কপ ৩১: অঙ্গীকার বাস্তবায়ন হউক

৯ থেকে ২০ নভেম্বর তুরস্কের আনতালিয়ায় অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে জাতিসংঘের জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক ৩১তম সম্মেলন কপ-৩১। জাতিসংঘের জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশনের উদ্যোগে আয়োজিত এই সম্মেলন বাংলাদেশের জন্য কেবল আন্তর্জাতিক জলবায়ু আলোচনার আরেকটি পর্ব নয়; বরং ন্যায্য অর্থায়ন, অভিযোজন, ক্ষয়ক্ষতির ক্ষতিপূরণ এবং জলবায়ু ন্যায়বিচারের দাবিকে জোরালো করার গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র। এবারের সম্মেলনের বিশেষ তাৎপর্য হলো, নতুন প্রতিশ্রুতির পাশাপাশি […] The post কপ ৩১: অঙ্গীকার বাস্তবায়ন হউক first appeared on Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment.

কপ ৩১: অঙ্গীকার বাস্তবায়ন হউক
৮ নভেম্বর, ২০২৬ ২০:০০  

৯ থেকে ২০ নভেম্বর তুরস্কের আনতালিয়ায় অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে জাতিসংঘের জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক ৩১তম সম্মেলন কপ-৩১। জাতিসংঘের জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশনের উদ্যোগে আয়োজিত এই সম্মেলন বাংলাদেশের জন্য কেবল আন্তর্জাতিক জলবায়ু আলোচনার আরেকটি পর্ব নয়; বরং ন্যায্য অর্থায়ন, অভিযোজন, ক্ষয়ক্ষতির ক্ষতিপূরণ এবং জলবায়ু ন্যায়বিচারের দাবিকে জোরালো করার গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র। এবারের সম্মেলনের বিশেষ তাৎপর্য হলো, নতুন প্রতিশ্রুতির পাশাপাশি পূর্ববর্তী সিদ্ধান্তগুলোর বাস্তবায়নকে গুরুত্ব দেওয়ার ঘোষণা। কিন্তু এই প্রত্যাশার যৌক্তিকতা বুঝতে হলে ফিরে তাকাতে হবে জলবায়ু কূটনীতির দীর্ঘ ইতিহাসের দিকে। একই সঙ্গে কপ-৩১ বাংলাদেশের জন্য এই নতুন বাস্তবতায় জলবায়ু কূটনীতিকে আরও শক্তিশালী করতে হবে।

তিন দশকের জলবায়ু সম্মেলনের মঞ্চে প্রতিশ্রুতির পর প্রতিশ্রুতির দেয়া হয়েছে। কিন্তু কার্বন নিঃসরণ, জলবায়ু অর্থায়ন ও ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সুরক্ষায় প্রত্যাশিত অগ্রগতি কতটা হয়েছে? তুরস্কের আনাতোলিয়ায় আসন্ন কপ -৩১ কি সেই ব্যবধান কমাতে পারবে? প্রায় তিন দশক ধরে বিশ্বনেতারা জলবায়ু সম্মেলনে মিলিত হচ্ছেন, ঘোষণা করছেন উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য, গঠন করছেন তহবিল এবং প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন কার্বন নিঃসরণ কমানোর। অথচ পৃথিবীর উষ্ণতা বৃদ্ধি, চরম আবহাওয়া, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি ও জলবায়ুজনিত ক্ষয়ক্ষতি উদ্বেগজনক বাস্তবতায় পরিণত হয়েছে। ফলে প্রশ্ন উঠছে, নতুন প্রতিশ্রুতি কি সত্যিই পরিবর্তন আনছে, নাকি প্রতিটি সম্মেলন আগের অসম্পূর্ণ অঙ্গীকারের ওপর আরেকটি স্তর যুক্ত করছে?

২০২২ সালের মিসরের শারম আল-শেখে কপ টুয়েন্টি সেভেন একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি অর্জন করে। দীর্ঘ আলোচনার পর জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর জন্য ‘লস অ্যান্ড ড্যামেজ বা ক্ষয়ক্ষতি তহবিল প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত হয়। গত বছর ব্রাজিলের বেলেমে কপ৩০-এ ২০৩৫ সালের মধ্যে অভিযোজন অর্থায়ন তিন গুণ বাড়ানোর আহবান জানানো হয় এবং ন্যায্য রূপান্তরবিষয়ক ব্যবস্থা এগিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। আন্তালিয়ায় তাই নতুন প্রতিশ্রুতি ঘোষণার চেয়ে আগের অঙ্গীকার বাস্তবায়নের অগ্রগতি যাচাই বেশি জরুরি। আমাজন অঞ্চলে সম্মেলন আয়োজন বন সংরক্ষণ, জীববৈচিত্র্য ও জলবায়ু সংকটের পারস্পরিক সম্পর্ককে বিশেষ গুরুত্ব দেয়। সম্মেলনে ‘বেলেম পলিটিক্যাল প্যাকেজ’ গৃহীত হয়। তবে জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে উত্তরণের বাধ্যতামূলক ও সময় নির্ধারিত রূপরেখা সম্মিলিত সিদ্ধান্তে অন্তর্ভুক্ত হয়নি।

