শিক্ষার্থীদের আইডি কার্ডে অভিভাবকের ফোন নম্বর যুক্ত করতে হাইকোর্টের নির্দেশ

শিক্ষার্থীদের  আইডি কার্ডে অভিভাবকের ফোন নম্বর যুক্ত করতে হাইকোর্টের নির্দেশ
২২ জুলাই, ২০২৫ ১৭:০২  
২৩ জুলাই, ২০২৫ ০১:০২  

দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের আইডি কার্ডে (পরিচয়পত্রে) অভিভাবকের ফোন নম্বর এবং তাদের রক্তের গ্রুপ বাধ্যতামূলকভাবে  সংযুক্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। ২২ জুলাই, মঙ্গলবার বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি সৈয়দ জাহেদ মনসুর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এক রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। আদেশে শিক্ষা সচিবকে দ্রুত এই নির্দেশ বাস্তবায়নের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। 

এছাড়াও, উত্তরার দিয়াবাড়িতে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ বিমান মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বিধ্বস্ত হয়ে বহু শিক্ষার্থী হতাহতের ঘটনায় কারণ অনুসন্ধানে বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছে আদালত। সরকারকে সাত দিনের মধ্যে এই কমিটি গঠন করতে বলা হয়েছে। একইসঙ্গে এই কমিটিকে ৪৫ দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করতে হবে।

আদালত আরও রুল জারি করে বলেছে, দুর্ঘটনায় আহত শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠানোর ব্যবস্থা নিতে হবে। নিহত শিক্ষার্থীদের পরিবারকে পাঁচ কোটি টাকা এবং আহতদের পরিবারকে এক কোটি টাকা করে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। একই সঙ্গে আহতদের উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে হবে এবং দেশের সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা গড়ে তোলার নির্দেশও দিয়েছে আদালত।

এ ছাড়া, ঢাকাসহ দেশের সব জনবহুল এলাকায় ত্রুটিপূর্ণ বিমান ও যুদ্ধবিমান উড্ডয়ন নিয়ে রুল জারি করা হয়েছে।

এই রিটের পক্ষে শুনানি করেন বার কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন, ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, অ্যাডভোকেট গাজী কামরুল ইসলাম সজল এবং অ্যাডভোকেট ছিদ্দিক উল্লাহ মিয়া। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল শফিকুর রহমান, তানিম খান, সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল ইকরামুল কবির ও মো. ঈসা।

দুর্ঘটনার প্রসঙ্গে হাইকোর্ট আরও একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা জারি করেছে। মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের ওই দুর্ঘটনায় নিহত শিক্ষার্থীদের পরিবারকে ৫ কোটি টাকা এবং আহতদের পরিবারকে ১ কোটি টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার যৌক্তিকতা নিয়ে রুল জারি করা হয়েছে।

এছাড়াও, আহতদের উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে দেশে অথবা প্রয়োজনে বিদেশে পাঠানোর ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, আদালত দেশের সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থাও নিশ্চিত করতে বলেছে।

বাংলাদেশে বিভিন্ন সময়ে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে নানা রকম আলোচনা হলেও এ ধরনের বাধ্যতামূলক আইডি কার্ড তথ্য অন্তর্ভুক্তির উদ্যোগ এই প্রথম। অতীতে কিছু বেসরকারি প্রতিষ্ঠান নিজ উদ্যোগে শিক্ষার্থীর রক্তের গ্রুপ উল্লেখ করলেও সেটি বাধ্যতামূলক ছিল না।

দুর্ঘটনার পরপরই অভিভাবকের সঙ্গে যোগাযোগে সময়ক্ষেপণ এবং প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য রক্তের ব্যবস্থা করতে সমস্যা হওয়ায় এই নির্দেশ এখন সময়োপযোগী হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। 

এর আগে ২০২১ সালের ২৫ মে শিক্ষার্থীদের ইউনিক আইডি কার্ডে রক্তের গ্রুপ বাতিল এবং হয়রানি না করে তথ্য ফরম করতে পাঁচ নির্দেশনা দিয়েছে বাংলাদেশ শিক্ষাতথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরো (ব্যানবেইস)। 

নির্দেশনাগুলো হলো- 

১. শিক্ষার্থীদের পূরণকৃত তথ্যছকের তথ্য জন্মনিবন্ধন কর্তৃপক্ষের ডেটাবেজে প্রেরণের পর ইউনিক আইডি প্রাপ্তি ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের অনলাইন জন্মনিবন্ধন প্রয়োজন। শিক্ষার্থীদের ম্যানুয়াল জন্ম নিবন্ধন থাকলে নিবন্ধন কর্তৃপক্ষের ডেটাবেজ থেকে তাদের ইউনিক আইডি পাওয়া যাবে না।
০২. শিক্ষার্থীদের পিতা বা মাতার যেকোনো একজনের এনআইডি নম্বর, নাম, জন্ম তারিখ প্রভৃতি তথ্য প্রদান করতে হবে। এনআইডি নম্বর দেওয়া হলে এক্ষেত্রে জন্ম নিবন্ধন সনদের প্রয়োজন নেই।

০৩. শিক্ষার্থীদের রক্তের গ্রুপ তথ্য ফরমে প্রদান বাধ্যতামূলক নয়। এক্ষেত্রে রক্তের গ্রুপ পরবর্তী সময়ে প্রদান করা যেতে পারে।

০৪. ২০২১ সালের এসএসসি ও এইচএসসি পরিক্ষার্থীদেরও তথ্যছক পূরণ করতে হবে। তথ্যছক পূরণের পর প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শিক্ষকদের দ্বারা ডেটা এন্ট্রির কাজ শুরু করতে হবে।

০৫. তথ্যছক পূরণের বিষয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কর্তৃক শিক্ষার্থী বা অভিভাবকের নিকট থেকে অর্থ গ্রহণ করা যাবে না। এ কার্যক্রম বাস্তবায়নে যাতে কোনো প্রকার হয়রানি বা ভোগান্তির সৃষ্টি না হয় সে বিষয়ে সতর্ক থাকার জনা সংশ্লিষ্ট সকলকে অনুরোধ করা হয়েছে।