দক্ষতাভিত্তিক ও কর্মমুখী শিক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে সরকার ও ইউজিসি
বুটেক্সে আন্তর্জাতিক টেক্সটাইল বিজ্ঞান ও প্রকৌশল সম্মেলন অনুষ্ঠিত
বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি) এবং সরকার উচ্চশিক্ষায় দক্ষতাভিত্তিক ও কর্মমুখী শিক্ষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুটেক্স) আয়োজিত চতুর্থ আন্তর্জাতিক টেক্সটাইল বিজ্ঞান ও প্রকৌশল সম্মেলনে শিক্ষাবিদ ও বিশেষজ্ঞরা জানান, চতুর্থ শিল্পবিপ্লব ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে বৈশ্বিক কর্মবাজারের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে জ্ঞান সৃষ্টি ও দক্ষতা উন্নয়নের কেন্দ্রবিন্দু হতে হবে।
বর্তমান সরকার এবং বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি) দক্ষতাভিত্তিক ও কর্মমুখী শিক্ষা ব্যবস্থাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উচ্চমানসম্পন্ন, উদ্ভাবনী চিন্তাশক্তিসম্পন্ন এবং বৈজ্ঞানিক ও প্রযুক্তিগত জ্ঞানসমৃদ্ধ গ্রাজুয়েট তৈরি করতে হবে। একই সঙ্গে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক কর্মবাজারের চাহিদা অনুযায়ী তাদের প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জন নিশ্চিত করতে হবে।
বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয় (বুটেক্স) আয়োজিত ‘ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স অন টেক্সটাইল সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ২০২৬’ শীর্ষক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে এসব কথা বলা হয়। বুটেক্স অডিটোরিয়ামে গত ২০ জুন, শনিবার দিনব্যাপী এই চতুর্থ আন্তর্জাতিক সম্মেলনটি অনুষ্ঠিত হয়।
সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। বুটেক্সের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. জুলহাস উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন ইউজিসির চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মামুন আহমেদ। সম্মেলনে কনফারেন্স স্পিকার হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নেদারল্যান্ডসের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের জুট ও কোকোয়া সেক্টরের টেকনিক্যাল ওয়ার্কিং গ্রুপের চেয়ারম্যান মাইকেল কোক্কেন। অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জার্মানির হোখশুলে নিডাররাইন ইউনিভার্সিটি অব অ্যাপ্লাইড সায়েন্সেসের অধ্যাপক ড. বাস্টিয়ান কোয়াটেলবাউম। স্বাগত বক্তব্য দেন সম্মেলনের আয়োজক কমিটির সভাপতি ও ফ্যাকাল্টি অব টেক্সটাইল ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড বিজনেস স্টাডিজের ডিন অধ্যাপক ড. মো. আহসান হাবীব।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ইউজিসি চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মামুন আহমেদ বলেন, উচ্চশিক্ষার লক্ষ্য কেবল সনদ প্রদান নয়, শিক্ষার্থীদের কর্মক্ষেত্র ও জাতীয় উন্নয়নে অবদান রাখার উপযোগী করা। ইউজিসি এমন একটি উচ্চশিক্ষা মডেল প্রতিষ্ঠা করতে চায় যেখানে শিক্ষার্থী, শিল্পখাত এবং সমাজের মধ্যে আজীবন সংযোগ সৃষ্টি হবে। তিনি বলেন, চতুর্থ শিল্পবিপ্লব, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং দ্রুত পরিবর্তনশীল বৈশ্বিক অর্থনীতির যুগে দক্ষ মানবসম্পদই দেশের সবচেয়ে বড় সম্পদ। তাই বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে পাঠ্যক্রম, গবেষণা, উদ্ভাবন এবং শিল্প-একাডেমিয়া সহযোগিতার মাধ্যমে সাজাতে হবে। গ্রাজুয়েটদের উচ্চ নৈতিক মূল্যবোধ ও মানবিক গুণাবলিতেও সমৃদ্ধ হতে হবে।
দিনব্যাপী এই আন্তর্জাতিক সম্মেলনে দেশি-বিদেশি গবেষকদের মোট ৪৮টি গবেষণাপত্র মৌখিকভাবে এবং ২০টি গবেষণাপত্র পোস্টার আকারে উপস্থাপন করা হয়। সম্মেলনে দেশি-বিদেশি গবেষক, শিক্ষাবিদ, শিল্প খাতের বিশেষজ্ঞ, নীতিনির্ধারক ও শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।
//ডিবিটেক/আইএইচইউ/ইকে//