বাংলাদেশের জন্য এটি শুধু কূটনৈতিক প্রশ্ন নয়, অস্তিত্ব ও উন্নয়নের প্রশ্ন। উপকূলে লবণাক্ততা, নদীভাঙন, আকস্মিক বন্যা, উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে খরা এবং শহরে জলাবদ্ধতা এখনই মানুষের জীবন ও জীবিকাকে বিপন্ন করছে। বৈশ্বিক নির্গমনে বাংলাদেশের অবদান ০.৫ শতাংশেরও কম, অথচ জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত বহন করতে হচ্ছে অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে বেশি। ২০২৩ সালের দুবাই কপ টুয়েন্টি এইটে প্রথম বৈশ্বিক অগ্রগতি মূল্যায়ন বা গ্লোবাল স্টকটেক সম্পন্ন হয়। সম্মেলনে জ্বালানিব্যবস্থায় জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে ন্যায়সংগত ও সুশৃঙ্খল উত্তরণের আহ্বান জানানো হয়। পাশাপাশি ২০৩০ সালের মধ্যে বৈশ্বিক নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ উৎপাদনক্ষমতা তিন গুণ এবং জ্বালানি দক্ষতা বৃদ্ধির বার্ষিক হার দ্বিগুণ করার লক্ষ্য সামনে আসে। ক্ষয়ক্ষতি তহবিল কার্যকর করার সিদ্ধান্তও গুরুত্বপূর্ণ অর্জন ছিল। তবে এসব সিদ্ধান্তের বড় সীমাবদ্ধতা ছিল বাস্তবায়নের সুস্পষ্ট বাধ্যবাধকতা ও পর্যাপ্ত অর্থায়নের অভাব।

বাংলাদেশ বৈশ্বিক গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণে তুলনামূলকভাবে কম (০.৪৪%) অবদান রাখলেও জলবায়ু পরিবর্তনের বহুমুখী ঝুঁকির সম্মুখীন। উপকূলীয় লবণাক্ততা, ঘূর্ণিঝড়, বন্যা, খরা, নদীভাঙন এবং অনিয়মিত বৃষ্টি কৃষি, পানি, অবকাঠামো ও মানুষের জীবিকাকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। বাংলাদেশের ২০২৫ সালে দাখিল করা এনডিসি থ্রি পয়েন্ট জিরো অনুযায়ী, ২০৩৫ সালের মধ্যে স্বাভাবিক প্রবণতায় সম্ভাব্য নিঃসরণের তুলনায় মোট ২০ দশমিক ৩১ শতাংশ হ্রাসের লক্ষ্য রয়েছে। এর মধ্যে নিজস্ব সম্পদে ৬ দশমিক ৩৯ শতাংশ এবং আন্তর্জাতিক সহায়তার ওপর নির্ভরশীল অতিরিক্ত ১৩ দশমিক ৯২ শতাংশ অন্তর্ভুক্ত। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে নবায়নযোগ্য জ্বালানি, দক্ষ সেচব্যবস্থা, জলবায়ুসহিষ্ণু কৃষি, উন্নত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়ানো প্রয়োজন। একই সঙ্গে অভিযোজন অর্থায়ন ও ক্ষয়ক্ষতি তহবিলে সহজ প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা জরুরি। বাংলাদেশের জন্য কপ -৩১ কার্যকর অবস্থান হবে প্রয়োজনভিত্তিক অর্থায়ন, অনুদানের অগ্রাধিকার, প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং স্থানীয় পর্যায়ে বাস্তবায়নযোগ্য প্রকল্পের পক্ষে শক্তিশালী কূটনৈতিক উদ্যোগ গ্রহণ।

