৩৫৫ প্রকল্পে স্বীকৃতি ৪৪ উদ্ভাবনের

৯ উদ্ভাবন পেল বিন চ্যাম্পিয়ন স্বীকৃতি

  • ৩৫৫ প্রকল্প থেকে ৯টি চ্যাম্পিয়ন, ১০টি উইনার, ২৫টি মেরিট
  • চ্যাম্পিয়ন ও উইনাররা অ্যাপিকটা অ্যাওয়ার্ডস ২০২৬-এ বাংলাদেশকে প্রতিনিধিত্ব করবে
  • চার মানদণ্ডে ৪০ সদস্যের বিচারক প্যানেল প্রকল্পগুলো মূল্যায়ন করেছে

৯ উদ্ভাবন পেল বিন চ্যাম্পিয়ন স্বীকৃতি
৩ অক্টোবর, ২০২৬ ২৩:১৯  

দেশের প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন খাতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ডিজিটাল স্বাস্থ্যসেবা এবং প্রতিবন্ধী সহায়ক প্রযুক্তির নতুন সমাধানকে সামনে এনে ৩৫৫টি প্রকল্পের মধ্যে ৪৪টি উদ্ভাবনকে স্বীকৃতি দিয়েছে বাংলাদেশ আইসিটি অ্যান্ড ইনোভেশন নেটওয়ার্ক (বিন)। এবারের আয়োজনে নয়টি উদ্ভাবন চ্যাম্পিয়ন, ১০টি উইনার এবং ২৫টি মেরিট পুরস্কার পেয়েছে। কম খরচের ব্রেইল প্রিন্টার, এআইভিত্তিক প্রযুক্তি এবং সংযুক্ত ডিজিটাল স্বাস্থ্যসেবার মতো উদ্ভাবন বিশেষভাবে জায়গা করে নিয়েছে।

চ্যাম্পিয়ন ও উইনার নির্বাচিত উদ্ভাবনগুলো এশিয়া প্যাসিফিক আইসিটি অ্যালায়েন্স (অ্যাপিকটা) অ্যাওয়ার্ডস ২০২৬-এ বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্বের জন্য মনোনয়ন পাবে। মেরিট পুরস্কার পাওয়া ২৫টি উদ্ভাবনের মধ্যে প্রতিষ্ঠান শ্রেণিতে পাঁচটি, ব্যক্তিগত বা দলীয় শ্রেণিতে তিনটি এবং শিক্ষার্থী শ্রেণিতে ১৭টি উদ্ভাবন রয়েছে।

প্রতিষ্ঠান শ্রেণিতে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে সক্রিয় টেকনোলজিস লিমিটেডের ‘সক্রিয় ডিএমএস’, টেটন প্রাইভেট লিমিটেডের ‘মাই ইসিজিএআই’ এবং গ্রামীণ হেলথটেক লিমিটেডের ‘দ্য সুখী ওয়ে: কানেক্টেড কেয়ার থ্রু ইন্টিগ্রেটেড ডিজিটাল সার্ভিসেস’।

পুরস্কার জয়ের পর ডিজিবাংলার এক প্রশ্নের জবাবে সক্রিয় ডিএমএসের প্রতিষ্ঠাতা মুবির চৌধুরী বলেন, Sokrio DMS মূলত sales & distribution-এর পুরো field operation-কে digitize করে। এতে sales team-এর market visit, outlet coverage, order/invoice, productivity, route adherence এবং distributor/retailer performance এক জায়গা থেকে monitor ও analyse করার সুযোগ রয়েছে।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, এর মাধ্যমে শুধু তথ্য সংগ্রহ নয়, কোথায় performance gap, revenue leakage বা growth opportunity রয়েছে, সেটিও identify করা যায় এবং actionable decision নেওয়া সম্ভব হয়। AI-এর ক্ষেত্রে তারা আরও এক ধাপ এগোচ্ছেন বলেও জানান তিনি।

মুবির চৌধুরী বলেন, তাদের লক্ষ্য শুধু dashboard বা descriptive analytics দেওয়া নয়। AI ব্যবহার করে sales team-কে কোন outlet-এ কী opportunity আছে, কোন পণ্য বা combination-এর সম্ভাবনা বেশি, কোথায় inventory বা sales-এর সমস্যা তৈরি হতে পারে, কোন field behaviour sales outcome-এ প্রভাব ফেলছে এবং management-এর কোথায় intervention প্রয়োজন—এসব identify, predict এবং recommend করার দিকে এগোচ্ছেন তারা।

অর্থাৎ, শুধু ‘কি হয়েছে’ দেখানো থেকে ‘কেন হয়েছে, সামনে কী হতে পারে এবং এখন কী করা উচিত’—এই পুরো decision-making process-কে প্রযুক্তির মাধ্যমে সহায়তা করাই তাদের লক্ষ্য।

শিক্ষার্থী শ্রেণিতে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘এজেন্টআইএএম’, ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশের ‘ক্রনিক’, চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘সিঙ্ক ভি-১: ব্রেইল এমবসার’, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘আরবর’ এবং বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আব্দুর রউফ পাবলিক কলেজের ‘ব্রেইলব্রিজ’।

ব্যক্তিগত বা দলীয় শ্রেণিতে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ‘বিন্দো’।

এবারের আয়োজনে ১০টি উদ্ভাবন উইনার নির্বাচিত হয়েছে। এর মধ্যে প্রতিষ্ঠান শ্রেণিতে তিনটি, ব্যক্তিগত বা দলীয় শ্রেণিতে একটি এবং শিক্ষার্থী শ্রেণিতে ছয়টি উদ্ভাবন রয়েছে।

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘সিঙ্ক ভি-১: ব্রেইল এমবসার’ প্রকল্পের দলনেতা সৌরভ তরফদার বলেন, ব্রেইল প্রিন্টারের দাম প্রায় সাত লাখ টাকা। এত বেশি দামের কারণে বাংলাদেশে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের পড়ালেখায় সমস্যা হচ্ছে। সেই বিষয়টি বিবেচনা করেই তারা কম খরচে মাত্র ২৮ হাজার টাকার মধ্যে একটি ব্রেইল প্রিন্টার তৈরি করেছেন। তহবিল পেলে পণ্যটি আরও বড় পরিসরে তৈরি করা সম্ভব হবে বলেও জানান তিনি।

অনুষ্ঠানটি আয়োজন করে বাংলাদেশ আইসিটি অ্যান্ড ইনোভেশন নেটওয়ার্ক (বিন)। এর পৃষ্ঠপোষক ইস্টার্ন ব্যাংক পিএলসি (ইবিএল), অনলাইন মার্কেটপ্লেস কার্টআপ, এআইইউবি, মিউচ্যুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক পিএলসি, গ্রামীণ হেলথটেক লিমিটেড, সুপার স্টার গ্রুপ ও ওয়ালটন। নলেজ পার্টনার ছিল এআইইউবি, ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি ও ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটি। স্ট্র্যাটেজিক পার্টনার ছিল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়।

বিনের চেয়ারম্যান সৈয়দ আলমাস কবীর জানান, দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং ব্যক্তিগত বা দলীয় পর্যায় থেকে এ বছর মোট ৩৫৫টি প্রকল্প জমা পড়ে। প্রাথমিক যাচাই শেষে ১১৮টি প্রকল্প চূড়ান্ত মূল্যায়নের জন্য নির্বাচিত হয়। ১৭ সেপ্টেম্বর আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশে (এআইইউবি) প্রতিষ্ঠান এবং ব্যক্তিগত বা দলীয় প্রকল্পগুলোর মূল্যায়ন হয়। ১৯ সেপ্টেম্বর ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটিতে শিক্ষার্থী শ্রেণির প্রকল্পগুলোর মূল্যায়ন অনুষ্ঠিত হয়।

‘উদ্ভাবনকে স্বীকৃতি, রূপান্তরকে অনুপ্রেরণা’ প্রতিপাদ্যে ৩ অক্টোবর, শনিবার ঢাকার ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয় ‘বাংলাদেশ আইসিটি অ্যান্ড ইনোভেশন অ্যাওয়ার্ডস ২০২৬’। আয়োজকেরা জানান, বিজয়ীদের ক্রেস্ট, সনদ ও উপহার ভাউচার দেওয়া হয়েছে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম। বিশেষ অতিথি ছিলেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি। সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আনোয়ার হোসাইন এবং বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) মো. ইমদাদ উল বারী।

সরকার, ব্যাংক ও করপোরেট খাতের নির্বাহী, শিক্ষাবিদ, চেম্বার প্রতিনিধি, স্টার্টআপ–বিশেষজ্ঞ ও প্রযুক্তি সাংবাদিকদের সমন্বয়ে গঠিত ৪০ সদস্যের বিচারক প্যানেল প্রকল্পগুলো মূল্যায়ন করেন। উদ্ভাবনের স্বকীয়তা, জন–উপযোগিতা, বাণিজ্যিক সম্ভাবনা ও প্রযুক্তির মান—এই চার মানদণ্ডে ডিজিটাল জাজিং পোর্টালের মাধ্যমে মূল্যায়ন করা হয়।
//ডিবিটেক/ডিপিএ/এসএমপি/বিপিসি//