কেন ২০২৬ সালেই আপনার অ্যান্ড্রয়েড ফোনটি বদলাতে হতে পারে?

কেন ২০২৬ সালেই আপনার অ্যান্ড্রয়েড ফোনটি বদলাতে হতে পারে?
১৮ মে, ২০২৬ ২০:০০  

বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি অ্যান্ড্রয়েড স্মার্টফোন ব্যবহারকারীর জন্য চরম এক হতাশার খবর নিয়ে এলো গুগল। আপনি যদি গুগলের সবচেয়ে আধুনিক এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ফিচার ব্যবহার করতে চান, তবে ২০২৬ সালের আগে বাজারে আসা কোনো ফোনই আর যথেষ্ট নয়। এমনকি স্যামসাংয়ের মাত্র কিছুদিন আগে বাজারে আসা প্রায় দেড় লাখ টাকা মূল্যের গ্যালাক্সি এস২৫ সিরিজও গুগলের এই নতুন আপগ্রেডের তালিকায় জায়গা পায়নি।

অ্যান্ড্রয়েড বিশেষজ্ঞদের বরাতে জানা গেছে, গুগলের নতুন ‘জেমিনি ইন্টেলিজেন্স’ ফিচারগুলো পেতে হলে স্মার্টফোনে অত্যন্ত শক্তিশালী হার্ডওয়্যার এবং উন্নত মেমোরি স্পেসিফিকেশন প্রয়োজন। যার অর্থ, গুগলের নিজস্ব ‘পিক্সেল ১০’ সিরিজ এবং স্যামসাংয়ের আসন্ন ‘গ্যালাক্সি এস২৬’ সিরিজের মতো একদম সর্বশেষ প্রযুক্তির ফোন ছাড়া এই সেবা মিলবে না।

নতুন আপগ্রেডের কঠোর শর্তাবলি
প্রযুক্তি পোর্টালগুলোর তথ্য অনুযায়ী, গুগলের এই ‘জেমিনি ইন্টেলিজেন্স’ প্ল্যাটফর্মের রিকোয়ারমেন্ট বা শর্তাবলি এতটাই কঠোর যে, অনেক দামি ফ্ল্যাগশিপ ফোনও বাদ পড়ে যাচ্ছে। প্রযুক্তিপ্রেমীরা রসিকতা করে একে তুলনা করছেন কোনো অভিজাত ক্লাবের বাউন্সারের সঙ্গে, যে চাইলেই সবাইকে ভেতরে ঢুকতে দেয় না।

এআই ফিচারের পাশাপাশি গুগলের এই আপগ্রেড পেতে হলে যেকোনো স্মার্টফোনে অন্তত ৫টি প্রধান অ্যান্ড্রয়েড ওএস আপগ্রেড এবং টানা ৬ বছরের সিকিউরিটি প্যাচ থাকার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, চলতি বছরের শেষের দিকে স্যামসাংয়ের নতুন ফোল্ডেবল ফোন ‘গ্যালাক্সি জেড ফোল্ড ৮’-এর মাধ্যমে এই ফিচারগুলোর আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হতে পারে।

নিরাপত্তা বনাম এআইয়ের ভবিষ্যৎ
গুগল দাবি করেছে, এই নতুন প্রযুক্তিটি তৈরি করা হয়েছে ব্যবহারকারীর নিরাপত্তা ও সর্বোচ্চ গোপনীয়তাকে কেন্দ্র করে। ব্যবহারকারীরা চাইলে যেকোনো সময় নির্দিষ্ট কোনো এআই ফিচার চালু বা বন্ধ করতে পারবেন। ফলে এআই কোনো অনুপ্রবেশকারী নয়, বরং একজন বিশ্বস্ত সহকারী হিসেবে কাজ করবে।

তবে এই শক্তিশালী কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সাধারণ মানুষের ফোন ব্যবহারের অভিজ্ঞতাকে পুরোপুরি বদলে দেবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। প্রযুক্তি বিষয়ক পোর্টাল ‘অ্যান্ড্রয়েড অথরিটি’ প্রশ্ন তুলেছে—‘জেমিনি যদি ব্যবহারকারীর হয়ে সব অনুসন্ধান, পরিকল্পনা, তুলনা ও চ্যাটের উত্তর একাই দিয়ে দিতে পারে, তবে ফোনে অ্যান্ড্রয়েড ওএসের আর আলাদা কী দরকার?’

অ্যাপলকে টেক্কা দেওয়ার চেষ্টা!
এদিকে আগামী জুন মাসের ৮ তারিখে শুরু হতে যাচ্ছে অ্যাপলের বার্ষিক সম্মেলন ‘ডব্লিউডব্লিউডিসি ২০২৬’। তার ঠিক এক মাস আগেই গুগলের এই জেমিনি ইন্টেলিজেন্সের ঘোষণা দেওয়াকে কাকতালীয় বলে মানতে নারাজ বিশ্লেষকরা। অ্যাপল দুই বছর আগে ‘অ্যাপল ইন্টেলিজেন্স’ আনার ঘোষণা দিলেও এখনো অনেক ফিচার পুরোপুরি চালু করতে পারেনি। সেই সুযোগেই বাজার ধরতে চাইছে গুগল।

তবে গুগলের এই অবিশ্বাস্য ফিচারগুলো উপভোগ করতে হলে গ্রাহকদের পকেট থেকে যে মোটা অঙ্কের টাকা খসিয়ে ২০২৬ সালের নতুন মডেলের হ্যান্ডসেট কিনতে হবে, তা এক প্রকার নিশ্চিত।

ডিবিটেক/বিএমটি   ।   সূত্র: ফোর্বস