সমালোচনার মুখে নতুন গেম ‘ম্যারাথন’
বানগি স্টুডিওর নতুন গেম ‘ম্যারাথন’ তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছে। একটি অংশ এই গেমকে ব্যর্থ হতে দেখতে চায়, যাকে অনেকে ‘ডেড-অন-অ্যারাইভাল’ বা আগেভাগেই শেষ বলে দিচ্ছে। এমনকি গেমটির ব্যর্থতার জন্য একটি ওয়েবসাইটও তৈরি হয়েছে, যেখানে সরাসরি খেলোয়াড় সংখ্যা পর্যবেক্ষণ করে গেমের মৃত্যুর খবর দেওয়া হচ্ছে। খবর ফোর্বস।
বানগির প্রথম নতুন আইপি হিসেবে ‘ম্যারাথন’ গত এক দশকে সবচেয়ে আলোচিত গেমগুলোর একটি। ২০২৩ সালে ঘোষিত এই গেমটি মুক্তি পায় ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে। স্টিমে সর্বোচ্চ ৬৭ হাজারের মতো খেলোয়াড় পৌঁছালেও বর্তমানে তা ২০ হাজারের কাছাকাছি। কিন্তু তবুও কনকর্ডের ৭০০-এর মতো অবস্থা নয় এই গেমের। অথচ সোশ্যাল মিডিয়ায় ‘কনকর্ড টু’ বলে চিহ্নিত করা হচ্ছে ‘ম্যারাথন’কে।
গেম বিশ্লেষক ও ফোর্বসের সাংবাদিক পল তাসি এই ‘ঘৃণার সংস্কৃতি’র পেছনে কয়েকটি কারণ চিহ্নিত করেছেন। প্রথমত, সাংস্কৃতিক যুদ্ধের ধারা। কনকর্ড ও হাইগার্ডের মতো গেম ব্যর্থ হওয়ায় একটি অংশ এখন যেকোনো নতুন গেমকেই ব্যর্থ হতে দেখতে চায়। দ্বিতীয়ত, হিরো শ্যুটার ও লাইভ-সার্ভিস গেমের প্রতি সাধারণ ক্ষোভ। তৃতীয়ত, বানগির প্রতি পুরোনো ডেসটিনি ভক্তদের ক্ষোভ।
অনেকের মতে, ‘ম্যারাথন’ বানাতে গিয়ে ডেসটিনি ২-এর উন্নয়ন ব্যাহত হয়েছে এবং ডেসটিনি ৩ এখন অনিশ্চিত। চতুর্থত, স্টিম চার্ট দেখে গেমের ব্যর্থতায় ‘বাজি’ ধরার একটা প্রবণতা তৈরি হয়েছে, যা এখন ইন্টারনেটে এক ধরণের ‘ক্রীড়া’ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সোশ্যাল মিডিয়ায় ‘ম্যারাথন’কে ‘কনকর্ড ২’ আখ্যা দিয়ে তোলপাড় সৃষ্টি হলেও গেমটির প্রকৃত অবস্থা সম্পূর্ণ ভিন্ন। পেইড গেম হিসেবে ৪০ ডলার দামে এটি স্টিমের শীর্ষ বিক্রিত গেমের তালিকায় তৃতীয় স্থানে পৌঁছেছিল। বর্তমানে এটি দৈনিক গড়ে ১৮ হাজার খেলোয়াড় ধরে রেখেছে, যা টিকে থাকার জন্য যথেষ্ট। বানগির ডেসটিনি ২-এর ইঞ্জিনে তৈরি না হওয়ায় গেমটির ভবিষ্যৎ সম্পর্কে নিশ্চিত করে কিছু বলা না গেলেও, মুক্তির সপ্তাহ তিনেকের মধ্যেই এটি বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা নেই বলেই মত দিচ্ছেন বিশ্লেষকরা।
ডিবিটেক/বিএমটি



