একই দিনে দেশের ২৯ হাজার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি

স্টার্টআপ, বিজ্ঞান প্রকল্প ও উদ্ভাবনী ভাবনা নিয়ে জাতীয় আয়োজন ২৮ জুন

স্টার্টআপ, বিজ্ঞান প্রকল্প ও উদ্ভাবনী ভাবনা নিয়ে জাতীয় আয়োজন ২৮ জুন
৮ জুন, ২০২৬ ১৬:৫৬  

শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা, উদ্ভাবনী সক্ষমতা ও উদ্যোক্তা মানসিকতা বিকাশে জাতীয় পর্যায়ে “স্টার্টআপ, সায়েন্স প্রজেক্ট অ্যান্ড ইনোভেশন আইডিয়া শোকেজিং প্রোগ্রাম” আয়োজন করতে যাচ্ছে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)। আগামী ২৮ জুন রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিতব্য এ আয়োজনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের।

এডুকেশনাল এক্সিলেন্স সাপোর্ট স্কিম (ইইএসএস)-এর আওতায় আয়োজিত এ কর্মসূচিতে দেশের মাধ্যমিক পর্যায়ের ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা অংশ নেবেন। প্রতিটি দলে তিনজন শিক্ষার্থী ও দুইজন শিক্ষক থাকবেন। উপজেলা, জেলা, মহানগর এবং জাতীয়—এই চার ধাপে আয়োজনটি বাস্তবায়ন করা হবে। 

৮ মে দুপুরে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে  এ তথ্য জানানো হয়। অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন জানান, আগামী ২০ জুলাই এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হবে। এ লক্ষ্যে দেশের সব শিক্ষা বোর্ডকে সুনির্দিষ্ট ও চূড়ান্ত নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ড. মাহ্দী আমিন। সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দুই বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, সংশ্লিষ্ট অধিদফতরের মহাপরিচালকগণ উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদা সম্মেলনে জানানো হয় , আগামী ১২ জুন উপজেলা বা থানা পর্যায়ে শোকেজিং কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হবে। সেখান থেকে নির্বাচিত দলগুলো ১৪ জুন জেলা পর্যায়ে অংশ নেবে। পরবর্তীতে জেলা ও মহানগর পর্যায়ের সেরা ১০০ দল জাতীয় পর্যায়ের অনুষ্ঠানে নিজেদের স্টার্টআপ, বিজ্ঞানভিত্তিক প্রকল্প ও উদ্ভাবনী ধারণা উপস্থাপন করবে।

আয়োজকদের মতে, এই কর্মসূচির মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মুখস্থনির্ভর শিক্ষা থেকে বের করে বিশ্লেষণধর্মী চিন্তা, সৃজনশীলতা, সমস্যা সমাধান দক্ষতা এবং প্রযুক্তিভিত্তিক উদ্ভাবনী চর্চার দিকে উৎসাহিত করা হবে। একই সঙ্গে স্থানীয় সমস্যা সমাধানে স্থানীয় উদ্ভাবনের সুযোগ সৃষ্টি হবে এবং তরুণ উদ্যোক্তা তৈরির পথও উন্মুক্ত হবে।

জাতীয় পর্যায়ের প্রদর্শনী থেকে সেরা ১০টি দলকে ট্রফি প্রদান করা হবে। এছাড়া অংশগ্রহণকারী শিক্ষকদের মধ্য থেকে “সু-শিক্ষায় মেধাবী শিক্ষক পুরস্কার” এবং শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকে “উদ্ভাবনী মেধাবী শিক্ষার্থী পুরস্কার” প্রদান করা হবে। নির্বাচিত শিক্ষকরা ৩০ হাজার টাকা ও সনদপত্র এবং শিক্ষার্থীরা ২০ হাজার টাকা ও সনদপত্র পাবেন।

মাউশি জানিয়েছে, কর্মসূচিটি সরকারের আনন্দময় শিক্ষা, দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষাব্যবস্থা, স্টার্টআপ উন্নয়ন এবং মেধার স্বীকৃতি প্রদানের নীতিগত অঙ্গীকারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিনির্ভর ও বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চায় উদ্বুদ্ধ করার পাশাপাশি ভবিষ্যতের দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলাও এ উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য।

এদিকে একই দিনে লার্নিং এক্সিলারেশন ইন সেকেন্ডারি এডুকেশন (লেইস) প্রকল্পের আওতায় দেশের ২৯ হাজার ৬২১টি মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে একযোগে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালন করা হবে। জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ে শিক্ষার্থীদের সচেতনতা বৃদ্ধি এবং পরিবেশ সংরক্ষণে সম্পৃক্ত করার লক্ষ্য নিয়ে এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, কর্মসূচির আওতায় দেশের ১৮ হাজার ৯০৭টি বিদ্যালয়, এক হাজার ৪৪৬টি স্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং নয় হাজার ২৬৮টি মাদ্রাসায় একটি ফলদ, একটি বনজ ও একটি ঔষধি গাছ রোপণ করা হবে। প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের জন্য জলবায়ু সচেতনতা অনুদান হিসেবে পাঁচ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আগামী পাঁচ বছরে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পাঁচ কোটি গাছ লাগানোর পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এই কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। “ওয়ান চাইল্ড, ওয়ান ট্রি” ধারণার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে শিক্ষার্থীদের সরাসরি বৃক্ষরোপণে সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

কর্মসূচি উপলক্ষে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে র‌্যালি, জলবায়ু সচেতনতামূলক প্রচারণা, ব্যানার ও ফেস্টুন প্রদর্শনের ব্যবস্থা থাকবে। পাশাপাশি কেন্দ্রীয় অনুষ্ঠানটি বড় পর্দায় সরাসরি সম্প্রচার করা হবে এবং ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে অংশগ্রহণকারীরা যুক্ত হওয়ার সুযোগ পাবেন।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, উদ্ভাবন, প্রযুক্তি, উদ্যোক্তা উন্নয়ন এবং পরিবেশ সংরক্ষণ—এই চারটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়কে একই দিনে জাতীয় পরিসরে তুলে ধরার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতমুখী দক্ষতা অর্জন এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়নে নতুন গতি সঞ্চার হবে।

//ডিবিটেক/এসএম/ইকে//