তিন দিনের আয়োজনে র‍্যালি, ফ্ল্যাশ মব, কালার ফিস্ট ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে মুখর ক্যাম্পাস

রঙ, বন্ধন আর উৎসবে জমল বাকৃবির হল ফিস্ট

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী হলের ৫৮তম ব্যাচের আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয়েছে তিনদিনব্যাপী হল ফিস্ট ‘ক্রিমসন হাইস্ট’। শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে আয়োজনটি রূপ নেয় মিলনমেলা ও উৎসবে।

রঙ, বন্ধন আর উৎসবে জমল বাকৃবির হল ফিস্ট
২০ জুন, ২০২৬ ২২:৫৬  

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী হলের ৫৮তম ব্যাচের উদ্যোগে তিনদিনব্যাপী হল ফিস্ট ‘ক্রিমসন হাইস্ট’ উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হয়েছে। ১৮ থেকে ২০ জুন পর্যন্ত আয়োজিত এ ফেস্টিভ্যালে বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে হল প্রাঙ্গণ।

প্রতিবছরের ধারাবাহিকতায় এবারও হলের সর্বকনিষ্ঠ ব্যাচ আয়োজনের দায়িত্ব পালন করে। আয়োজকদের মতে, সিনিয়র-জুনিয়রদের পারস্পরিক সম্পর্ক দৃঢ় করা, ভ্রাতৃত্ববোধ বৃদ্ধি এবং একাডেমিক ব্যস্ততার মাঝে শিক্ষার্থীদের জন্য বিনোদনের সুযোগ তৈরি করাই ছিল এ আয়োজনের মূল লক্ষ্য।

উৎসবের প্রথম দিনে আয়োজন করা হয় বর্ণাঢ্য র‍্যালি। ঘোড়ার গাড়িকে কেন্দ্র করে সাজানো এই র‍্যালি হল থেকে শুরু হয়ে কে আর মার্কেট এলাকা প্রদক্ষিণ করে পুনরায় হলে এসে শেষ হয়। র‍্যালিতে অংশ নেন ৫৮তম ব্যাচের শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি তাদের সিনিয়ররাও। পরে অনানুষ্ঠানিক সাংস্কৃতিক পরিবেশনা ও আড্ডা অনুষ্ঠিত হয়।

দ্বিতীয় দিনে অনুষ্ঠিত হয় প্রীতি ফুটবল ম্যাচ, যেখানে ৫৮তম ব্যাচের দল অন্যান্য ব্যাচের সমন্বিত দলকে ২–১ গোলে পরাজিত করে। বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের হেলিপ্যাড ও কে আর মার্কেট এলাকায় অনুষ্ঠিত হয় দুটি ফ্ল্যাশ মব। চলমান ফুটবল বিশ্বকাপের আবহে ফুটবলভিত্তিক সংগীত ব্যবহার করা হয় পরিবেশনায়। ফ্ল্যাশ মবের কোরিওগ্রাফি করেন শিক্ষার্থী আহিল শিহাব।

শুক্রবার রাতে কেক কাটার মাধ্যমে ফিস্টের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মো. বজলুর রহমান মোল্লা, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর মো. আব্দুল আলীম এবং রেজিস্ট্রার কৃষিবিদ ড. হেলাল উদ্দীনসহ অতিথিরা। উদ্বোধনের পর অনুষ্ঠিত হয় গ্র্যান্ড ডিনার ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

শেষ দিনে সমাবর্তন চত্বরে অনুষ্ঠিত হয় কালার ফিস্ট এবং পরে সুইমিংপুলে পুল পার্টি। বিকেলে অতিথি ও শিক্ষার্থীদের জন্য উন্মুক্ত চা-স্টল আয়োজন করা হয়।

সন্ধ্যায় সিনিয়রদের উদ্যোগে ৫৮তম ব্যাচের শিক্ষার্থীদের সম্মানে বিশেষ গ্র্যান্ড ডিনারের আয়োজন করা হয়। পরে র‍্যাফেল ড্র ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে শেষ হয় তিনদিনের আয়োজন।

হলের সিনিয়র শিক্ষার্থী ও বাকৃবি ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মেজবাউল হক মিজু বলেন, হল ফিস্টের মূল উদ্দেশ্য হলো শিক্ষার্থীদের মধ্যে মেলবন্ধন, ভ্রাতৃত্ববোধ ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ধরে রাখা। একই সঙ্গে শিক্ষাজীবনের চাপের মধ্যে একটি আনন্দঘন পরিবেশ তৈরি করাও এ আয়োজনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

ফিস্টে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থী মো. বিদ্রোহী সরকার বলেন, এই আয়োজন তাদের জন্য স্মরণীয় অভিজ্ঞতা হয়ে থাকবে এবং সিনিয়রদের সঙ্গে সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হয়েছে।

শিক্ষার্থী আহসান কবির সিফাত বলেন, এমন আয়োজন পারস্পরিক আন্তরিকতা ও সহযোগিতার পরিবেশকে আরও শক্তিশালী করে।

//ডিবিটেক/আরাফাত হোসাইন/আইইএইচ//