সাইবার পুলিশ গঠন ও প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিকায়নে জোর দিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

সাইবার পুলিশ গঠন ও প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিকায়নে জোর দিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
১০ মে, ২০২৬ ১৩:৫৩  

আর্থিক জালিয়াতি ও প্রযুক্তিনির্ভর নতুন ধরনের অপরাধ মোকাবিলায় সাইবার পুলিশ গঠন এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), বিগ ডাটা ও ডিজিটাল ফরেনসিক সক্ষমতা আরও জোরদারের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের বাস্তবতায় আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর পুলিশ বাহিনী ছাড়া জনগণের নিরাপত্তা ও কাঙ্ক্ষিত সেবা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।

১০ মে, রবিবার রাজারবাগ পুলিশ অডিটোরিয়ামে পুলিশ সপ্তাহ উপলক্ষে পুলিশের ‘কল্যাণ প্যারেড’-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, পুলিশের মহাপরিদর্শক আলী হোসেন ফকিরসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সাইবার ক্রাইম নিয়ন্ত্রণ, আন্তঃদেশীয় অপরাধ দমন, আর্থিক জালিয়াতি প্রতিরোধ এবং সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। এ লক্ষ্যে সাইবার পুলিশ প্রতিষ্ঠা, ডিজিটাল ফরেনসিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, বিগ ডাটা বিশ্লেষণ ও এআই প্রযুক্তির কার্যকর ব্যবহার পুলিশিং ব্যবস্থাকে আরও গতিশীল ও দক্ষ করবে। সরকারের লক্ষ্য হলো একটি সম্পূর্ণ প্রযুক্তিনির্ভর, আধুনিক ও মানবিক পুলিশ বাহিনী গড়ে তোলা।

পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, জনগণের আস্থা অর্জনই পুলিশের সবচেয়ে বড় সাফল্য। জনগণকে সেবা প্রদানে মানবিকতা ও পেশাদারিত্ব বজায় রাখতে হবে। তিনি বলেন, “পুলিশ কোনো দলের নয়, বরং আইনের মাধ্যমে পরিচালিত রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান।”

তিনি আরও বলেন, জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কমিউনিটি পুলিশিং ও ওপেন হাউস ডে’র মতো উদ্যোগ আরও সম্প্রসারণ করা প্রয়োজন, যাতে জনগণ পুলিশের কার্যক্রমে সরাসরি সম্পৃক্ত হতে পারে।

প্রধানমন্ত্রী অভিযোগ করেন, অতীতে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে পুলিশকে জনগণের মুখোমুখি দাঁড় করানো হয়েছিল। সেই অবস্থা থেকে বেরিয়ে এসে এখন সময় এসেছে আস্থা ও সহযোগিতার ভিত্তিতে পুলিশ-জনগণ সম্পর্ক গড়ে তোলার।

তিনি বলেন, গুম-অপহরণ, বিচারবহির্ভূত কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। প্রতিটি নাগরিকের অধিকার রক্ষা করা পুলিশের সাংবিধানিক দায়িত্ব।

পুলিশ বাহিনীর আধুনিকায়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আধুনিক প্রশিক্ষণ, আবাসন, চিকিৎসা সুবিধা, রেশন ও ঝুঁকি ভাতা বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা উন্নয়নের বিষয় সরকার বিবেচনায় রেখেছে।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী প্যারেডে অংশ নেওয়া পুলিশ ও র‌্যাব সদস্যদের অভিনন্দন জানান এবং পুলিশ সপ্তাহ-২০২৬-এর সফলতা কামনা করেন। পরে তিনি ও তার সহধর্মিনী জুবাইদা রহমান বাংলাদেশ পুলিশ নারী কল্যাণ সমিতির (পুনাক) স্টল পরিদর্শন করেন। 

ডিবিটেক/এএসটি/আইএমএম