প্রোবায়োটিক গবেষণা সহায়তায় কুখ্যাত এপস্টেইন ফাইলে আইসিডিডিআর’বি

প্রোবায়োটিক গবেষণা সহায়তায়  কুখ্যাত এপস্টেইন ফাইলে আইসিডিডিআর’বি
২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ০০:২৪  

যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের প্রকাশিত বহুল আলোচিত এপস্টেইন ফাইলে রয়েছে বাংলাদেশের নামও। সেখানে স্থান পাওয়া একটি ই-মেইলে প্রকাশ হয়েছে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন গবেষণাপ্রতিষ্ঠান আইসিডিডিআরবির নাম।

আইসিডিডিআরবিকে বাংলাদেশে একটি ‘অতি সুপরিচিত প্রতিষ্ঠান’ উল্লেখ করে ওই ই-মেইলটিতে প্রতিষ্ঠানটিতে দীর্ঘমেয়াদি প্রোবায়োটিক গবেষণায় বিনিয়োগের একটি প্রস্তাবের কথা বলা হয়েছে। কুখ্যাত মার্কিন ধনকুবের জেফরি এপস্টেইনকে তার এক ঘনিষ্ঠ সহযোগীর পক্ষ থেকে ২০১৪ সালের ১৭ এপ্রিল ই-মেইলটি পাঠানো হয়।

প্রকাশিত নথি অনুযায়ী, ই-মেইলটির বিষয় ছিল ‘আন্ত্রিক জীবাণুবিদ্যা-আইসিডিডিআরবি’। 

ই-মেইলে প্রস্তাব করা হয়, বাংলাদেশে আইসিডিডিআরবিকে কেন্দ্র করে একটি সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বে গবেষণা উদ্যোগ গড়ে তোলা যেতে পারে, যেখানে তুলনামূলক কম বিনিয়োগে ভবিষ্যতে উৎপাদিত যেকোনো প্রোবায়োটিক বা সংশ্লিষ্ট পণ্যের মুনাফা থেকে ৩ শতাংশ নিশ্চিত লাভ পাওয়ার সুযোগ থাকবে।

ই-মেইলে আরও বলা হয়, আইসিডিডিআরবি একটি দাতব্য প্রতিষ্ঠানের মর্যাদাপ্রাপ্ত হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের ৫০১(সি)(৩) কাঠামোর আওতায় এ ধরনের বিনিয়োগ করছাড়ের সুবিধাও পেতে পারে। প্রস্তাবদাতা এটিকে ‘১০ বছরের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা’ হিসেবে উল্লেখ করেন এবং এমন একটি অংশীদারত্বকে ‘বড় সাফল্য’ হিসেবে আখ্যা দেন।

এপস্টেইন-সংক্রান্ত নথিতে পরে পাওয়া যায় ২০১৫ সালের ১৪ জুলাই একটি ‘আইমেসেজ’ কথোপকথন, যা এপস্টেইনের নিজস্ব যোগাযোগ বৃত্তের মধ্যেই হয়েছিল। সেখানে এক অজ্ঞাতনামা সহযোগী এপস্টেইনকে প্রশ্ন করেন, ‘বাংলাদেশে তুমি কী চেষ্টা করেছিলে? আমার মনে নেই।’ জবাবে এপস্টেইন লেখেন, ‘আমি একবার চেষ্টা করেছিলাম, মনে আছে—বাংলাদেশে সাহায্য করার জন্য, কলেরা ইত্যাদি নিয়ে। পরে কোটি টাকা জড়াল, কিন্তু ফলাফল ছিল ভয়াবহ—সবই খারাপ।’  

এ ছাড়া এপস্টেইন ফাইলে অন্তর্ভুক্ত আরেকটি ই-মেইলে দেখা যায়, এপস্টেইনের এক ঘনিষ্ঠ সহযোগী বাংলাদেশ ও ভারতে ভ্রমণ করেছিলেন। যদিও ওই সফরের নির্দিষ্ট উদ্দেশ্য বা কার্যক্রম সম্পর্কে নথিতে বিস্তারিত উল্লেখ নেই।

ডিবিটেক/এপিএন/ইকে