নভেম্বরে পোস্টাল ভোট বিডি উদ্বোধন

নভেম্বরে পোস্টাল ভোট বিডি উদ্বোধন
২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ১৭:৫১  

নভেম্বরের তৃতীয় সপ্তাহে প্রবাসীদের ভোট দেওয়ার অ্যাপ পোস্টাল ভোট বিডি উদ্বোধন করা হবে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার (ইসি) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ। ২৪ সেপ্টেম্বর, বুধবার নির্বাচন কমিশনে বাংলাদেশ হাইকমিশন, লন্ডন ও লন্ডন প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে আউট অব কান্ট্রি ভোটিং সংক্রান্ত মতবিনিময় সভা শেষে এ তথ্য জানান তিনি। 

আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বলেন, দেশের বাইরে থেকে ভোট দেওয়ার জন্য আউট অব কান্ট্রি ভোটিং রেজিস্ট্রেশনের জন্য আমরা একটা অ্যাপ ডেভেলপ করছি। নভেম্বরে এই অ্যাপটা লঞ্চ হবে। নভেম্বরের সেকেন্ড বা থার্ড উইকে আমরা চেষ্টা করছি।

তিনি বলেন, প্রবাসী ভোট নিয়ে দীর্ঘদিন আলোচনার পর এবার একটি হাইব্রিড সমাধান নেওয়া হয়েছে। আগ্রহী ভোটাররা অনলাইনে নিবন্ধন করলে প্রতীকসম্বলিত ব্যালট আগেই তাদের কাছে পাঠানো হবে। প্রথমে ভোটার নিবন্ধন করতে হবে, এর পর আউট অব কান্ট্রি ভোটিংয়ের জন্য আলাদা রেজিস্ট্রেশন করতে হবে। এজন্য তৈরি করা হয়েছে একটি অ্যাপ, যা নভেম্বরের তৃতীয় সপ্তাহে চালু হবে। প্রতিটি অঞ্চলে ৭ থেকে ১০ দিন সময় দেওয়া হবে নিবন্ধনের জন্য, প্রয়োজনে আরো ৩ থেকে ৭ দিন বাড়ানো হবে। ওই সময় আমরা আগে থেকে সার্কুলার দিয়ে জানিয়ে দেবো– কোন অঞ্চল থেকে কবে রেজিস্টার করতে পারবেন ভোটাররা। 

তিনি জানান, বিশ্বব্যাপী প্রবাসী ভোটের ছয়টি প্রচলিত পদ্ধতির মধ্যে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয় ইন-পারসন ভোটিং ও পোস্টাল ব্যালট। বাংলাদেশ প্রস্তাব করেছিল পোস্টাল ব্যালট, প্রক্সি ভোটিং এবং অনলাইন ভোটিং। তবে, আপাতত অনলাইন ভোটিং সম্ভব নয় এবং রাজনৈতিক সমর্থন না থাকায় প্রক্সি ভোটও বাদ দেওয়া হয়েছে। 

নভেম্বর নাগাদ অ্যাপ চালু হলে সেটি প্রবাসীদের কাছে উপস্থাপন করা হবে জানিয়ে ইসি কমিশনার বলেন,  অ্যাপটা খুব সংক্ষেপে স্ক্রিন শেয়ারিংয়ের মাধ্যমে প্রেজেন্ট করবো। এ অ্যাপটা আগামী নভেম্বর থার্ড উইকে চালু করবো। সেখানে আমরা সবকিছু বলে দেব তার আগে যথাযথ সার্কুলেশনের মাধ্যমে এটা নিয়ে কাজ করছি। পোস্টাল ব্যালটে প্রবাসীদের ভোট নিয়ে গোপনীয়তার চ্যালেঞ্জ আছে। গোপনীয়তা যেন লঙ্ঘিত না হয়, সেজন্য সচেতনতা তৈরি করতে হবে। ভোটের আগে শেষ সময়ে আদালত কর্তৃক কোন আসনের প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিল হলে সেই আসনের সব প্রবাসী ভোট বাতিল হবে। এ সীমাবদ্ধতা নিয়ে এগোচ্ছে ইসি।

তিনি বলেন, বাস্তবতায় এর কাঠামোগত সীমাবদ্ধতা ছিল। ২০০৮ সালে লন্ডনে প্রথম আলোচনার পর প্রবাসী ভোটের বিধান আনা হলেও এতদিন তা কার্যকর হয়নি। সময় সংকটের কারণে ব্যালট পাঠানো ও ফেরত আনার সুযোগ তৈরি হয়নি। এজন্য এবার নতুন একটি হাইব্রিড সমাধান নেওয়া হয়েছে। আগ্রহী ভোটাররা অনলাইনে রেজিস্ট্রেশন করলে প্রতীক-সম্বলিত ব্যালট আগেই তাদের কাছে পাঠানো হবে। 

নিবন্ধন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দুটি ধাপে কাজ হবে। প্রথমে ভোটার নিবন্ধন—যারা ইতোমধ্যে এনআইডি কার্ডধারী, তারা ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত আছেন। এরপর আউট অব কান্ট্রি ভোটিংয়ের জন্য আলাদা রেজিস্ট্রেশন করতে হবে। এজন্য একটি অ্যাপ তৈরি করা হচ্ছে, যা নভেম্বরের তৃতীয় সপ্তাহে চালু হবে। প্রতিটি অঞ্চলে ৭–১০ দিন সময় দেওয়া হবে নিবন্ধনের জন্য, প্রয়োজনে অতিরিক্ত ৩-৭ দিন সময় রাখা হবে।

ইসি সানাউল্লাহ বলেন, ইনশাআল্লাহ, এবার প্রবাসী বাংলাদেশিরা পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দেবেন।  

গ্লোবাল অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী পোস্টাল ব্যালটে নিবন্ধনের হার মাত্র ২ দশমিক ৭ শতাংশ এবং এর মধ্যে ভোট সংগ্রহের হার ৩০ শতাংশের নিচে। তবুও বাংলাদেশের প্রবাসীরা অন্যদের তুলনায় বেশি আগ্রহী। ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আমাদেরও প্রত্যাশা সীমিত রাখতে হবে, তবে আমরা ব্যর্থ হবো না।’

তবে, তিনি স্বীকার করেছেন, এই প্রক্রিয়ায় কিছু সীমাবদ্ধতা আছে, যেমন: ভোটের গোপনীয়তা রক্ষা এবং আদালতের আদেশে প্রার্থী তালিকা পরিবর্তন হলে বিদেশ থেকে প্রাপ্ত ভোট বাতিল হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি। এছাড়া, ডাকযোগে ব্যালট পৌঁছাতে ব্যর্থতার হারও প্রায় ২৪ শতাংশ।

তিনি আশা ব্যক্ত করে বলেন, আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতার তুলনায় বাংলাদেশের প্রবাসীরা ভোটে অংশগ্রহণে বেশি আগ্রহী হবেন এবং এই উদ্যোগ ব্যর্থ হবে না।