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় অবস্থানপত্র তৈরিতে বিশেষজ্ঞ, নাগরিক সংগঠন ও তরুণদের যুক্ত করেছে—এটি ইতিবাচক উদ্যোগ। তবে অর্থ, পররাষ্ট্র, পানিসম্পদ, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, কৃষি ও জ্বালানি মন্ত্রণালয় এবং পরিকল্পনা কমিশনের অবস্থান সমন্বিত না হলে আন্তর্জাতিক আলোচনায় বাংলাদেশের বক্তব্য দুর্বল হতে পারে। অবস্থানপত্রে তাই অগ্রাধিকারভিত্তিক, সুস্পষ্ট ও পরিমাপযোগ্য কয়েকটি দাবি থাকা দরকার। প্রতিটির পেছনে থাকতে হবে লবণাক্ততা, নদীভাঙন, বন্যা, ঘূর্ণিঝড় ও জলবায়ুজনিত বাস্তুচ্যুতির হালনাগাদ উপাত্ত। অর্থায়নের প্রস্তাবে কোন কাজে কত অর্থ লাগবে, কারা উপকৃত হবে এবং ফলাফল কিভাবে পরিমাপ করা হবে—তা স্পষ্ট থাকা জরুরি।

বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশগুলোর জোট এবং জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর ফোরাম-এর সঙ্গে কাজ করে আসছে। এর ঠিক আগে ২৯ অক্টোবর ২০২৬, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ বাংলাদেশের স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণের প্রস্তুতিকাল আরও তিন বছর বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ফলে ২০২৬ সালের ২৪ নভেম্বরের পরিবর্তে ২০২৯ সালের ২৪ নভেম্বর বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিকভাবে এলডিসি থেকে উত্তরণের জন্য নির্ধারিত মাইলফলকে পৌঁছাবে। এটি বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি সুযোগ। কারণ দীর্ঘ উন্নয়নযাত্রার স্বীকৃতি হিসেবে এলডিসি থেকে উত্তরণের যোগ্যতা অর্জন করলেও দেশের অর্থনীতি, রফতানি, কর্মসংস্থান, বিনিয়োগ ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যব্যবস্থার সামনে এখনও বেশ কিছু কাঠামোগত চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে।

এই তিন বছরের অবকাশকে তাই কেবল উত্তরণ পিছিয়ে যাওয়ার সময় হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। বরং এটি হতে পারে অর্থনৈতিক সংস্কার, রফতানি বহুমুখীকরণ, বাণিজ্য সুবিধা সংরক্ষণ, জলবায়ু অর্থায়ন নিশ্চিতকরণ এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়ানোর একটি কার্যকর প্রস্তুতিকাল। উত্তরণের পর কিছু বিশেষ সুবিধা ও তহবিলে প্রবেশাধিকার কমে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। তাই আয়ভিত্তিক শ্রেণিবিভাগের বদলে ঝুঁকিভিত্তিক জলবায়ু অর্থায়নের দাবি তুলতে হবে—মাথাপিছু আয় বাড়লেই জলবায়ু ঝুঁকি কমে না। সিভিএ, ক্ষুদ্র দ্বীপরাষ্ট্রগুলোর জোট এবং প্রশান্ত মহাসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে সমন্বয় জোরদার করা যায়। প্রতিবেশীদের সঙ্গে অভিন্ন নদী, তথ্যবিনিময় ও দুর্যোগ পূর্বাভাসে সহযোগিতাকেও জলবায়ু কূটনীতির অংশ করতে হবে। একই সঙ্গে কপ-৩১ বাংলাদেশের জন্য এই নতুন বাস্তবতায় জলবায়ু কূটনীতিকে আরও শক্তিশালী করতে হবে।

বাংলাদেশের জাতীয় অভিযোজন পরিকল্পনা ২০২৩-২০৫০ সময়কালে ১১৩টি উদ্যোগ বাস্তবায়নে আনুমানিক ২৩০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের কথা বলেছে। পরিকল্পনাটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হলেও প্রতিটি উদ্যোগের দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থা, সময়সীমা ও অর্থের উৎস সুস্পষ্ট করা দরকার। আন্তালিয়ায় ঘঅচ-কে অর্থায়নযোগ্য প্রকল্পের তালিকায় রূপান্তরের জন্য বহুপাক্ষীয় উন্নয়ন ব্যাংক ও অংশীদারদের সহায়তা চাওয়া উচিত। পাশাপাশি প্রতিবছর অগ্রগতি প্রকাশের পর্যবেক্ষণ ও মূল্যায়নব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে জমা দেওয়া বাংলাদেশের তৃতীয় জাতীয় জলবায়ু অঙ্গীকারে (ঘউঈ ৩.০) ২০৩৫ সাল নাগাদ নিজস্ব সামর্থ্যে নির্গমন ৬.৩৯ শতাংশ কমানো এবং আন্তর্জাতিক সহায়তা পেলে আরো ১৩.৯২ শতাংশ কমানোর লক্ষ্য রয়েছে—দুটিই ব্যবসা স্বাভাবিক পরিস্থিতির তুলনায়। লক্ষ্য অর্জনে বাস্তবায়নযোগ্য পরিকল্পনা ও আন্তর্জাতিক সহায়তা অপরিহার্য। বাংলাদেশের নির্গমন তুলনামূলক কম হলেও আমদানিনির্ভর জীবাশ্ম জ্বালানি বৈদেশিক মুদ্রা ও জ্বালানি নিরাপত্তার ওপর চাপ সৃষ্টি করে। তাই ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ, বায়ুবিদ্যুৎ, জ্বালানি দক্ষতা এবং বিদ্যুৎ সঞ্চালনব্যবস্থা আধুনিকায়নে দীর্ঘমেয়াদি, স্বল্পসুদের বিনিয়োগ ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা চাইতে হবে। শর্তসাপেক্ষ নির্গমন লক্ষ্যকে সুনির্দিষ্ট প্রকল্পে ভাগ করে উপস্থাপন করলে দাবির বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়বে।

