মারণাস্ত্র নয়, কূটনীতি হোক পরিবর্তনের হাতিয়ার: জাতিসংঘে তারেক রহমান

বিশ্বের চলমান সংঘাত ও মানবিক সংকটের অবসানে মারণাস্ত্রের পরিবর্তে যুক্তি-তর্ক, কূটনীতি, শিক্ষা ও মানবতাকে পরিবর্তনের হাতিয়ার হিসেবে গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, যেকোনো সংঘাতের সমাধান হতে হবে আলোচনা, কূটনৈতিক প্রক্রিয়া ও পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে। আর শান্তিপূর্ণ, মানবিক ও সমঝোতামূলক বিশ্ব সমাজ প্রতিষ্ঠার কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে বাংলাদেশ জাতিসংঘকে দেখতে চায়। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) […] The post মারণাস্ত্র নয়, কূটনীতি হোক পরিবর্তনের হাতিয়ার: জাতিসংঘে

মারণাস্ত্র নয়, কূটনীতি হোক পরিবর্তনের হাতিয়ার: জাতিসংঘে তারেক রহমান
২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১১:০০  

বিশ্বের চলমান সংঘাত ও মানবিক সংকটের অবসানে মারণাস্ত্রের পরিবর্তে যুক্তি-তর্ক, কূটনীতি, শিক্ষা ও মানবতাকে পরিবর্তনের হাতিয়ার হিসেবে গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, যেকোনো সংঘাতের সমাধান হতে হবে আলোচনা, কূটনৈতিক প্রক্রিয়া ও পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে। আর শান্তিপূর্ণ, মানবিক ও সমঝোতামূলক বিশ্ব সমাজ প্রতিষ্ঠার কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে বাংলাদেশ জাতিসংঘকে দেখতে চায়।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ সময় দিবাগত রাত তিনটায় জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে বাংলাদেশের সরকারপ্রধান হিসেবে প্রথমবারের মতো দেওয়া ভাষণে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এসব কথা বলেন। মাতৃভাষা বাংলায় দেওয়া ভাষণে তিনি বিশ্বশান্তি, আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা, বহুপাক্ষিকতা, নিরস্ত্রীকরণ, ফিলিস্তিন, রোহিঙ্গা সংকট, জলবায়ু পরিবর্তন, প্রযুক্তি ও উন্নয়নসহ বৈশ্বিক বিভিন্ন ইস্যুতে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান বিশ্বব্যবস্থায় বিশ্বের এক প্রান্তে যা কিছু ঘটে, তার প্রভাব কমবেশি প্রতিটি রাষ্ট্রের ওপর পড়ে। মানবসৃষ্ট সংঘাতের কারণে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অশান্ত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, বিপুলসংখ্যক মানুষ বাস্তুচ্যুত হচ্ছে এবং মানবিক সংকট সৃষ্টি হচ্ছে।

যুদ্ধ ও সংঘাতের কারণে বিশ্ব অর্থনীতি তীব্র চাপের মুখে পড়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, জ্বালানি নিরাপত্তা সংকট, বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন এবং ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতির কারণে অর্থনৈতিক পরিস্থিতির অবনতি ঘটছে।

‘জাতিসংঘকে সমঝোতার কেন্দ্রবিন্দু দেখতে চাই’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা বিশ্বাস করি, যেকোনো সংঘাতের সমাধান আলোচনা, কূটনৈতিক প্রক্রিয়া এবং পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমেই হওয়া উচিত। বিবদমান রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে সমতা, ন্যায্যতা, পারস্পরিক স্বার্থরক্ষা এবং সম্মান ও মর্যাদাকে দ্বিপাক্ষিক কিংবা বহুপাক্ষিক সম্পর্কের ভিত্তি করার আহ্বান জানান তিনি।

তার ভাষায়, আমাদের প্রত্যাশা একটি শান্তিময় বিশ্ব, এমন একটি মানবিক বিশ্ব সমাজ, যেখানে মারণাস্ত্র নয় বরং পরিবর্তনের হাতিয়ার হয়ে উঠবে যুক্তি-তর্ক, কূটনীতি, শিক্ষা ও মানবতা। একই সঙ্গে একে অপরের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতি শ্রদ্ধাশীল একটি সমঝোতামূলক বিশ্ব সমাজ প্রতিষ্ঠার কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে জাতিসংঘকে দেখতে চায় বাংলাদেশ।

