GAIN-এর কারিগরি সহায়তা ও সুইজারল্যান্ড দূতাবাসের অর্থায়নে পরিচালিত CALL প্রকল্পে

বন্যা ঝুঁকি পেরিয়ে ঘরে উঠল ব্রি ধান-১০২

  • সাভারের চরাঞ্চলে ১২টি প্রদর্শনী প্লটের মধ্যে ১০টিতে সফলভাবে ঘরে উঠেছে বন্যা-সহনশীল ও জিংকসমৃদ্ধ ব্রি ধান-১০২।
  • ১০টি জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ পরিবার গড়ে তুলেছে রাসায়নিকমুক্ত পুষ্টি বাগান; চাষ হচ্ছে প্রায় ১৫ ধরনের মৌসুমি সবজি।

বন্যা ঝুঁকি পেরিয়ে ঘরে উঠল ব্রি ধান-১০২
২ জুলাই, ২০২৬ ২০:৫৫  
৩ জুলাই, ২০২৬ ০১:০৩  

প্রতিবছর বন্যার পানিতে সাভারের চরাঞ্চলের কৃষকদের মৌসুমজুড়ে করা পরিশ্রম ভেসে যায়। তবে এবার সেই চিত্র বদলাতে শুরু করেছে। ঝুঁকিপূর্ণ চরাঞ্চলের ১২টি প্রদর্শনী প্লটের মধ্যে ১০টিতে সফলভাবে ঘরে উঠেছে বন্যা-সহনশীল ও জিংকসমৃদ্ধ ব্রি ধান-১০২, যা স্থানীয় কৃষকদের জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে।

এই উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে তরুণ-নেতৃত্বাধীন অভিযাত্রিক ফাউন্ডেশন। সংস্থাটির Climate Action at Local Level (CALL) প্রকল্প পরিচালিত হচ্ছে GAIN-এর কারিগরি সহযোগিতা এবং বাংলাদেশে সুইজারল্যান্ড দূতাবাসের অর্থায়নে।

ধানচাষের পাশাপাশি আশুলিয়ার নয়াপাড়া, সাধুপাড়া ও শেওলাটেকি গ্রামের ১০টি জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ পরিবার তাদের বসতবাড়ির অব্যবহৃত জমিতে গড়ে তুলেছে পুষ্টি বাগান। সেখানে রাসায়নিক কীটনাশক ছাড়াই পরিবেশবান্ধব ফেরোমন ফাঁদ ব্যবহার করে প্রায় ১৫ ধরনের মৌসুমি সবজি চাষ করা হচ্ছে। এসব বাগানের সফলতা স্থানীয় অন্য পরিবারগুলোকেও একই ধরনের উদ্যোগ নিতে উৎসাহিত করছে।

প্রকল্পের আওতায় ১৬০ জনের বেশি প্রশিক্ষিত তরুণ-তরুণী স্বেচ্ছাসেবক—যাদের অর্ধেকই নারী—সাভার ও গাজীপুর সদরে ১৬টি সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে জলবায়ু-সহনশীল কৃষি, পুষ্টি এবং নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনের বার্তা ছড়িয়ে দিয়েছেন।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ৬০ জন যুব প্রতিনিধি প্রশিক্ষক প্রশিক্ষণ (ToT) কর্মশালায় অংশ নিয়ে নিজ নিজ এলাকার জন্য কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করেন। মার্চে কৃষিবিদ ড. মো. মনির উদ্দিনের নেতৃত্বে GAIN-এর কারিগরি দল মাঠপর্যায়ে কৃষকদের হাতে-কলমে পরামর্শ ও প্রযুক্তিগত সহায়তা দেয়।

প্রকল্পের আরেকটি উল্লেখযোগ্য অর্জন হলো স্থানীয় সরকার পর্যায়ে জলবায়ু-সচেতন কৃষিকে নীতিগত স্বীকৃতি দেওয়া। সাভার, আশুলিয়া ও ইয়ারপুর ইউনিয়নে গঠিত মাল্টি-স্টেকহোল্ডার প্ল্যাটফর্মের সুপারিশের ভিত্তিতে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের ইউনিয়ন বাজেটে প্রথমবারের মতো পুষ্টি ও জলবায়ু-সহনশীল কৃষি অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।

অভিযাত্রিক ফাউন্ডেশনের প্রেসিডেন্ট আহমেদ ইমতিয়াজ জামি বলেন, "তরুণদের শুধু সুবিধাভোগী নয়, নেতৃত্বের ভূমিকায় নিয়ে এলে বাস্তব পরিবর্তন সম্ভব। বন্যা থেকে ফসল রক্ষা কিংবা পরিবারের পুষ্টি নিশ্চিত করতে ঘরের পাশে সবজি উৎপাদনের মতো উদ্যোগগুলোই আমাদের মডেলের কার্যকারিতা প্রমাণ করছে।"

সংশ্লিষ্টদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় স্থানীয় পর্যায়ে প্রযুক্তিনির্ভর কৃষি, পুষ্টি নিরাপত্তা এবং তরুণদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা গেলে দেশের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে টেকসই কৃষি ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব হবে।

//ডিবিটেক/আরএসইউ/এমইউআইএম//