শেরেবাংলা নগরের সাবেক গণভবনে উন্মুক্ত করা হয়েছে রক্তাক্ত গণঅভ্যুত্থানের ঐতিহাসিক আলামত

অনলাইন বুকিংয়ে খুলল জুলাই স্মৃতি জাদুঘর

  • অতিরিক্ত ভিড় এড়াতে 'জুলাই ৩৬' ডিজিটাল ওয়েবসাইটের মাধ্যমে স্লটভিত্তিক ই-টিকিট চালু
  • সাবেক গণভবনে স্থাপিত জাদুঘরটি ৫ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনের পর সবার জন্য উন্মুক্ত
  • শহীদদের স্মারক, আয়নাঘরের প্রতিকৃতি ও ঐতিহাসিক দলিল নিয়ে সাজানো হয়েছে গ্যালারি

অনলাইন বুকিংয়ে খুলল জুলাই স্মৃতি জাদুঘর
৬ আগষ্ট, ২০২৬ ১১:৪৫  

২০২৪ সালের রক্তাক্ত জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি সংরক্ষণ এবং আন্দোলনের গৌরবময় ইতিহাস তুলে ধরতে শেরেবাংলা নগরের সাবেক গণভবনে নির্মিত ‘জুলাই ৩৬ গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’ সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত নিয়মে অনলাইন ই-টিকিট ও স্লট বুকিংয়ের মাধ্যমে বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) সকাল ১১টার পর থেকে দর্শনার্থীরা এতে প্রবেশের সুযোগ পাচ্ছেন।

প্রধানমন্ত্রীর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান জানিয়েছেন, অতিরিক্ত ভিড় এড়ানো এবং নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় পরিবেশ নিশ্চিত করতে সময়ভিত্তিক (স্লট) ডিজিটাল ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। দর্শনার্থীদের আগে থেকেই 'জুলাই ৩৬' ওয়েবসাইটে (https://july36.gov.bd/) নিবন্ধন করে সময় নির্বাচন ও ই-টিকিট সংগ্রহ করতে হচ্ছে। টিকিটের মূল্য প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য ৫০ টাকা এবং শিশুদের জন্য ২৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। জাদুঘরটিতে প্রতিদিন তিন ধাপে—সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১টা, দুপুর ১টা থেকে বিকাল ৩টা এবং বিকাল ৩টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত মূল ভবন পরিদর্শনের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। মূল ভবন ঘুরে দেখার পর দর্শনার্থীরা উন্মুক্ত প্রাঙ্গণ, পুকুরপাড় কিংবা ক্যাফেটেরিয়ায় সময় কাটাতে পারবেন।

এর আগে বুধবার (৫ আগস্ট) সকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাদুঘরটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন, যেখানে প্রথম দিনটি কেবল শহীদ পরিবারের সদস্যদের জন্য সংরক্ষিত ছিল।

জাদুঘরের বিশেষ আকর্ষণ ও স্মারকসমূহ:

  • জুলাই মেমোরিয়াল ও প্রতীকী কবরস্থান: মূল প্রবেশদ্বারের পাশে সাদা মার্বেল পাথরে তৈরি 'জুলাই মেমোরিয়ালে' শহীদদের নাম খোদাই করা রয়েছে। ঠিক পেছনেই উন্মুক্ত মাঠে আড়াই হাজারেরও বেশি শহীদের স্মরণে প্রতীকী কবরস্থান তৈরি করা হয়েছে।

  • মুগ্ধর ওয়াটার কর্নার ও বীরত্বের ভাস্কর্য: আন্দোলনে পানি বিতরণ করতে গিয়ে শহীদ হওয়া মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধর স্মরণে বিশেষ ইনস্টলেশন ও ভাস্কর্য তৈরি করা হয়েছে। এ ছাড়া রিকশাচালকের সালাম, সাঁজোয়া যানে ঝুলন্ত আন্দোলনকারী এবং সাইকেল মিছিলে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের প্রতিরূপ নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।

  • ব্যক্তিগত স্মারক ও গ্যালারি: গ্যালারিতে স্থান পেয়েছে শহীদ আবু সাঈদ, মুগ্ধ এবং বুয়েটের শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদের ব্যবহৃত জামাকাপড়, ডায়েরি, চিঠি ও ব্যক্তিগত জিনিসপত্র। রয়েছে শহীদ আহনাফের মায়ের উদ্দেশে লেখা চিঠিও।

  • প্রতীকী ‘আয়নাঘর’ ও নিপীড়নের চিত্র: গুমের শিকার ব্যক্তিদের আটকে রাখার কুখ্যাত বন্দিশালার আদলে একটি অন্ধকার প্রতীকী ‘আয়নাঘর’ নির্মাণ করা হয়েছে। পাশাপাশি পিলখানা হত্যাকাণ্ড ও শাপলা চত্বরের ট্র্যাজেডির মতো দেড় দশকের আলোচিত ঘটনার দলিল ও ছবি সংরক্ষিত হয়েছে।

//ডিবিটেক/ ফিচার/ সম্পাদনা//

অনলাইন টিকিট ও স্লট বুকিংয়ের মাধ্যমে উন্মুক্ত হচ্ছে ঐতিহাসিক স্মৃতি জাদুঘর