বাংলাদেশের কূটনীতিকে তাই একটি বিষয় স্পষ্ট করতে হবে, জলবায়ু অর্থায়ন কোনো দাতব্য অনুগ্রহ নয়; এটি আন্তর্জাতিক দায়িত্ব ও ন্যায্যতার প্রশ্ন। এলডিসি উত্তরণের বর্ধিত প্রস্তুতিকালকে কাজে লাগানোর ক্ষেত্রে জলবায়ু কূটনীতিকে আলাদা করে দেখার সুযোগ নেই। বরং অর্থনৈতিক রূপান্তর ও জলবায়ু সহনশীলতাকে একই উন্নয়ন কৌশলের অংশ করতে হবে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের আরেকটি শক্তি হতে পারে জলবায়ু বিপন্ন দেশগুলোর সঙ্গে ঐক্য। স্বল্পোন্নত দেশগুলোর জোট, ক্ষুদ্র দ্বীপরাষ্ট্র এবং অন্যান্য জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশের সঙ্গে সমন্বিত অবস্থান নিয়ে বাংলাদেশ অর্থায়ন, অভিযোজন ও ক্ষয়ক্ষতির প্রশ্নে বৃহত্তর সমর্থন গড়ে তুলতে পারে। একক দেশের কণ্ঠের তুলনায় ঐক্যবদ্ধ দাবির রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক গুরুত্ব অনেক বেশি। বাংলাদেশের সামনে এখন একদিকে জলবায়ু পরিবর্তনের ক্রমবর্ধমান অভিঘাত, অন্যদিকে এলডিসি থেকে উত্তরণের প্রস্তুতি। এই দুটি চ্যালেঞ্জকে আলাদা করে দেখার সুযোগ নেই। কারণ জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে কৃষি উৎপাদন, অবকাঠামো, কর্মসংস্থান, স্বাস্থ্য ও সামগ্রিক অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হলে উত্তরণের পর অর্জিত উন্নয়নও ঝুঁকির মুখে পড়বে। আবার অর্থনৈতিক সক্ষমতা বাড়ানো না গেলে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় বিনিয়োগও নিশ্চিত করা কঠিন হবে। জাতিসংঘের দেওয়া তিন বছরের বাড়তি সময় বাংলাদেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক অর্জন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, এলডিসি উত্তরণকে শুধু আন্তর্জাতিক মর্যাদা পরিবর্তনের বিষয় হিসেবে না দেখে অর্থনৈতিক কাঠামোকে শক্তিশালী করার সুযোগ হিসেবে বিবেচনা করতে হবে।

আসন্ন কপ-৩১ জলবায়ু সম্মেলনে বাংলাদেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দাবি হওয়া উচিত জলবায়ু অর্থায়নের নিশ্চয়তা। বছরের পর বছর ধরে উন্নত দেশগুলো জলবায়ু মোকাবিলায় অর্থ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে আসছে। কিন্তু প্রতিশ্রুত অর্থের পরিমাণ, তা ছাড়ের সময়সীমা, অর্থায়নের শর্ত এবং প্রকৃত অর্থপ্রাপ্তির মধ্যে উল্লেখযোগ্য ব্যবধান রয়ে গেছে। ফলে জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে বাংলাদেশকে নিজস্ব উন্নয়ন বাজেট থেকে বিপুল অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে। কপ-৩১-এ বাংলাদেশকে তাই জলবায়ু অর্থায়নের প্রতিশ্রুতিকে বাস্তব অর্থপ্রবাহে রূপান্তরের দাবি জানাতে হবে। কোন দেশ কত অর্থ দেবে, কোন খাতে অর্থ ব্যয় হবে, কীভাবে তা ছাড় করা হবে এবং প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন হচ্ছে কি না, এসব বিষয়ে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে।

লেখক: অধ্যাপক ও গবেষক, সাবেক পরিচালক, বার্ড, কুমিল্লা

The post কপ ৩১: অঙ্গীকার বাস্তবায়ন হউক first appeared on Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment.