গবেষণা ও প্রযুক্তি হস্তান্তর

খনিজ বালু গবেষণায় নতুন উদ্যোগ

  • BAEC-এভারলাস্টের মধ্যে তিন বছরের সমঝোতা
  • ভোলা, পটুয়াখালী, নোয়াখালীতে নমুনা বিশ্লেষণ
  • খনিজ পৃথকীকরণে প্রযুক্তি উন্নয়নে যৌথ গবেষণা

খনিজ বালু গবেষণায় নতুন উদ্যোগ
৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৭:৩৭  

দেশের খনিজ বালুর ভৌত-রাসায়নিক বৈশিষ্ট্য, খনিজ পৃথকীকরণ ও শিল্পে ব্যবহারযোগ্যতা নির্ধারণে যৌথ গবেষণার উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন (BAEC) ও এভারলাস্ট মিনারেলস লিমিটেড (EML)। এ লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠান দুটি শিল্পভিত্তিক গবেষণা, তথ্য ও জ্ঞান বিনিময় এবং প্রযুক্তি হস্তান্তরের সুযোগ তৈরিতে তিন বছরের একটি সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষর করেছে।

৮ সেপ্টেম্বর, মঙ্গলবার ঢাকায় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে এ সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের চেয়ারম্যান ড. এম. মঈনুল ইসলাম এবং এভারলাস্ট মিনারেলস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক দেলোয়ার হোসাইন টিটু নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে এতে স্বাক্ষর করেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আনোয়ার হোসেন।

সমঝোতার আওতায় দেশের খনিজ বালু শিল্পের গবেষণা ও উন্নয়নে দুই প্রতিষ্ঠান পারস্পরিক সহযোগিতা করবে। নদী ও দক্ষিণাঞ্চলের উপকূলীয় দ্বীপাঞ্চল, বিশেষ করে ভোলা, পটুয়াখালী ও নোয়াখালীর বিভিন্ন এলাকায় খনিজ বালুর নমুনা সংগ্রহ করা হবে। এসব নমুনার ভৌত ও রাসায়নিক বিশ্লেষণসহ প্রয়োজনীয় গবেষণা কার্যক্রম পরিচালিত হবে।

অনুষ্ঠানে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, দেশের প্রাকৃতিক সম্পদের বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধান, গবেষণা ও প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবহার নিশ্চিত করতে সরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও বেসরকারি খাতের মধ্যে কার্যকর অংশীদারত্ব জরুরি। তাঁর মতে, এই সমঝোতার মাধ্যমে খনিজ বালুর সম্ভাবনাময় সম্পদের বৈজ্ঞানিক মূল্যায়ন, প্রযুক্তি উন্নয়ন এবং শিল্পে ব্যবহারযোগ্যতা যাচাইয়ের গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি তৈরি হয়েছে। ভবিষ্যতে এটি দেশের শিল্পায়ন ও আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে অবদান রাখবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।

সমঝোতা অনুযায়ী, বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের পক্ষে ইনস্টিটিউট অব নিউক্লিয়ার জিওলজিক্যাল সায়েন্সেস (INGS) মাঠ ও পরীক্ষাগারভিত্তিক কার্যক্রম বাস্তবায়ন করবে। কমিশন নিজস্ব সুবিধায় সংগৃহীত বালুর নমুনা বিশ্লেষণ করবে।

অন্যদিকে, মাঠপর্যায়ের কার্যক্রমে প্রয়োজন অনুযায়ী এভারলাস্ট মিনারেলস তাদের আধুনিক হাইড্রলিক কোর ড্রিল রিগ ও নৌযান সরবরাহ করবে। একই সঙ্গে উভয় পক্ষের মাঠপর্যায়ের দলের প্রয়োজনীয় সফর ব্যয়ও এভারলাস্ট বহন করবে।

গবেষণার আওতায় খনিজ বালুর মিনারেলজি, জিওকেমিস্ট্রি ও মেটালার্জি নিয়েও বিস্তারিত কাজ করা হবে। নির্দিষ্ট খনিজের নমুনা সংগ্রহ, খনিজ পৃথকীকরণ, বালুর গুণগত মান ও গঠন বিশ্লেষণ, আপগ্রেডেশন প্রযুক্তি এবং দেশের শিল্পের প্রয়োজন অনুযায়ী খনিজ বালুর ব্যবহারযোগ্যতা নির্ধারণেও দুই প্রতিষ্ঠান যৌথভাবে কাজ করবে।

সমঝোতায় কমিশনের প্রতিনিধিদের এভারলাস্টের অনুসন্ধান ও খনন প্রকল্প এবং খনিজ বালু প্রক্রিয়াজাতকরণ প্ল্যান্ট পরিদর্শনের সুযোগ রাখা হয়েছে। পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে গবেষণাগার, গবেষণা সুবিধা ব্যবহার এবং অন্যান্য সহযোগিতামূলক কার্যক্রমও পরিচালনা করা যাবে।

সমঝোতা স্মারকের প্রাথমিক মেয়াদ তিন বছর। উভয় পক্ষের লিখিত সম্মতির ভিত্তিতে পরবর্তী মেয়াদে এটি নবায়ন করা যাবে। তবে এটি কোনো ব্যবসায়িক চুক্তি নয় এবং এর মাধ্যমে কোনো পক্ষের সরাসরি আর্থিক সুবিধা অর্জনের উদ্দেশ্যও নেই। দেশের খনিজ বালু শিল্পের গবেষণা ও উন্নয়ন এবং এর মাধ্যমে আর্থ-সামাজিক উন্নয়নই সমঝোতার মূল লক্ষ্য।

অনুষ্ঠানে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব আবুল খায়ের মোহাম্মদ আক্কাস আলী, যুগ্মসচিব শেখ মুহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম, বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের পরিকল্পনা ও উন্নয়ন বিভাগের পরিচালক ড. মো. মোস্তাফিজুর রহমান এবং ইনস্টিটিউট অব নিউক্লিয়ার জিওলজিক্যাল সায়েন্সেসের পরিচালক ড. মো. গোলাম রাসুলসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এভারলাস্ট মিনারেলস লিমিটেডের সিনিয়র কনসালট্যান্ট মো. খায়রুল ইসলাম ও জেনারেল ম্যানেজার মো. বাহারুল আলম বিশ্বাসসহ প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাও অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
//ডিবিটেক/এমএএমএসটি/এসএমই/এমআইএসটি//