বাংলাদেশের প্রথম কার্বন-নিউট্রাল শিশু রুহাব

বাংলাদেশের প্রথম কার্বন-নিউট্রাল শিশু রুহাব
২৩ অক্টোবর, ২০২৫ ০০:২৮  

শিশুর জন্ম থেকে শুরু হওয়া সবুজ অঙ্গীকারের বদৌলতে বাংলাদেশের প্রথম কার্বন-নিউট্রাল শিশু হিসেবে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেয়েছে সাতক্ষীরার শিশু আয়ান খান রুহাব। মাত্র আট মাস বয়সী এই শিশু জীবনভর যে পরিমাণ কার্বন ডাই অক্সাইড ত্যাগ করবে, তা গ্রহণ করে নেওয়ার মতো গাছ লাগিয়েছেন তার মা-বাবা।

রুহাবের জন্মস্থানে সাতক্ষীরায়  তালা উপজেলার শিবপুর গ্রামে আম, জাম, কাঁঠাল, আমড়া, সুপারি ও নিমসহ বিভিন্ন ধরনের ৫৮০টি গাছ লাগিয়ে কার্বন নিঃসরণ শূন্যের ব্যবস্থা করেছেন তারা। এভাবেই সন্তানকে কার্বন নিউট্রাল শিশু করেছেন ইমরান-আয়েশা দম্পতি।  আর তাদের এই উদ্যোগের স্বীকৃতি দিয়েছে ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর ক্লাইমেট চেঞ্জ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট। সংস্থার গ্রান্টজয়ী প্রকল্প ঢাকা প্লান্টারস আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে আট মাস বয়সী রুহাবকে বাংলাদেশের প্রথম কার্বন-নিউট্রাল শিশু হিসেবে সার্টিফিকেট দেওয়া হয়।

সংস্থাটির পক্ষ থেকে আয়ান খান রুহাব-কে দেয়া সনদ ও ছবি দিয়ে একটি ফটোকার্ড প্রকাশ করেছে সংস্থাটি।  

রুহাবের বাবা ইমরান রাব্বি, পরিবেশবাদী সংগঠন গ্রীনম্যানের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি এবং মা আয়শা আক্তার কিরণের সমন্বয়ক হিসেবে কাজ করছেন। তাদের এই উদ্যোগের মাধ্যমে শিশুর জীবনের শুরু থেকেই প্রকৃতির প্রতি দায়িত্ববোধের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন তারা।

সূত্রমতে, চলতি বছরের ১০ ফেব্রুয়ারি রুহাবের জন্ম। তার ভবিষ্যৎ জীবনকে কার্বন-নিউট্রাল করতে ইমরান ও আয়েশা সাতক্ষীরায় ৫৮০টি গাছ রোপণ করেছেন, যা রুহাবের জীবনব্যাপী কার্বন নিঃসরণ অফসেট করবে। এই উদ্যোগটি ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর ক্লাইমেট চেঞ্জ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (ICCCAD)-এর গ্রান্টজয়ী উদ্যোগ হিসেবে টেকসই উন্নয়নে অবদানের জন্য ঢাকা প্ল্যান্টারস থেকে স্বীকৃতি পেয়েছে।

স্বীকৃতি পেয়ে ইমরান রাব্বি বলেন, ‘আমরা রুহাবের জন্য গাছ লাগিয়েছি, যেন সে বিশুদ্ধ বাতাস ও সবুজ পরিবেশে বড় হতে পারে। এটা তার ভবিষ্যৎ ও পৃথিবীর জন্য আমাদের ছোট্ট একটি উদ্যোগ মাত্র । সবাই রুহাবের জন্য দোয়া করবেন, যেন সে সুন্দর মনের মানুষ হয় এবং প্রকৃতির সাথে বেড়ে ওঠে।'

রুহাবের মা আয়শা আক্তার কিরণের বয়ানে, “আমাদের ছেলের জন্য গাছ লাগিয়েছি, কিন্তু তা সব শিশুদেরই উপকারে আসবে। প্রত্যেক পরিবার চাইলে নতুন সদস্য এলে কিছু গাছ লাগিয়ে ভবিষ্যতের জন্য অবদান রাখতে পারে।”

পরিবেশ সচেতনতার এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ স্থানীয়ভাবে প্রশংসিত হওয়া ছাড়াও বাংলাদেশের টেকসই উন্নয়ন ও জলবায়ু অভিযোজন প্রচেষ্টায় এক নতুন দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।