শুধু ডাউনলোড নয়, অ্যাপে খরচ বাড়াচ্ছে ভারতীয়রা
দীর্ঘদিন ধরে ভারত বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ অ্যাপ ডাউনলোডের বাজার হিসেবে পরিচিত হলেও এখান থেকে আয় করা বেশ কঠিন ছিল। তবে সেই চিত্র এখন বদলাতে শুরু করেছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই, বিনোদন এবং অন্যান্য প্রিমিয়াম অ্যাপের পেছনে আগের চেয়ে অনেক বেশি অর্থ খরচ করছেন ভারতীয় গ্রাহকেরা।
বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্সর টাওয়ারের নতুন এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে ভারতের মোবাইল অ্যাপ বাজার থেকে রেকর্ড ৩৪ কোটি ৫০ লাখ ডলার আয় হয়েছে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩৫ শতাংশ বেশি।
আয়ের মূল চালিকাশক্তি
সেন্সর টাওয়ার জানিয়েছে, এই আয়ের পেছনে গেমিংয়ের চেয়ে জেনারেটিভ এআই, স্ট্রিমিং এবং উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর অ্যাপগুলো বেশি ভূমিকা রেখেছে। ভারতীয় গ্রাহকেরা এখন ডিজিটাল সাবস্ক্রিপশন বা গ্রাহক হওয়ার জন্য অর্থ খরচ করতে বেশি আগ্রহী। গত সাড়ে তিন বছরে ভারতে অ্যাপপ্রতি ডাউনলোড থেকে আয় দ্বিগুণের বেশি বেড়েছে। তবে ২০২৩ সাল থেকে প্রতি প্রান্তিকে অ্যাপ ডাউনলোডের সংখ্যা ৬৩০ কোটির ঘরেই আটকে আছে।
সেন্সর টাওয়ারের বিশ্লেষক ইভ চেনের মতে, ভারতে ডিজিটাল লেনদেন ব্যবস্থা, বিশেষ করে ইউপিআই এবং ডিজিটাল ওয়ালেটের ব্যবহার বাড়ায় অ্যাপের ভেতর কেনাকাটা অনেক সহজ হয়েছে।
বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে ভারত
বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায় ভারতের এই প্রবৃদ্ধি বেশ নজরকাড়া। দ্বিতীয় প্রান্তিকে অ্যাপ থেকে আয়ের দিক দিয়ে শীর্ষ বাজারগুলোর মধ্যে ভারতেই সবচেয়ে দ্রুত প্রবৃদ্ধি হয়েছে। যেখানে মেক্সিকোতে ৩০ শতাংশ এবং তুরস্কে ২৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে, সেখানে যুক্তরাষ্ট্রে অ্যাপ থেকে আয় উল্টো ৩ শতাংশ কমেছে।
অবশ্য যুক্তরাষ্ট্র, দক্ষিণ কোরিয়া বা জাপানের মতো পরিণত বাজারগুলোর তুলনায় ভারত এখনো অনেক পিছিয়ে। যুক্তরাষ্ট্রে প্রতিটি ডাউনলোড থেকে আয় হয় ৪ ডলার ৬০ সেন্ট, আর ভারতে এই আয় এখনো একেবারেই সামান্য। তবে আয়ের এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দীর্ঘমেয়াদি সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও অন্যান্য অ্যাপের দাপট
ভারতে আয়ের দিক দিয়ে সবচেয়ে দ্রুত বর্ধনশীল খাত হয়ে উঠেছে জেনারেটিভ এআই। দ্বিতীয় প্রান্তিকে ভারতের এআই অ্যাপ খাতের মোট আয়ের প্রায় ৮৩ শতাংশই এসেছে চ্যাটজিপিটি এবং ক্লড-এর মতো অ্যাপগুলো থেকে। অ্যাপফিগারস নামের আরেকটি প্রতিষ্ঠানের তথ্য অনুযায়ী, ভারতে চ্যাটজিপিটি প্রতিদিন প্রায় ৬০ হাজার ডলার আয় করছে এবং গত এক মাসে এটি প্রায় ১৮ লাখ বার ডাউনলোড করা হয়েছে। গেম নয় এমন অ্যাপগুলোর আয়ও উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।
চলতি বছরের প্রথমার্ধে ভারতের মোট মোবাইল অ্যাপ আয়ের ৬৮ শতাংশই এসেছে এই অ্যাপগুলো থেকে। পাশাপাশি গুগল ওয়ান, অ্যামাজন প্রাইম ভিডিও, সনি লিভ এবং জিওহটস্টারের মতো প্ল্যাটফর্মগুলোতেও গ্রাহকদের খরচ বেড়েছে। অন্যদিকে বিশ্বজুড়ে গেমিং খাতে আয় কমলেও ভারতে এই প্রান্তিকে গেমিং থেকে আয় ৩ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়েছে।
ডিবিটেক/বিএমটি । সূত্র: টেকক্রাঞ্চ





