প্রযুক্তি পেশাদারদের জন্য নতুন ভিসা চালু করলো চীন
যুক্তরাষ্ট্রের 'এইচ-১বি' ভিসার আবেদনে ১ লাখ ডলার ফি আরোপের মধ্যে আতঙ্ক ও বিভ্রান্তির মধ্যে তরুণ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি পেশাদারদের আকৃষ্ট করতে নতুন ক্যাটাগরির ভিসা ঘোষণা করেছে চীন। ইতোমধ্যে সাধারণ ভিসা বিভাগগুলোতে নতুন এই 'কে ভিসা' যোগ করা হয়েছে।
সংবাদ সংস্থা সিনহুয়া'র প্রতিবেদন অনুসারে, নতুন নিয়মটি আগামী ১ অক্টোবর থেকেই কার্যকর হবে। এর লক্ষ্য বিশ্বজুড়ে বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল এবং গণিতে দক্ষ তরুণ পেশাদারদের আকর্ষণ করা। গালফ নিউজের প্রতিবেদন অনুসারে, চীনের ১২টি সাধারণ ভিসা ক্যাতাগরির তুলনায় 'কে ভিসা' বেশ কিছু সুবিধা প্রদান করে।
তবে কে ভিসার সামনে নানা প্রশ্নও আছে। চীনা সরকারের নির্দেশনায় অস্পষ্টভাবে বলা হয়েছে বয়স, শিক্ষাগত যোগ্যতা ও কাজের অভিজ্ঞতার প্রয়োজনীয়তার কথা। আর্থিক সুবিধা, স্থায়ী আবাসনের সুযোগ বা পারিবারিক স্পনসরশিপ নিয়েও কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি।
যুক্তরাষ্ট্রের আইওয়াভিত্তিক অভিবাসন আইনজীবী ম্যাট মাউনটেল-মেডিসি বলেন, প্রতীকী দিক থেকে বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। যুক্তরাষ্ট্র বাধা তৈরি করছে, আর চীন সেই বাধা কমাচ্ছে।
তবে কে ভিসার সামনে নানা প্রশ্নও আছে। চীনা সরকারের নির্দেশনায় অস্পষ্টভাবে বলা হয়েছে বয়স, শিক্ষাগত যোগ্যতা ও কাজের অভিজ্ঞতার প্রয়োজনীয়তার কথা। আর্থিক সুবিধা, স্থায়ী আবাসনের সুযোগ বা পারিবারিক স্পনসরশিপ নিয়েও কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি। যুক্তরাষ্ট্রের মতো চীন বিদেশিদের নাগরিকত্ব দেয় না, কেবল বিরল ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম ঘটে। ভাষাগত বাধাও একটি বড় সমস্যা, কারণ বেশিরভাগ চীনা প্রযুক্তি কোম্পানি ‘মান্দারিন’ ভাষায় পরিচালিত হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কে ভিসার প্রধান সুবিধা হলো- এতে কোনো স্পনসরিং নিয়োগকর্তার প্রয়োজন নেই। অথচ এইচ-১বি ভিসায় কেবল ৮৫ হাজার স্লট বরাদ্দ থাকে ও তা লটারির মাধ্যমে দেওয়া হয়। আবার নতুন ১ লাখ ডলারের ফি অনেক আবেদনকারীকে নিরুৎসাহিত করবে।
চীনের মেধা নিয়োগ নীতি ঐতিহ্যগতভাবে বিদেশে থাকা চীন-জন্ম বিজ্ঞানী ও প্রবাসী চীনা নাগরিকদের ঘিরেই থেকেছে। তাদের জন্য বাড়ি কেনার ভর্তুকি ও ৫০ লাখ ইউয়ান (৭ লাখ ২ হাজার ডলার) পর্যন্ত বোনাসের মতো সুবিধা দেওয়া হয়েছে। এতে যুক্তরাষ্ট্রে থাকা অনেক চীনা এসটিইএম পেশাজীবী দেশে ফিরে আসছেন, বিশেষ করে ওয়াশিংটনের বাড়তি নজরদারির কারণে।
তবে ভারতীয় প্রযুক্তি প্রতিভা টানার প্রচেষ্টা এখনও তুলনামূলকভাবে সীমিত। সিচুয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ের দাস বলেন, চীন-জন্ম মেধাবীদের ফেরাতে যতটা শক্তিশালী উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, ভারতীয়দের জন্য ততটা নয়।
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক একটি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানে চাকরি পাওয়া চীনা এসটিএম কর্মী বলেন, চীন অভিবাসনের ওপর ভর করে না। স্থানীয় প্রতিভা টানতে বহু উপায় আছে। তাই কে ভিসার কার্যকারিতা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে।
প্রসঙ্গত, চীনে দক্ষ স্থানীয় প্রকৌশলীর অভাব নেই। তবু বিদেশি বিনিয়োগ ও মেধাবীদের জন্য দেশকে আরও উন্মুক্ত হিসেবে উপস্থাপন করতে এই কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কবাণিজ্য নীতির কারণে অর্থনৈতিক দিগন্ত ম্লান হয়ে ওঠায় চীন সম্প্রতি একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছে, যেমন- বিনিয়োগের জন্য আরও খাত খুলে দেওয়া, ইউরোপের বেশিরভাগ দেশ, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার নাগরিকদের জন্য ভিসা ছাড় দেওয়াসহ নানা উদ্যোগ তার মধ্যে রয়েছে।