নিরস্ত্রীকরণের পক্ষে বাংলাদেশ

বিশ্বশান্তির পথে সামরিক ব্যয় বৃদ্ধিকে বড় বাধা হিসেবে তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে উন্নয়ন খাতের বাজেট সামরিক খাতে সরিয়ে নেওয়ার প্রবণতা বিশ্বশান্তির অন্তরায়। শান্তিপ্রিয় জাতি হিসেবে বাংলাদেশ পূর্ণাঙ্গ ও সাধারণ নিরস্ত্রীকরণ, পারমাণবিক অস্ত্রের বিস্তার রোধ এবং অস্ত্র নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও জানান তিনি।

স্বাধীন ফিলিস্তিনের প্রতি সমর্থন

ফিলিস্তিনি জনগণের দুর্দশার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার এবং একটি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের অধিকারসহ তাদের ন্যায্য দাবির প্রতি বাংলাদেশের সমর্থন অবিচল রয়েছে।

তিনি বলেন, স্বাধীনতাকামী ফিলিস্তিনি জনগণের দুর্দশা নিয়ে বাংলাদেশের গণতন্ত্রকামী জনগণের মনে উদ্বেগ রয়েছে। তাদের ন্যায্য দাবির প্রতি বাংলাদেশ পুনরায় অবিচল সমর্থন জানাচ্ছে।

শান্তিরক্ষায় বাংলাদেশের ভূমিকা

জাতিসংঘের ৮১তম অধিবেশনের প্রতিপাদ্য-‘রেস্টোরিং ট্রাস্ট, ম্যানেজিং ট্রান্সফরমেশন: এ ইউনাইটেড নেশনস দ্যাট ডেলিভার্স ফর অল’-চলমান বিশ্ব পরিস্থিতিতে অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক ও সময়োপযোগী বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।

আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা বজায় রাখার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ বহুপাক্ষিকতার নীতিতে অটল জানিয়ে তিনি বলেন, পিসবিল্ডিং কমিশনের ভাইস-চেয়ার হিসেবে বাংলাদেশ টেকসই শান্তি, সংঘাত প্রতিরোধ এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক শান্তি প্রতিষ্ঠার পক্ষে কাজ করে যাচ্ছে।

জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীরা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মানবতার সেবায় নিয়োজিত রয়েছেন উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশি নারীদের সাহসী অংশগ্রহণ ‘নারীর অগ্রযাত্রা, শান্তি ও নিরাপত্তা’ বিষয়ক কর্মসূচির প্রতি বাংলাদেশের অঙ্গীকারের প্রতিফলন।

নিরাপদ অভিবাসনে বৈশ্বিক সহযোগিতা

অভিবাসনকে মানবসভ্যতার মতোই প্রাচীন উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্বের অনেক দেশের অর্থনীতিতে অভিবাসীরা গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন। বাংলাদেশ নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল অভিবাসন নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ জানিয়ে তিনি অভিবাসীদের অধিকার, মর্যাদা ও কল্যাণ নিশ্চিত করতে আরও জোরালো বৈশ্বিক সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন।

রোহিঙ্গা সংকটের সমাধান

বিশ্বশান্তি ও মানবিক সংকটের আলোচনায় রোহিঙ্গা সমস্যাকে বিশেষ গুরুত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, নয় বছরেরও বেশি সময় ধরে মিয়ানমার থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত ১২ লাখের বেশি রোহিঙ্গাকে বাংলাদেশ আশ্রয় দিয়ে আসছে। এতে বাংলাদেশের সম্পদ, পরিবেশ, নিরাপত্তা ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর ওপর ব্যাপক চাপ সৃষ্টি হয়েছে। রোহিঙ্গা সংকটের উৎস ও উৎপত্তি মিয়ানমারে; তাই এর সমাধানও সেখানেই নিহিত। বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের নিজ মাতৃভূমি মিয়ানমারে নিরাপদে ফিরিয়ে নেওয়াই এ সমস্যার একমাত্র সমাধান।

