এডিপি প্রকল্পে জবাবদিহি, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় গুরুত্বারোপ

উন্নয়ন প্রকল্পে দক্ষতা ও প্রযুক্তিনির্ভর পরিকল্পনায় জোর

  • প্রকল্প বাস্তবায়নে দক্ষতা ও জবাবদিহির নির্দেশনা
  • আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও মানবসম্পদ উন্নয়নে গুরুত্ব
  • প্রকল্প পুনর্বিন্যাসে প্রযুক্তি ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় জোর

উন্নয়ন প্রকল্পে দক্ষতা ও প্রযুক্তিনির্ভর পরিকল্পনায় জোর
২৯ জুলাই, ২০২৬ ১২:৫৫  

প্রযুক্তিনির্ভর পরিকল্পনা, দক্ষ প্রকল্প ব্যবস্থাপনা এবং ফলাফলভিত্তিক বাস্তবায়নের মাধ্যমে জনগণের জীবনমান উন্নয়নের আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়নের প্রতিটি পর্যায়ে জনস্বার্থ, জবাবদিহি, দক্ষতা এবং দীর্ঘমেয়াদি জাতীয় প্রয়োজনকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।

২৯ জুলাই, বুধবার সচিবালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের সম্মেলন কক্ষে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের চলমান ও বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) আওতাভুক্ত নতুন অননুমোদিত প্রকল্প পর্যালোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি।

সভার শুরুতে স্থানীয় সরকার বিভাগ এবং পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের ২০২৫-২৬ ও ২০২৬-২৭ অর্থবছরের এডিপির সার্বিক চিত্র, চলমান প্রকল্পের অগ্রগতি, বাস্তবায়নের অবস্থা এবং প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে প্রকল্প পুনর্বিন্যাসের সম্ভাবনা উপস্থাপন করা হয়।

মন্ত্রী বলেন, উন্নয়ন প্রকল্প নির্বাচন শুধু দৃশ্যমান অবকাঠামো নির্মাণের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা যাবে না; বরং মানুষের জীবনমানের ওপর প্রকৃত প্রভাব বিবেচনায় নিতে হবে। তিনি জনপ্রিয়তার পরিবর্তে দীর্ঘমেয়াদি জাতীয় কল্যাণে কার্যকর প্রকল্পকে অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানান।

তিনি আরও বলেন, প্রকল্প পরিকল্পনায় বাস্তবসম্মত বিশ্লেষণ, ফলাফলভিত্তিক মূল্যায়ন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী রি-স্কোপিং, সংশোধন, পুনর্বিন্যাস কিংবা সমজাতীয় প্রকল্প একীভূত করার মাধ্যমে বাস্তবায়নের গতি বাড়াতে হবে। রাষ্ট্রীয় অর্থের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে সময়ানুবর্তিতা, ব্যয় দক্ষতা, গুণগত মান এবং জবাবদিহি জোরদারেরও নির্দেশ দেন তিনি।

স্থানীয় সরকার বিভাগের ভূমিকার কথা তুলে ধরে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, নিরাপদ পানি, স্যানিটেশন, আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, স্থানীয় সরকার শক্তিশালীকরণ, গ্রামীণ উন্নয়ন এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে এ বিভাগের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এসব সেবা আরও কার্যকর করতে দক্ষ জনবল এবং আধুনিক ব্যবস্থাপনার বিকল্প নেই।

প্রযুক্তিনির্ভর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, পরিচ্ছন্ন ও সবুজ বাংলাদেশ গড়তে আধুনিক ও টেকসই বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্রকল্প বাস্তবায়ন জরুরি। একই সঙ্গে প্রশিক্ষণ, গবেষণা, দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং আত্মকর্মসংস্থানমুখী দক্ষতা তৈরির ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। নারী উন্নয়ন ও নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নে স্থানীয় সরকার বিভাগের কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণেরও আহ্বান জানান।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী উন্নয়ন প্রকল্প নিয়মিত পর্যালোচনা করা হচ্ছে। সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার ও কর্মপরিকল্পনার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রয়োজন অনুযায়ী প্রকল্প পুনর্বিন্যাস ও সংশোধন করতে হবে।

তিনি বলেন, উন্নয়ন পরিকল্পনায় দীর্ঘমেয়াদি দৃষ্টিভঙ্গির পাশাপাশি উদ্ভাবনী চিন্তা ও সমন্বিত প্রকল্প ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে হবে। বিষয়ভিত্তিক ক্লাস্টারভিত্তিক প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে মূল্যায়ন, তদারকি ও ফলাফল পরিমাপ আরও কার্যকর হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, পল্লী উন্নয়ন খাতে সরকারি ও বেসরকারি সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়াতে হবে। পাশাপাশি প্রকল্প পরিচালক নিয়োগ, সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং আধুনিক প্রকল্প পরিচালক নীতিমালা প্রণয়নে সরকার কাজ করছে।

সভায় স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মো. শহীদুল হাসান, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের সচিব মোহাং শওকত রশীদ চৌধুরী, পরিকল্পনা কমিশনের সদস্যবৃন্দ এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
//ডিবিটেক/ আইইএইচ/ এসএমআই//