রাশিয়ার কার্গো বিমান ঢাকায় আসার কথা ছিল বৃহস্পতিবার

এয়ার স্পেস ক্লিয়ার না থাকায় আসেনি রূপপুর-২-এর ইউরেনিয়াম

  • রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের জ্বালানি ইউরেনিয়ামের চালান বৃহস্পতিবার ঢাকায় পৌঁছানোর কথা থাকলেও আসেনি
  • শাহজালাল বিমানবন্দরে গ্রহণের সব প্রস্তুতি থাকলেও এয়ার স্পেস ক্লিয়ার না থাকায় রাশিয়ার কার্গো বিমানটি আসতে পারেনি
  • দ্বিতীয় ইউনিটটি ১২০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার ভিভিইআর-১২০০ প্রযুক্তির রিঅ্যাক্টর; বাণিজ্যিক উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ২০২৭

এয়ার স্পেস ক্লিয়ার না থাকায় আসেনি রূপপুর-২-এর ইউরেনিয়াম
২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১১:০০  

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে চালান গ্রহণের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন থাকলেও রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের জ্বালানি ইউরেনিয়ামের চালানের ইউরেনিয়ামবাহী কার্গো বিমানটি রাশিয়া থেকে বাংলাদেশে পৌঁছেনি। 

২৪ সেপ্টেম্বর,  বৃহস্পতিবার, ঢাকায় পৌঁছানোর কথা থাকলেও তা আসেনি বলে জানিয়েছেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের একাধিক কর্মকর্তা। 

 তবে, তাদের পক্ষ থেকে বিমানবন্দরে ইউরেনিয়াম গ্রহণের সব প্রস্তুতি ছিল বলে গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করা হয়। না আসার কারণ বিষয়ে রাশিয়া থেকে কার্গো বিমান না আসায় রূপপুর প্রকল্পে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পরমাণু শক্তি সংস্থা রোসাটমের লিয়াজোঁ কর্মকর্তার সঙ্গে গণমাধ্যমের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করার হলে, সংশ্লিষ্ট বিমানের জন্য এয়ার স্পেস ক্লিয়ারেন্স পাওয়া যায়নি বলে তথ্য মিলেছে। রোসাটম বিষয়ে অফিসিয়ালি বাংলাদেশকে কিছুই জানায়নি বলে নিশ্চিত ক

তবে বাংলাদেশের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি কেন পাওয়া যায়নি, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা বিস্তারিত কোনো তথ্য দিতে পারেননি। রোসাটমের একজন প্রতিনিধির কাছেও কারণ জানতে যোগাযোগ করা হয়েছে। তবে প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত কোনো জবাব পাওয়া যায়নি।

রূপপুরের দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য নির্ধারিত এই জ্বালানি চালান না আসায় পরবর্তী পরিবহন ও জ্বালানি সরবরাহের সময়সূচি কী হবে, সে বিষয়ে এখনো নতুন কোনো সময়সূচি প্রকাশ্যে আসেনি।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে দুটি ভিভিইআর-১২০০ রিঅ্যাক্টর নির্মাণ করা হচ্ছে। প্রতিটি ইউনিটের মোট উৎপাদন ক্ষমতা ১২০০ মেগাওয়াট এবং দুটি ইউনিট মিলে কেন্দ্রটির মোট স্থাপিত ক্ষমতা ২৪০০ মেগাওয়াট। আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার তথ্যেও দুটি ইউনিটকে ভিভিইআর-১২০০ প্রযুক্তির রিঅ্যাক্টর হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিশ্ব পরমাণু সংস্থার সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, রূপপুরের দ্বিতীয় ইউনিটের নির্মাণ শুরু হয় ২০১৮ সালের জুলাইয়ে। ইউনিট-২-এর বাণিজ্যিক কার্যক্রম ২০২৭ সালে শুরু হওয়ার লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে।

এর আগে ২০২৩ সালের অক্টোবরে রূপপুরের প্রথম ইউনিটের জন্য রাশিয়া থেকে পারমাণবিক জ্বালানির প্রথম কোর বাংলাদেশে পৌঁছায়। আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার প্রকাশনায় বলা হয়েছে, প্রথম ইউনিটের প্রথম কোরে ১৬৮টি ফুয়েল অ্যাসেম্বলি এবং প্রায় ৭৯ টন ইউরেনিয়াম ছিল। দ্বিতীয় ইউনিটের কমিশনিংয়ের সময়ও একই ধরনের অগ্রিম জ্বালানি সরবরাহের ব্যবস্থা থাকার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রথম ইউনিটে জ্বালানি লোডিং শুরু হয় ২৮ এপ্রিল ২০২৬। এর আগে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ প্রথম ইউনিটে জ্বালানি লোডিং ও কমিশনিং কার্যক্রমের জন্য লাইসেন্স দেয়।

রূপপুর প্রকল্পে রাশিয়ার সহায়তায় দুটি ভিভিইআর-১২০০ রিঅ্যাক্টর নির্মাণ করা হচ্ছে। বিশ্ব পরমাণু সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ইউনিট-১-এর বাণিজ্যিক কার্যক্রম ২০২৬ এবং ইউনিট-২-এর ২০২৭ সালে শুরু হওয়ার সংশোধিত সময়সূচি রয়েছে।

বাংলাদেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটি পাবনার ঈশ্বরদীর রূপপুরে পদ্মা নদীর তীরে নির্মিত হচ্ছে। দুটি ইউনিট চালু হলে জাতীয় গ্রিডে মোট ২৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ যুক্ত হওয়ার কথা।

এদিকে, বৃহস্পতিবার নির্ধারিত দিনে দ্বিতীয় ইউনিটের জ্বালানি বহনকারী কার্গো বিমান বাংলাদেশে না আসায় এখন নতুন করে সরবরাহের তারিখ ও আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতির বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পরবর্তী সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে চালানটি কবে ঢাকায় পৌঁছাবে।

//ডিবিটেক/ এসএমই/ এমআইটি/ সিপিএম//