স্টারলিংক ব্যবহারকারীদের ওপর নজরদারি করছে ইসরায়েলি অ্যাড-টেক ফার্ম

স্টারলিংক ব্যবহারকারীদের ওপর নজরদারি করছে ইসরায়েলি অ্যাড-টেক ফার্ম
২৮ অক্টোবর, ২০২৬ ১৬:৫৭  

স্পেসএক্সের তৈরি কৃত্রিম উপগ্রহভিত্তিক ইন্টারনেট সেবা ‘স্টারলিংক’ ব্যবহারকারীদের ওপর গোপন নজরদারি চালানো এবং তাদের ভৌগোলিক অবস্থান শনাক্ত করার জন্য ইসরায়েলি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ‘ডিসকভার-টেক’-কে অভিযুক্ত করেছেন শীর্ষ সাইবার নিরাপত্তা গবেষকরা।

টোকিওভিত্তিক ট্রেন্ড মাইক্রোর অঙ্গপ্রতিষ্ঠান ‘ট্রেন্ডএআই’, কানাডার ‘সিটিজেন ল্যাব’ এবং ‘কনফিঅ্যান্ট’-এর গবেষকদের যৌথ তথ্যানুযায়ী, অ্যাড-টেক কোম্পানিটি বিশ্বজুড়ে প্রথাগত বিজ্ঞাপন দেখানোর সুবিধাকে অপব্যবহার করছিল। ডিজিটাল বিজ্ঞাপন প্রদর্শনের রিয়েল-টাইম অটোমেটেড নিলাম বা ‘অ্যাড বিডিং’ প্রক্রিয়া কাজে লাগিয়ে তারা ১০০টিরও বেশি দেশে স্টারলিংক ব্যবহারকারীদের ব্রাউজার ও অ্যাপ ডেটা সংগ্রহ করছিল।

সংবেদনশীল অঞ্চলে রহস্যজনক বিজ্ঞাপন নেটওয়ার্ক
প্রতিবেদনে প্রকাশ পেয়েছে যে, যেখানে বৈধ পশ্চিমা বিজ্ঞাপনের কোনো চাহিদা নেই কিংবা স্টারলিংক ব্যবহারের ওপর সরকারি নিষেধাজ্ঞা রয়েছে- যেমন সিরিয়া, লিবিয়া, ইয়েমেন, দক্ষিণ সুদান ও আফগানিস্তান- সেসব সংবেদনশীল অঞ্চলে ডিসকভার-টেক ছিল শীর্ষ বিজ্ঞাপন ক্রেতা।

গবেষকরা নিশ্চিত করেছেন যে, ট্রেন্ডএআই তাদের পূর্বের প্রতিবেদনে এই নজরদারি চালানো সংস্থাকে ‘শ্যাডো-অর্থ-৭৯’ কোডনেমে অভিহিত করেছিল, যা মূলত এই ইসরায়েলি প্রতিষ্ঠানেরই ছদ্মনাম। আইনগত জটিলতা ও করপোরেট ঝুঁকির আশঙ্কায় অনেক নিরাপত্তা সংস্থা শুরুতে সরাসরি প্রতিষ্ঠানের নাম প্রকাশে বিরত ছিল।

আন্তর্জাতিক পদক্ষেপ ও সাইবার ঝুঁকি
স্টারলিংকের ট্রাফিকের ওপর এ ধরনের অস্বাভাবিক নজরদারির বিষয়টি সামনে আসার পর গুগল ও কমকাস্টসহ বিশ্বখ্যাত কয়েকটি প্রযুক্তি জায়ান্ট তাদের প্ল্যাটফর্ম থেকে ডিসকভার-টেককে অপসারণ করেছে। পাশাপাশি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা এবং প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো এই নজরদারির প্রভাব খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করেছে।

বিশ্বজুড়ে যুদ্ধক্ষেত্রসহ দুর্গম এলাকায় যেখানে স্টারলিংকের ওপর নির্ভরতা দিন দিন বাড়ছে, সেখানে স্যাটেলাইট ব্যবহারকারীদের ওপর এই ডিজিটাল নজরদারির ঘটনা আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মধ্যে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।

ডিবিটেক/বিএমটি    ।    সূত্র: রয়টার্স