এই সংকটের চূড়ান্ত সমাধানে জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃঢ় ও কার্যকর সমর্থন প্রত্যাশা করে তিনি বলেন, রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফিরিয়ে নেওয়ার আগ পর্যন্ত তাদের জীবন রক্ষাকারী সহায়তা কর্মসূচি অব্যাহত রাখতে হবে।

তিনি সতর্ক করে বলেন, বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ব্যর্থ হলে অদূর ভবিষ্যতে এটি একটি মানবিক সংকটে রূপ নিতে পারে।

জলবায়ু ন্যায়বিচারের দাবি

বিশ্বশান্তির সঙ্গে জলবায়ু ন্যায়বিচার ও টেকসই উন্নয়নের সম্পর্ক তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ দেশ।

বৈশ্বিক কার্বন নিঃসরণে বাংলাদেশের তেমন ভূমিকা না থাকলেও দেশটিকে জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব বহন করতে হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি কপ-৩১-এ জলবায়ু ন্যায়বিচার, জলবায়ু অর্থায়ন ও অভিযোজন সহায়তার ক্ষেত্রে আরও জোরালো বৈশ্বিক পদক্ষেপ প্রত্যাশা করেন।

পরিবেশ সুরক্ষায় আগামী পাঁচ বছরে সারাদেশে ২৫ কোটি গাছ লাগানো, পরিচ্ছন্ন ও সৌর জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানো এবং বন্যা-খরা মোকাবিলায় ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের কর্মসূচির কথাও জানান তিনি। সুন্দরবনে মিঠা পানির প্রবাহ বৃদ্ধি, পানি সংরক্ষণ এবং আন্তঃসীমান্ত পানি ব্যবস্থাপনায় সহযোগিতার কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।

পারস্পরিক সহযোগিতার বিকল্প নেই

বিশ্বের দেশগুলোর পারস্পরিক নির্ভরতার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আঞ্চলিক বাণিজ্য সম্প্রসারণ, কার্যকর যোগাযোগ ব্যবস্থা ও অর্থবহ সহযোগিতার মাধ্যমে একে অপরের সমৃদ্ধি অর্জনে সহায়তা করা সম্ভব।

কোভিড মহামারি বিশ্বকে যে শিক্ষা দিয়েছে তা তুলে ধরে তিনি বলেন, বিশ্ব সমাজকে টিকে থাকতে হলে একে অপরের সহায়তা, সহমর্মিতা ও সহযোগিতা অপরিহার্য। উন্নয়নশীল দেশগুলোতে টিকা, চিকিৎসাসামগ্রী ও রোগ নির্ণয়ের সরঞ্জামের টেকসই উৎপাদন নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।

প্রযুক্তির সুফল সবার জন্য

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিই আগামী বিশ্বের ভবিষ্যৎ গড়ে দেবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, জীবপ্রযুক্তি ও বিজ্ঞানের নতুন যুগের সম্ভাবনার কথা বলেন।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের বিপুল তরুণ জনগোষ্ঠী ও ক্রমবর্ধমান ডিজিটাল সক্ষমতা নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে। তবে আজকের ডিজিটাল বিভাজন যেন আগামী দিনের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিভাজনে পরিণত না হয়।

উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য প্রযুক্তি হস্তান্তর, দক্ষতা বৃদ্ধি ও আধুনিক প্রযুক্তিতে সাশ্রয়ী প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অগ্রযাত্রায় কোনো দেশ যেন পিছিয়ে না থাকে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিকাশের সুফল ইতিবাচকভাবে কাজে লাগাতে জাতিসংঘের কার্যকর নীতিমালা গ্রহণের প্রয়োজন রয়েছে।

‘সবার আগে বাংলাদেশ-সবার জন্য বাংলাদেশ’

