সেঞ্চুরিতে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের স্পিনার জোমেল ওয়ারিকনের বল মিড-অনে ঠেলে দুই রান পূর্ণ করতেই ২০০ ছুঁয়ে ফেললেন বাংলাদেশের এই ব্যাটার। ব্যাট উঁচিয়ে উদ্যাপনে মাতলেন, সিলেট আন্তর্জাতিক […] The post তাওহিদ হৃদয়ের অবিশ্বাস্য ডাবল সেঞ্চুরি first appeared on Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment.

এক প্রান্তে একের পর এক উইকেট পড়ছে, দলের সামনে বড় ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ার শঙ্কা। সেখান থেকে একাই লড়াইয়ের চিত্র বদলে দিলেন তাওহিদ হৃদয়। টেস্ট ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরিকে রূপ দিলেন ডাবল সেঞ্চুরিতে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের স্পিনার জোমেল ওয়ারিকনের বল মিড-অনে ঠেলে দুই রান পূর্ণ করতেই ২০০ ছুঁয়ে ফেললেন বাংলাদেশের এই ব্যাটার। ব্যাট উঁচিয়ে উদ্যাপনে মাতলেন, সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামও ফেটে পড়ল উল্লাসে।
সিলেটে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে বাংলাদেশের প্রথম ইনিংসে হৃদয়ের এই দ্বিশতক যেন অবিশ্বাস্য এক প্রত্যাবর্তনের গল্প। প্রথম ইনিংসে ক্যারিবীয়রা ৩৫৬ রান করার পর ব্যাটিংয়ে নেমে শুরু থেকেই চাপে পড়ে বাংলাদেশ। তৃতীয় দিনের প্রথম সেশনে চার উইকেট হারিয়ে দলীয় সংগ্রহ দাঁড়ায় ১৮৪ রানে ৭ উইকেট। সাদমান ইসলাম চোটের কারণে ব্যাট করতে না পারায় কার্যত শেষ স্বীকৃত ব্যাটার ছিলেন হৃদয়। সেখান থেকেই তাইজুল ইসলামকে সঙ্গে নিয়ে শুরু করেন প্রতিরোধ।
এর আগে মুশফিকুর রহিমের সঙ্গে ৭৮ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়েছিলেন হৃদয়। মুশফিক ৩৪ রানে ফিরলেও এক প্রান্তে অবিচল ছিলেন তিনি। লিটন দাস, মেহেদী হাসান মিরাজ ও হাসান মাহমুদ দ্রুত ফিরে গেলে আরও কঠিন হয়ে পড়ে পরিস্থিতি। কিন্তু চাপের মুখে ভেঙে পড়েননি হৃদয়। প্রথমে ধৈর্য ধরে উইকেটে টিকে থেকে পরে সুযোগ বুঝে আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠেন।
১৭১ বলে প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরি পূর্ণ করেছিলেন হৃদয়। এরপর ব্যাটিং করেছেন আক্রমণাত্মক। তাইজুলকে নিয়ে অষ্টম উইকেটে গড়েন ১১৭ রানের জুটি। সিলেটের মাঠে টেস্টে অষ্টম উইকেটে এটিই সর্বোচ্চ জুটি। তাইজুলের অবদান ছিল গুরুত্বপূর্ণ, তবে আক্রমণের মূল দায়িত্ব নিজের কাঁধেই তুলে নেন হৃদয়। চার-ছক্কার ঝড় তুলে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বোলারদের ওপর চাপ ফিরিয়ে দেন তিনি।
দেড়শ রান পূর্ণ করেন ২৩৫ বলে। এরপর আরও গতি বাড়িয়ে ২৮৯ বলে পৌঁছে যান ১৯০ রানে। তখন তাঁর নামের পাশে ১৮টি চার ও ৭টি ছক্কা। ৮ উইকেটে ৩১৮ রান তুলে চা বিরতিতে যায় বাংলাদেশ। চা বিরতি থেকে ফিরে শেষ পর্যন্ত ৩০৪ বলে ডাবল সেঞ্চুরির মাইলফলক স্পর্শ করেন হৃদয়।
বাংলাদেশের হয়ে টেস্টে প্রথম সেঞ্চুরিকেই ডাবল সেঞ্চুরিতে রূপ দেওয়া প্রথম ব্যাটার তিনি। দেশের হয়ে টেস্টে দ্বিশতক করা চতুর্থ ব্যাটারও এখন এই ডানহাতি। এর আগে এই কীর্তি ছিল মুশফিকুর রহিম, তামিম ইকবাল ও সাকিব আল হাসানের।
বাংলাদেশের টেস্ট ইতিহাসে প্রথম সেঞ্চুরিতে সর্বোচ্চ রানের রেকর্ডও নিজের করে নিয়েছেন হৃদয়। ২০১৩ সালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে মুমিনুল হকের ১৮১ রানের ইনিংসকে ছাড়িয়ে গেছেন তিনি। সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টেস্টে প্রথম ডাবল সেঞ্চুরির মালিকও হলেন এই ব্যাটার। বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ইতিহাসে বাংলাদেশের প্রথম দ্বিশতকও এটি।
ব্যক্তিগত রেকর্ডের পাশাপাশি ছক্কা হাঁকানোর ক্ষেত্রেও নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছেন হৃদয়। এক ইনিংসে আটটি ছক্কা মেরে বাংলাদেশের টেস্ট ব্যাটারদের মধ্যে সর্বোচ্চ ছক্কার রেকর্ড গড়েছেন তিনি। এত দিন এক ইনিংসে সাতটি ছক্কা মেরে এই রেকর্ডের মালিক ছিলেন তামিম ইকবাল।
The post তাওহিদ হৃদয়ের অবিশ্বাস্য ডাবল সেঞ্চুরি first appeared on Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment.





