এআই অপতথ্য রুখতে দিনব্যাপী উচ্চপর্যায়ের সংলাপ

  • রাজধানীতে এআই-নির্ভর অপতথ্য ও বিভ্রান্তিকর কনটেন্ট মোকাবিলায় দিনব্যাপী নীতি সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
  • পর্যালোচনা করা অনলাইন কনটেন্টের অর্ধেকের বেশি মিথ্যা এবং পঞ্চমাংশে এআই কারসাজির প্রমাণ।
  • নির্বাচন কেন্দ্রিক চরিত্রহনন বন্ধে নীতিপত্র প্রণয়ন ও প্ল্যাটফর্ম জবাবদিহি নিশ্চিতে জোর

এআই অপতথ্য রুখতে দিনব্যাপী উচ্চপর্যায়ের সংলাপ
১৮ আগষ্ট, ২০২৬ ১৮:১৮  

অনলাইন প্ল্যাটফর্মে এআই-নির্ভর অপতথ্য, বিভ্রান্তিকর তথ্য ও কারসাজি করা কনটেন্ট মোকাবিলা এবং সামাজিক সংহতি জোরদার করতে এক উচ্চপর্যায়ের সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলের পদ্মা হলে দিনব্যাপী ‘Dialogue on Information Integrity and Social Cohesion in Bangladesh: Policy, Platform Accountability and Collective Action’ শীর্ষক এই সংবাদ ও নীতি সংলাপে সরকারি কর্মকর্তা, নীতিনির্ধারক, গণমাধ্যমকর্মী, ফ্যাক্টচেকার ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্মের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি) বাংলাদেশ ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের উদ্যোগে সকাল ৯টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত এ আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়।

সংলাপে উত্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, অনলাইন প্ল্যাটফর্মে অপতথ্য, কনফার্মেশন বায়াস এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নির্ভর কারসাজি জনআস্থা ও সামাজিক সংহতির জন্য আশঙ্কাজনক ঝুঁকি তৈরি করছে। ইউএনডিপি বাংলাদেশের ২০২৬ সালের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পর্যবেক্ষণের বিশ্লেষণ উদ্ধৃত করে জানানো হয়, পর্যালোচনা করা অনলাইন কনটেন্টের অর্ধেকের বেশি মিথ্যা বা বিভ্রান্তিকর। এর মধ্যে এক-পঞ্চমাংশের বেশি কনটেন্টে এআই-নির্মিত বা কারসাজি করা মিডিয়া ব্যবহার করা হয়েছে। বিশেষ করে ২০২৬ সালের নির্বাচনকে ঘিরে প্রার্থীদের চরিত্রহননে সম্পাদিত ভিডিও, মনগড়া উদ্ধৃতি, বিকৃত মন্তব্য এবং পুরোনো বা ভিন্ন ঘটনার ছবি-ভিডিও নতুন পরিবেশনায় প্রচারের প্রবণতা চিহ্নিত করা হয়।

আইসিটি বিভাগের সচিব মো. মামুনুর রশীদ ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত প্রথম কর্ম অধিবেশনে তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করতে নীতি ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো এবং প্ল্যাটফর্ম জবাবদিহি নিয়ে আলোচনা করা হয়। এতে জাতীয় সাইবার নিরাপত্তা অ্যাজেন্সির মহাপরিচালক ড. মো. তাইবুর রহমান, ইউনেস্কোর প্রতিনিধি সুসান ভাইজ, মেটার পাবলিক পলিসি ম্যানেজার রুজান সারওয়ার এবং বিটিআরসি চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) মো. এমদাদ-উল-বারী বক্তব্য রাখেন। পরবর্তী অধিবেশনগুলোতে প্রযুক্তিনির্ভর জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা (টিএফজিবিভি) মোকাবিলা এবং ন্যারেটিভ রেজিলিয়েন্স গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী পর্বে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও আইসিটি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনম, ইউএনডিপির আবাসিক প্রতিনিধি স্টিফেন রড্রিকস এবং জার্মান দূতাবাসের প্রতিনিধি বক্তব্য রাখেন। তৃতীয় অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের তথ্য ও সম্প্রচার এবং সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ড. জাহেদুর রহমান বিশেষ বক্তব্য প্রদান করেন। সমাপনী পর্বে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন সরকারের ভবিষ্যৎ পথনকশা তুলে ধরেন। আলোচনার ভিত্তিতে সরকার, নীতিনির্ধারক ও সুশীল সমাজের সহযোগিতার জন্য একটি কৌশলগত নীতিপত্র তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।                                        //ডিবিটেক/এনএপি/এমআইএম//