ভাষণের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী একটি সমৃদ্ধ, স্বনির্ভর, কল্যাণমূলক ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, এমন একটি বাংলাদেশ চান, যেখানে তরুণরা নির্ভয়ে নিজেদের স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথ খুঁজে পাবে, নারীরা আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে জীবন পরিচালনা করতে পারবে, প্রতিটি শিশু তার সম্ভাবনা বিকাশের সুযোগ পাবে এবং সর্বোপরি জনগণ নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ জীবনের নিশ্চয়তা পাবে।

এ জন্যই সরকারের মূল বার্তা-‘সবার আগে বাংলাদেশ, সবার জন্য বাংলাদেশ’।

বাংলাদেশের উন্নয়ন, গণতন্ত্র, মানবাধিকার, সুশাসন ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করেই সমান অধিকার, সম্মান ও মর্যাদার ভিত্তিতে একটি কল্যাণমূলক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে চায় সরকার।

উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন

সরকারের ‘থ্রি-আর’ কৌশলের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, রিকভারি, রেস্টোরেশন ও রিকনস্ট্রাকশনের মাধ্যমে বাংলাদেশকে পুনর্গঠনের কাজ চলছে। দেশের কর্মক্ষম জনশক্তিকে দক্ষ মানবসম্পদে পরিণত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং তরুণ উদ্যোক্তা, গবেষক ও উদ্ভাবকদের জন্য স্টার্টআপ উদ্যোগে চলতি অর্থবছরে ৪ বিলিয়ন ডলার বরাদ্দের কথা জানান তিনি।

নারীদের শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও উদ্যোক্তা তৈরিতে অগ্রাধিকার দেওয়ার পাশাপাশি ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পে নারী উদ্যোক্তাদের জন্য নগদ অর্থায়নের সুযোগ সম্প্রসারণ এবং স্নাতক পর্যন্ত নারীদের বিনা বেতনে শিক্ষার সুযোগের কথাও তুলে ধরেন।

শুধু ভোটের গণতন্ত্র নয়, অর্থনীতির গণতন্ত্রায়ন নিশ্চিত করার কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী ফ্যামিলি কার্ড, ফার্মার্স কার্ড, স্পোর্টস কার্ড ও ই-হেলথ কার্ডের মতো সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির কথা উল্লেখ করেন। এসব কর্মসূচিকে সমন্বয় করে ভবিষ্যতে ‘ইউনিভার্সাল কার্ড’ চালুর পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।

শিক্ষা ও তরুণ প্রজন্ম

শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও খেলাধুলাকে সরকারের বিশেষ অগ্রাধিকার হিসেবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কর্মমুখী ও নৈতিক মানসম্পন্ন শিক্ষা নিশ্চিত করতে কারিগরি ও ব্যবহারিক শিক্ষার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

প্রাথমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের ব্যাগ, পোশাক ও বিনামূল্যে দুপুরের খাবার দেওয়ার উদ্যোগের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, খেলাধুলাকে পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে শিক্ষা সিলেবাসে প্রথমবারের মতো স্পোর্টসকে বিষয় হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

জাতিসংঘ ঘোষিত টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যের ‘কাউকে পেছনে না রাখা’ নীতির সঙ্গে সরকারের ৩১ দফা কর্মসূচির সম্পর্ক তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এসব কর্মসূচি বাস্তবায়নের মাধ্যমে শহর ও গ্রামের উন্নয়ন বৈষম্য দূর করার পাশাপাশি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই উন্নয়ন এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে।

ভাষণের শেষদিকে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ, গণতন্ত্র ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে আত্মত্যাগকারীদের স্মরণ করেন। একই সঙ্গে শান্তিময় বিশ্ব সমাজ প্রতিষ্ঠার প্রত্যাশা ব্যক্ত করে তিনি বহুপাক্ষিকতা, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, শান্তি, মানবতা ও টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে বাংলাদেশের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে ভাষণ দেওয়ার সময় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির, শামা ওবায়েদ, জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি আইরিন খান এবং প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিনসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।

The post মারণাস্ত্র নয়, কূটনীতি হোক পরিবর্তনের হাতিয়ার: জাতিসংঘে তারেক রহমান first appeared on Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment.