সংস্কার সন্তুষ্টিতে শীর্ষে আইসিটি ও টেলিকম খাত
সরকারি ও বেসরকারি দুই জরিপেই এগিয়ে থাকলো জুলাই অভ্যুত্থান পরবর্তী দেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাত। জুলাই গণ-অভ্যুত্থান–পরবর্তী অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কার কার্যক্রম নিয়ে আপনি কতটা সন্তুষ্ট? এমন প্রশ্নের জবাবে খাত ভিত্তিক সংস্কারে ৫০.৪ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করেন অন্তর্বর্তীকালীণ সরকার সফল। ‘গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক-রাজনৈতিক বিষয়ে জাতীয় জনমত জরিপ ২০২৫’ করে এমন তথ্যই প্রকাশ করেছে দৈনিক প্রথম আলো।
জরিপ বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব বলেছেন, জরিপ মতে ৩৮ শতাংশ মানুষকে আমি সন্তুষ্ট করতে পারিনি। তাদের জন্য আমাদের সৎ এবং আন্তরিক প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।
অবশ্য জরিপে এক-তৃতীয়াংশের বেশি মনে করেন, ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সহযোগীরাই সংস্কারে বাধা দিয়েছে।
এই জরিপে দেশের ৫টি নগর এবং ৫টি গ্রাম বা আধা শহর অঞ্চলের প্রাপ্তবয়স্ক (১৮-৫৫ বছর) ১ হাজার ৩৪২ জনের মতামত নেওয়া হয়। জরিপে অংশ নেওয়া মানুষেরা বিভিন্ন আয়, শ্রেণি ও পেশার। গত ২১ থেকে ২৮ অক্টোবর জরিপের তথ্য সংগ্রহ করা হয়। জরিপকারী প্রতিষ্ঠান বলেছে, জরিপের ফলাফলের নির্ভরযোগ্যতার (কনফিডেন্স লেভেল) মাত্রা ৯৯ শতাংশ।
অপরদিকে রাজধানীতে রাষ্ট্রায়ত্ত গবেষণা সংস্থা বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) বার্ষিক সম্মেলনের শেষ অধিবেশনে প্রকাশিত জরিপে দেখে গেছে, দেশের স্নাতক ডিগ্রিধারীর ৬১ শতাংশেরই অনার্স বা মাস্টার্স পর্যায়ে কাজের কোনো পূর্ব অভিজ্ঞতা নেই। অভিজ্ঞতা ছিল ৩৭ শতাংশের। এমনকি তাদের ৫৫ শতাংশের আইসিটি (তথ্যপ্রযুক্তি) নিয়ে কোনো প্রশিক্ষণ ছিল না।
গবেষণা প্রতিবেদনটির নীতি সুপারিশে বলা হয়, এসব স্নাতক ডিগ্রিধারী চাকরির পরীক্ষায় ডাক পেলেও পূর্ব অভিজ্ঞতা না থাকায় তারা কাঙ্ক্ষিত চাকরি পাচ্ছেন না। তাই জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন পরিচালিত দুই হাজারের বেশি কলেজের সঙ্গে শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সংযোগ বৃদ্ধির পরামর্শ দেওয়া হয়।
অথচ এরই মধ্যে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের ব্যবস্থাপনায় এবং এটুআই ও ইউনিসেফের কারিগরি সহায়তায় ৪ ক্রেডিটের আইটি কোর্স চালু করেছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়। এর অধীনে রয়েছে ৩ ক্রেডিট থিওরি এবং ১ ক্রেডিট প্র্যাকটিক্যাল। এরই অংশ হিসেবে গত ১২ নভেম্বর ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর ও সময়োপযোগী করতে ৯০ জন আইসিটি শিক্ষককে কোর ট্রেইনার হিসেবে প্রশিক্ষণ দিয়েছে। ২০২৬ সালের মধ্যে অন্তত ১২ হাজার কলেজশিক্ষককে আইসিটি বিষয়ে প্রশিক্ষণের কাজ চলমান রয়েছে।
ডিবিটেক/আইএইচ







