টেলিকম খাতে বড় সংস্কার: ওটিটি ও ইন্টারমিডিয়ারি এখন আইনি নজরদারিতে

টেলিকম খাতে বড় সংস্কার: ওটিটি ও ইন্টারমিডিয়ারি এখন আইনি নজরদারিতে
৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ১০:৪৪  
৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ১২:৫১  

টেলিযোগাযোগ খাতে যুগান্তকারী পরিবর্তনের লক্ষ্যে সরকার ‘বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৬’ জারি করেছে। নতুন এই সংশোধনীতে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো ফেসবুক, ইউটিউব, হোয়াটসঅ্যাপের মতো ‘ওভার দ্য টপ’ (OTT) সেবা এবং বিভিন্ন ‘ইন্টারমিডিয়ারি’ বা অনলাইন প্ল্যাটফর্মকে সরাসরি আইনের আওতায় নিয়ে আসা। 

কী আছে নতুন এই সংশোধনীতে?
ওটিটি ও ইন্টারমিডিয়ারি প্ল্যাটফর্মের সংজ্ঞা: প্রথমবারের মতো ওটিটি এবং ইন্টারমিডিয়ারি বা মধ্যস্থ সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের সুস্পষ্ট সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। এখন থেকে ইউটিউব, স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম, এমনকি ফেসবুকের মতো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোকেও বিটিআরসি-র গাইডলাইন মেনে বাংলাদেশে কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে।
বিটিআরসি-র নাম ও ক্ষমতা পরিবর্তন: নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসি-র নামে থাকা ‘নিয়ন্ত্রণ’ (Control) শব্দটি বাদ দিয়ে এটিকে ‘রেগুলেটরি’ (Regulatory) হিসেবে পুনর্নামকরণ করা হয়েছে। এছাড়া কমিশনের কমিশনার সংখ্যা বাড়িয়ে দুইজন করা হয়েছে।
প্রযুক্তিগত আধুনিকায়ন: নতুন আইনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), জেনারেটিভ এআই, আইওটি (IoT), এবং ফ্রন্টায়ার টেকনোলজির মতো উদীয়মান প্রযুক্তিগুলোকে ‘টেলিযোগাযোগ সেবা’র অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর ফলে এই খাতের নতুন উদ্ভাবনগুলো এখন থেকে আইনি কাঠামোর মধ্যে থাকবে।
কঠোর শাস্তির বিধান: দেশের সীমানার বাইরে বসে কেউ যদি বাংলাদেশের অভ্যন্তরে কোনো সাইবার অপরাধ বা টেলিকম আইন লঙ্ঘন করেন, তবে তাকে এমনভাবে বিচারের আওতায় আনা হবে যেন অপরাধটি বাংলাদেশেই সংঘটিত হয়েছে। এমনকি কোনো সংস্থা বা বাহিনীর সদস্য এই আইন লঙ্ঘন করলে তাদের বিরুদ্ধেও ফৌজদারি ব্যবস্থা গ্রহণের বিধান রাখা হয়েছে।
সামাজিক দায়বদ্ধতা তহবিল (SOF): দুর্গম এলাকায় ইন্টারনেট ও টেলিকম সেবা পৌঁছে দিতে একটি শক্তিশালী ‘সামাজিক দায়বদ্ধতা তহবিল’ গঠনের কথা বলা হয়েছে, যার প্রধান হবেন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী।

​এই সংশোধনীটি একদিকে যেমন প্রযুক্তির আধুনিকায়নের পথ প্রশস্ত করবে, অন্যদিকে ওটিটি এবং সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলোর ওপর সরকারের নিয়ন্ত্রণ আরও জোরালো করবে। বিশেষ করে ‘ইন্টারমিডিয়ারি’ গাইডলাইন প্রণয়নের ক্ষমতা বিটিআরসি-কে দেওয়ায় অনলাইন কনটেন্ট ফিল্টারিং বা রেগুলেশনের ক্ষেত্রে কমিশন আরও শক্তিশালী ভূমিকা পালন করতে পারবে।

​তবে দক্ষ প্রকৌশলী এবং প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের কমিশনের সদস্য করার যে বাধ্যবাধকতা (কমপক্ষে ১৫ বছরের অভিজ্ঞতা) আনা হয়েছে, তা টেলিকম খাতের পেশাদারিত্ব বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

​সংসদ ভেঙে যাওয়ার বিশেষ পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রপতির এই অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছে। গেজেট প্রকাশের দিন থেকেই এটি কার্যকর হয়েছে। এটি দেশের টেলিকম এবং ডিজিটাল ইকোসিস্টেমে এক নতুন যুগের সূচনা করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ডিবিটেক/আইএইচ/এমএম