পিএইচপি ত্রুটি সামলাতে রোববার মিলবে সিদ্ধান্ত
ব্যাংকিং ও সরকারি ১০টির বেশি সাইট বন্ধ
- পিএইচপি নিরাপত্তা ত্রুটিতে বাংলাদেশ ব্যাংকসহ ১০টির বেশি গুরুত্বপূর্ণ ওয়েবসাইট বন্ধ
- ৬টি বাণিজ্যিক ব্যাংক ও ভূমিসেবাসহ একাধিক সরকারি পোর্টাল রক্ষণাবেক্ষণে
- বিজিডি ই-গভ সার্টের সতর্কবার্তার পর পিএইচপি প্যাচ আপডেটের কাজ চলমান
পিএইচপি (PHP) প্রোগ্রামিং ভাষার ভয়াবহ নিরাপত্তা ত্রুটি শনাক্তের পর সম্ভাব্য সাইবার হামলা এড়াতে এবং প্রযুক্তি অবকাঠামোর সুরক্ষা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশে ১০টিরও বেশি সরকারি ও গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইট সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। ২৪ অক্টোবর, শনিবার বেলা সাড়ে ১০টায়ও এসব পোর্টাল বন্ধ পাওয়া যায়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে প্রকাশ, কেন্দ্রীয় ব্যাংকসহ অন্যান্য ওয়েবসাইটের সংশ্লিষ্ট সহকারী প্রোগ্রামাররা পিএইচপি ভালনারেবিলিটি রোধে নিরাপত্তার প্যাচ আপডেট করার কাজ করছেন এবং আগামী রোববার অফিস খোলার পর পুনরায় সাইটগুলো চালুর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসবে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে প্রকাশ, সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলা ও আধুনিক সার্ভার ফায়ারওয়াল জোরদার করতেই সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে এই সার্ভিস স্থগিত রাখা হয়েছে।
ওয়েবসাইট বন্ধ রাখা প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রয়েছে দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক—বাংলাদেশ ব্যাংক এবং ছয়টি বাণিজ্যিক ব্যাংক, যথা: অগ্রণী ব্যাংক, জনতা ব্যাংক, আইএফআইসি ব্যাংক, স্ট্যান্ডার্ড ইসলামী ব্যাংক, এসবিএসি ব্যাংক ও বেঙ্গল কমার্শিয়াল ব্যাংক। এছাড়া বিজি প্রেস, ব্যানবেইস, পেট্রোবাংলা, শিক্ষক-কর্মচারী কল্যাণ ট্রাস্টের অনলাইন পোর্টাল এবং ডিজিটাল ভূমিসেবার (land.gov.bd) মূল সার্ভারও বন্ধ পাওয়া গেছে। ভূমি মন্ত্রণালয় বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানিয়েছে, গত বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১২টা থেকে শনিবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত ৩৬ ঘণ্টার জন্য ওয়েবসাইটের রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। ব্যাংক কর্তৃপক্ষগুলো নিশ্চিত করেছে যে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষ হলেই অবকাঠামো পুনরায় সচল করা হবে।
এর আগে গত ২২ অক্টোবর পিএইচপির আন্তর্জাতিক মেমোরি ত্রুটি নিয়ে সারা দেশে জরুরি রেড অ্যালার্ট ও সতর্কবার্তা জারি করে সরকারি সংস্থা বিজিডি ই-গভ সার্ট। এই বিষয়ে প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ এবং ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির সাইবার সিকিউরিটি অ্যান্ড ডিজিটাল ফরেনসিক বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক তানভীর হাসান জোহা জানান, বাংলাদেশের সরকারি ওয়েবসাইটের আনুমানিক ৬০ থেকে ৮৫ শতাংশেই পিএইচপি ব্যবহৃত হয়। ফলে ঝুঁকি কাটাতে ইন্টারনেটের সঙ্গে যুক্ত সার্ভারগুলোতে দ্রুত পিএইচপির সুরক্ষিত সংস্করণ আপডেট করা অপরিহার্য। তাৎক্ষণিকভাবে আপডেট সম্ভব না হলে ফায়ারওয়াল দিয়ে প্রবেশাধিকার সীমিত রাখা এবং গত কয়েক দিনের সার্ভার লগ পরীক্ষা করে অনাকাঙ্ক্ষিত অনুপ্রবেশ ঘটেছে কি না তা যাচাই করার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।
//ডিবিটেক/বিটিএনআর/এমএসআই/এসএমপি//





