অনলাইনেই নিবন্ধন ও অনুমোদন প্রক্রিয়া একীভূত করে ‘বাংলাবিজ ২.০’ চালু

অনলাইনেই নিবন্ধন ও অনুমোদন প্রক্রিয়া একীভূত করে ‘বাংলাবিজ ২.০’ চালু
১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ১৯:৩১  

বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি একক, পূর্ণাঙ্গ ও ডিজিটাল বিনিয়োগ সেবা প্ল্যাটফর্ম গড়ে তোলার পথে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল বাংলাদেশ। যৌথ উদ্যোগে ১ ফেব্রুয়ারি, রবিবার উন্মোচন করা হলো বাংলাবিজ প্ল্যাটফর্মের নতুন সংস্করণ বাংলাবিজ ২.০। 

ঢাকার আগারগাঁওয়ে বিডা কার্যালয়ে দেশি ও বিদেশি ব্যবসায়ী প্রতিনিধি, সরকারি কর্মকর্তা এবং উন্নয়ন সহযোগীদের উপস্থিতিতে বাংলাবিজের দ্বিতীয় সংস্করণ বাংলা বিজ- ফেইজ ২ যৌথভাবে উদ্বোধন করে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) ও জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সির (জাইকা)।

অনুষ্ঠানে নতুন সংস্করণের মূল কার্যকারিতা ও বিনিয়োগ সেবা গ্রহণের প্রক্রিয়া সরাসরি উপস্থাপন করা হয়। দেখানো হয়, বাংলাবিজ ২.০–তে যুক্ত হওয়া নতুন ফিচারের মাধ্যমে ‘বিজনেস স্টার্টার প্যাকেজ’-এর আওতায় ব্যবসা শুরু করতে প্রয়োজনীয় পাঁচটি প্রধান অনুমোদন, যেমন; নেম ক্লিয়ারেন্স, অস্থায়ী ব্যাংক হিসাব খোলা, কোম্পানি নিবন্ধন, ই-টিআইএন এবং ট্রেড লাইসেন্স এখন থেকে একটি মাত্র আবেদনের মাধ্যমে সম্পন্ন করা যাবে। এর ফলে বিনিয়োগকারীরা মাত্র তিন কার্যদিবসের মধ্যেই ব্যবসা নিবন্ধনের প্রক্রিয়া শেষ করতে পারবেন।

এছাড়াও প্রয়োজনীয় সব অনুমোদন প্রক্রিয়া পরিচালনা সহজ করতে পরিবেশ ছাড়পত্র, ভ্যাট নিবন্ধন, কারখানা ও অগ্নিনিরাপত্তা–সংক্রান্ত লাইসেন্স, আমদানি ও রপ্তানি নিবন্ধন সনদ (আইআরসি ও ইআরসি)সহ ২০টিরও বেশি বহুল ব্যবহৃত ব্যবসায়িক অনুমোদন বাংলাবিজ প্ল্যাটফর্মে সরাসরি যুক্ত করা হয়েছে। একইভাবে বিনিয়োগকারীরা সংশ্লিষ্ট খাত অনুযায়ী অনুমোদন ক্ষেত্রে কোন ধরনের ডকুমেন্টস সাবমিট করা বাধ্যতামূলক  ‘নো ইওর অ্যাপ্রুভালস’ ফিচারের মাধ্যমে তা আগেই শনাক্ত করতে পারবেন। বাংলাবিজ আইডি ব্যবহার করে ব্যবসার প্রোফাইল ব্যবস্থাপনা, তথ্য শেয়ারিং এবং বিভিন্ন সংস্থায় দাখিল করা আবেদনের অগ্রগতি সহজে ট্র্যাক করা যাবে। ভবিষ্যতে এটি জাতীয় পর্যায়ে ইউনিক বিজনেস আইডি চালুর ভিত্তি তৈরি করবে। পাশাপাশি সিঙ্গেল সাইন-অন সুবিধার ফলে একটি মাত্র লগইন ব্যবহার করে বাংলাবিজ ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংস্থার ওএসএস সিস্টেমে নির্বিঘ্নে প্রবেশ করা সম্ভব হবে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জাইকার বাংলাদেশ অফিসের প্রধান তোমোহিদে ইচিগুচি বলেন, বিনিয়োগকারীরা দীর্ঘদিন ধরে স্বচ্ছ দ্রুত ও পূর্বানুমেয় সরকারি সেবার জন্য দাবি জানিয়ে আসছিলেন। বাংলাবিজ সেই দাবির একটি বাস্তব ও কার্যকর সমাধান। অনলাইন সিস্টেমে ব্যবসা নিবন্ধন ও অনুমোদন প্রক্রিয়া একীভূত করার মাধ্যমে বাংলাবিজ বাংলাদেশের বিনিয়োগ পরিবেশকে বিশ্বমানের একটি ইকোসিস্টেমে রূপান্তর করবে।

তিনি আরও বলেন, জাইকা বিনিয়োগবান্ধব, স্বচ্ছ ও পূর্বানুমেয় ব্যবসা পরিবেশ গড়ে তুলতে বাংলাদেশকে সহায়তা অব্যাহত রাখবে।

সভাপতির বক্তব্যে বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী বলেন, বিনিয়োগকারীদের প্রয়োজন নির্দিষ্ট সময়সীমা, স্বচ্ছ কার্যপ্রবাহ এবং কাজ সম্পন্ন করার জন্য একটি নির্ভরযোগ্য প্ল্যাটফর্ম। তাই বাংলাবিজ একটি মাল্টি-এজেন্সি সার্ভিস পোর্টাল হিসেবে গড়ে তোলা হচ্ছে, যাতে দেশি ও বিদেশি বিনিয়োগকারীদের ব্যবসা পরিচালনার জটিলতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসে।

তিনি আরও বলেন, গত সপ্তাহে প্রধান উপদেষ্টার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বিডার গভর্নিং বোর্ডের বৈঠকে বাংলাবিজকে বিনিয়োগসংক্রান্ত সব সরকারি সেবার একক প্রবেশদ্বার হিসেবে নির্ধারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং শিগগির এটি গেজেট আকারে প্রকাশ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এসময়ে তিনি জানান, এই প্ল্যাটফর্ম বাংলাদেশকে ডিজিটাল বিনিয়োগ সেবায় বৈশ্বিক মানদণ্ডের আরও কাছাকাছি নিয়ে যাবে।

প্রধান উপদেষ্টার আন্তর্জাতিক বিষয়ক বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকী, জাপানের রাষ্ট্রদূত সাইদা স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মো. রেজাউল মাকসুদ জাহেদী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। 

লুৎফে সিদ্দিকী বলেন, সরকারি সেবা ডিজিটাল করতে হলে তা ব্যবহারকারীকেন্দ্রিক ও শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সম্পূর্ণ ডিজিটাল হতে হবে। একই সঙ্গে অপ্রয়োজনীয় ও জটিল প্রক্রিয়া সহজ করা এবং যেখানে সম্ভব সেগুলো বাদ দেওয়াও জরুরি।

ডিবিটেক/জিএনও/ইকে