বিশ্বসেরা শিক্ষার্থীদের সাথে পারমাণবিক শক্তিচালিত জাহাজে যাত্রা
রাশিয়ার পারমাণবিক আইসব্রেকারে উত্তর মেরু অভিযানে রাজশাহীর ক্যাডেট প্রত্যয়
রাশিয়ার পারমাণবিক শক্তিচালিত ঐতিহ্যবাহী আইসব্রেকার ‘ফিফটি লেট পোবেডি’-তে চড়ে উত্তর মেরুর বিরল বৈজ্ঞানিক অভিযানে অংশ নিচ্ছেন রাজশাহী ক্যাডেট কলেজের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী মো. মালেকুল সালেহীন প্রত্যয়। রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পরমাণু সংস্থা রসাটম-এর সহায়তায় আয়োজিত ‘আইসব্রেকার অব নলেজ’ প্রতিযোগিতায় বিশ্বের ২২টি দেশের ৫ হাজার প্রতিযোগীকে পেছনে ফেলে প্রত্যয় এই সাফল্য অর্জন করে।
৬ আগস্ট, বৃহস্পতিবার: রাশিয়ার পারমাণবিক শক্তিচালিত আইসব্রেকার ‘ফিফটি লেট পোবেডি’-তে চড়ে উত্তর মেরুতে এক বিরল বৈজ্ঞানিক অভিযানে অংশ নিচ্ছে রাজশাহী ক্যাডেট কলেজের দশম শ্রেণির ছাত্র মো. মালেকুল সালেহীন প্রত্যয়। রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পরমাণু সংস্থা রসাটম-এর সহায়তায় আয়োজিত বিশ্বের ২১টি দেশের মেধাবী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রত্যয় এই অভিযানে গিয়েছেন।
সম্প্রতি মুরমানস্কে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে এ অভিযানের সূচনা হয়। ১০ দিনব্যাপী এ অভিযানে আইসব্রেকার জাহাজের ক্যাপ্টেন হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন রুসলান সাসোভ। যাত্রাপথে অংশগ্রহণকারীরা ব্যারেন্টস সাগর পাড়ি দিয়ে উত্তর মেরু এবং ফ্রাঞ্জ জোসেফ ল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ হয়ে আবার মুরমানস্কে ফিরে আসবে।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) বিকেলে রসাটম এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে। রসাটম পাবনার ঈশ্বরদীতে নির্মাণাধীন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন প্রকল্পের মূল ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান।
রসাটম প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, মাল্টি-স্টেজ ‘আইসব্রেকার অব নলেজ’ প্রতিযোগিতার সপ্তম আসরের অন্যতম বিজয়ী হিসেবে প্রত্যয় এই সুযোগ অর্জন করে। প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশ, ভারত, চীন, ব্রাজিল, কাজাখস্তান, দক্ষিণ আফ্রিকা, তুরস্ক ও ভিয়েতনামসহ ২২টি দেশ থেকে ৫ হাজারেরও বেশি শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেছিল।
যাত্রার পূর্বে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে প্রত্যয় বলে, ‘এটি আমার জন্য অত্যন্ত বিশেষ একটি দিন। আমি কখনোই কল্পনা করিনি যে, একদিন আমি উত্তর মেরুতে ভ্রমণ করব। বাংলাদেশ থেকে আর্কটিক অঞ্চলের দূরত্ব বিশাল। আমি এই অভিযান নিয়ে ভীষণভাবে এক্সাইটেড। এই অসাধারণ যাত্রায় নিজের দেশের প্রতিনিধিত্ব করতে পেরে আমি গর্বিত।’
রসাটমের মহাপরিচালক আলেক্সি লিখাচেভ বলেন, ‘আর্কটিক হলো এমন একটি স্থান যেখানে সবচেয়ে উদ্ভাবনী ধারণাগুলো জন্ম নেয়। এই অভিযান এমন সব প্রতিভাবান তরুণদের একত্র করেছে যারা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির মাধ্যমে ভবিষ্যৎ গঠনে সাহায্য করবে।’ তিনি উল্লেখ করেন, রাশিয়ার অনন্য পারমাণবিক শক্তিচালিত আইসব্রেকার বহর শিক্ষার্থীদের এমন কিছু প্রযুক্তির অভিজ্ঞতা লাভের সুযোগ করে দেয় যা অন্য কোথাও পাওয়া যায় না। একই সঙ্গে এটি বৈজ্ঞানিক অগ্রগতি ও পরিবেশ রক্ষায় অবদান রাখতেও তাদের অনুপ্রাণিত করে।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, অভিযানকালে অংশগ্রহণকারীরা পারমাণবিক শক্তিচালিত আইসব্রেকারের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করবেন, আর্কটিক পরিবেশ অন্বেষণ করবেন এবং আর্কটিকের নৌ চলাচলে পারমাণবিক প্রযুক্তির ভূমিকা সম্পর্কে জানতে পারবেন। তারা পারমাণবিক, সামুদ্রিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি খাতের শীর্ষস্থানীয় বিশেষজ্ঞদের লেকচার এবং তাদের দ্বারা পরিচালিত বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা, কর্মশালা, আলোচনা, ক্যারিয়ার গাইডেন্স সেশন এবং সৃজনশীল কার্যক্রমেও অংশ নেবেন। এই অভিযানের একটি প্রতীকী আকর্ষণ হবে—শিক্ষার্থীরা ভৌগোলিক উত্তর মেরুতে (৯০ ডিগ্রি উত্তর) নিজ নিজ দেশের জাতীয় পতাকা উত্তোলন করবে।
প্রোগ্রামে বিশেষ অতিথি হিসেবে রয়েছেন রাশিয়ান সায়েন্স ফিকশন লেখক সের্গেই লুকিয়াওনেঙ্কো। তিনি একটি সহযোগিতামূলক সৃজনশীল লেখার কর্মশালা পরিচালনা করবেন। শিক্ষার্থীদের যৌথভাবে লেখা কল্পবিজ্ঞানের গল্পটি অভিযানের পর প্রকাশিত হবে।
‘আইসব্রেকার অব নলেজ’ প্রকল্পটি বিশ্বব্যাপী তরুণ প্রতিভাদের শনাক্ত ও পরিচর্যা করার পাশাপাশি ১৪ থেকে ১৬ বছর বয়সি শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিজ্ঞান, প্রযুক্তি এবং পারমাণবিক শিক্ষার প্রসার ঘটায়। এর আগের ছয়টি আসরে, এই প্রোগ্রামটি সারা বিশ্ব থেকে ৪০০ জনেরও বেশি শিক্ষার্থীকে উত্তর মেরুতে শিক্ষামূলক অভিযানে নিয়ে গেছে।
বিশ্বের একমাত্র দেশ হিসেবে রাশিয়া পারমাণবিক শক্তিচালিত আইসব্রেকার বহর পরিচালনা করে। রসাটমের প্রতিষ্ঠান এফএসইউই অ্যাটমফ্লট দ্বারা পরিচালিত এই বহরে বর্তমানে আটটি পারমাণবিক শক্তিচালিত আইসব্রেকার রয়েছে। এগুলো নর্দান সি রুট বরাবর নৌ চলাচলে সহায়তা করে, যা পশ্চিম ইউরেশিয়া এবং এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের মধ্যে সবচেয়ে সংক্ষিপ্ত সামুদ্রিক পথ।
//ডিবিটেক/ পিআর/এসএমই//





