অনলাইন জুয়া শাস্তিযোগ্য সাইবার অপরাধ

অনলাইন বেটিং : দেশব্যাপী সাঁড়াশি অভিযানে সিআইডি

অনলাইন বেটিং : দেশব্যাপী সাঁড়াশি অভিযানে সিআইডি
২৭ মে, ২০২৫ ১৯:৫৭  
২৭ মে, ২০২৫ ২০:৫১  

সদ্য জারি হওয়া সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ, ২০২৫ অনুসারে অনলাইন জুয়া ও বেটিং এর বিরুদ্ধে সারাদেশে সাঁড়াশি অভিযান শুরু করেছে বাংলাদেশ পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। অনলাইনভিত্তিক এই অপরাধে জড়িতদের সনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার লক্ষ্যে জিরো টলারেন্সে মাঠে নেমেছে সিআইডি। এক্ষেত্রে নাগরিকদের কাছে সহযোগিতা কামনা করে সন্দেহভাজন অ্যাপস, ওয়েবসাইট বা মোবাইল নম্বর সম্পর্কে তথ্য জানাতে সিআইডি’র সাইবার পুলিশ সেন্টারে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে। যোগাযোগের জন্য তিনটি নম্বর দেয়া হয়েছে। নম্বরগুলো হলো 01320010146, 01320010147 এবং 01320010148। 


অভিযানের প্রথম দিনেই মঙ্গলবার সহস্রাধিক মোবাইল ব্যাংকিং (এমএফএস) এজেন্টকে অনলাইন জুয়ার লেনদেনে জড়িত থাকার প্রমাণসহ সনাক্ত করেছে সিআইডি। এসব এজেন্টদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পদক্ষেপের অংশ হিসেবে লাইসেন্স বাতিল ও অর্থদন্ডে দন্ডিত করার লক্ষ্যে অপরাধে জড়িত এজেন্টদের তালিকা ইতোমধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকে পাঠানো হয়েছে বলে জানাগেছে। 

ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মুহম্মদ জসীম উদ্দিন স্বাক্ষরিত বার্তায় জানানো হয়েছে, অনলাইন জুয়া বর্তমানে মোবাইল অ্যাপ, ওয়েববসাইট ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে পরিচালিত হচ্ছে, যেখানে অংশগ্রহণকারীরা সহজে অর্থ উপার্জনের আশায় জুয়ার আসক্তিতে জড়িয়ে পড়ছে। ফলে অনেকে আর্থিকভাবে দেউলিয়া ও নিঃস্ব হয়ে যাচ্ছে এবং জড়িয়ে পড়ছে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড, পারিবারিক সহিংসতা এমনকি আত্মহত্যার মতো মর্মান্তিক ঘটনার সঙ্গে। 

এমন অবস্থার প্রতিকারে সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ, ২০২৫-এর ২০ নম্বর ধারায় অনলাইন জুয়া খেলা, জুয়া সংক্রান্ত অ্যাপ বা পোর্টাল তৈরি ও প্রচারণা চালানো শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য করে এই অপরাধের জন্য ২ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড, ১ কোটি টাকা পর্যন্ত জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।  এছাড়াও ২১ ও ২২ ধারায় জুয়া সংক্রান্ত লেনদেন, প্রতারণা বা জালিয়াতিকেও নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।