প্রযুক্তি জালিয়াতি ব্যবহারে সজাগ হয়ে তরুণদের উদ্যোক্তা হওয়ার প্রতি গুরুত্বারোপ
ইন্টারনেট বন্ধে মহাপরিক্রমশালী সরকারকে পালাতে হয়েছে
তরুণদের ওপর খবরদারি বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মাদ ইউনূস। বিগত সরকারের পতনের পেছনে ‘ইন্টারনেট বন্ধ’ বড় ভূমিকা পালন করছে উল্লেখ করে তিনি বলেছেন, ইন্টারনেট যখন বন্ধ করে দেয়া হয়েছিলো তখন, সমস্ত তরুণরা বিক্ষুব্ধ হয়ে গিয়েছিলো। সে বিক্ষোভের পরিমাণ এতো ছিলো, তারা ফুটন্ত তেলের মতো টগবগ করছিলো। কী হয়েছে? ইন্টারনেট বন্ধ হয়ে গিয়েছিলো। এখন বুঝেন, ইন্টারনেট তাদের কত প্রাণের জিনিস। সে সহ্য করতে পারছে না। এমন টগব করলো, শেষ পর্যন্ত একটা মহারাক্রমশালী সরকারকে পালাতে হলো। এই ইন্টারনেট বন্ধ তার একটা বড় ভূমিকা রেখেছিলো।
ইন্টারনেটের এমন শক্তি এবং তরুণদের শক্তিকে অগ্রাহ্য না করে যেসব স্থানে ইন্টারনেট পৌঁছেনি সেসব স্থানে সংযোগ পৌঁছে দেয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন অন্তর্বর্তী সরকারের এই প্রধান ব্যক্তি। তিনি বলেন, ইন্টারনেট থাকলে অবসরপ্রাপ্ত সেরা শিক্ষকরাও পার্বত্য ও দুর্যোগ এলাকায় শিক্ষার আলো পৌঁছে দেয়া সম্ভব হবে। ইন্টারনেট ছাড়া গতিহীনতা আমাদের শেষ করে দেবে।
টুকটাক প্রাযুক্তিক উন্নয়নে সীমাবদ্ধ না রেখে প্রযুক্তির মাধ্যমে বিশ্ব নাগরিক হিসেবে পৃথিবীর অংশীদার হওয়ার আহ্বান জানান প্রধান উপদেষ্টা। তিনি বলেন, তথ্যপ্রযুক্তির কল্যাণেই নাগরিককে সেবার জন্য সরকারের কাছে আসতে হবে না। আসতে না হলে দুর্নীতি বন্ধ হবে। তখন দুই পক্ষই যদি অন্য টেকনিক ব্যবহার করলে সেজন্য প্রতিষেধক বের করার আহ্বান জানান নোবেলজয়ী এই বাংলাদেশী। তিনি বলেন, প্রযুক্তিতে এখনো অনেক কিছু করার আছে।
২৮ জানুয়ারি দুপুরে আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ চায়না ফ্রেন্ডশিপ কনফারেন্স সেন্টারে ‘ডিজিটাল ডিভাইস অ্যান্ড ইনোভেশন এক্সপো ২০২৬’র উদ্বোধনী বক্তব্যে এসব কথা বলেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেন, বরাবরই আমরা সবার জন্য চাকরির আশ্বাস দেই। ধরে নিয়েছি, মানুষকে শুধুই চাকরি করতে হবে। আর কিছু নেই। এই চাকরিটাই এসেছে দাস প্রথা থেকে। এখন বেতনের বিনিময়ে আমরা দাস। কিন্তু প্রযুক্তি আমাদের দাস প্রথা থেকে বের করে সৃজনশীল হওয়ার সুযোগ এনে দিয়েছে। কিন্তু আমরা প্রযুক্তি যে দাস প্রথা থেকে বেরিয়ে সৃজনশীল হয়ে প্রযুক্তিকে ব্যবহার করে উদ্যোক্তা হওয়ার দিকে তরুণদের চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিতে হবে। তবে এ জন্য যারা সরকারের কাছে আর্থিক সহায়তা চাইবে তাদের সন্দেহের চোখে দেখতে হবে।
বক্তব্যে প্রযুক্তিকে জালিয়াতির কাজে না লাগানোর প্রতি সবাইকে আহ্বান জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা। এজন্য সমাজে ন্যায্যতা প্রতিষ্ঠা করার প্রতি গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ, বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষ এবং বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতি (বিসিএস) ত্রিপাক্ষিক অংশীদারিত্বে শুরু হওয়া এই মেলায় বিশেষ অতিথি হিসেবে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমাদ তৈয়্যব, আইসিটি বিভাগের সচিব শীষ হায়দার চৌধুরী, বাংলাদেশ হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোঃ মামুনুর রশীদ এবং বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।
ডিবিটেক/আইএইচ/এমইউএম



