২৫ লাখ টাকার প্রকল্পে তৈরি হচ্ছে আধুনিক সার্ভার স্টেশন; নাইট-ভিশন প্রযুক্তির ওপর জোর

অপরাধ দমনে কিশোরগঞ্জ শহরজুড়ে ২৫০টি সিসি ক্যামেরা বসাচ্ছে পুলিশ

  • চুরি, ছিনতাই, কিশোর গ্যাং ও সহিংসতা দমনে কিশোরগঞ্জ শহরের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে ২৫০টি আধুনিক সিসি ক্যামেরা স্থাপনের কাজ শুরু
  • প্রথম ধাপে গাইটাল বাসস্ট্যান্ডসহ বিভিন্ন এলাকায় ৫০টি ক্যামেরা চালু হচ্ছে; সার্বক্ষণিক নজরদারিতে সদর থানায় সার্ভার স্টেশন প্রস্তুত
  • কম আলোতেও রঙিন ফুটেজ ধারণ করতে সক্ষম নাইট-ভিশন ক্যামেরা; নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ ও দ্রুত পুলিশি অ্যাকশনের দাবি স্থানীয়দের

অপরাধ দমনে কিশোরগঞ্জ শহরজুড়ে ২৫০টি সিসি ক্যামেরা বসাচ্ছে পুলিশ
২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২০:৩১  

চুরি, ছিনতাই, কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য, অনলাইন জুয়া এবং অভ্যন্তরীণ সংঘর্ষের মতো অপরাধ কঠোর হস্তে দমন করতে শহরজুড়ে সমন্বিত ও প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি ব্যবস্থা গড়ে তুলছে কিশোরগঞ্জ জেলা পুলিশ। অপরাধীদের দ্রুত শনাক্তকরণ এবং সম্ভাব্য অপরাধ সংঘটনের আগেই তা প্রতিরোধে শহরের গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথ, মোড়, সড়ক ও অলিগলিতে সর্বমোট ২৫০টি নাইট-ভিশন সিসি (ক্লোজড-সার্কিট) ক্যামেরা বসানোর বৃহৎ পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হচ্ছে।

প্রায় ২৫ লাখ টাকা ব্যয়ে গৃহীত এই নিরাপত্তা প্রকল্পের প্রথম ধাপে ৫০টি ক্যামেরা স্থাপনের কাজ বর্তমানে দ্রুতগতিতে চলছে। প্রাথমিক পর্যায়ে শহরের অন্যতম প্রবেশমুখ গাইটাল বাসস্ট্যান্ডসহ সংবেদনশীল ও জনবহুল পয়েন্টগুলোকে এ নজরদারির আওতায় আনা হচ্ছে। পুরো শহরের ক্যামেরাগুলোর রিয়েল-টাইম ভিডিও পর্যবেক্ষণ ও রেকর্ড সংরক্ষণের জন্য কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানায় একটি বিশেষায়িত সার্ভার স্টেশন ও সেন্ট্রাল কন্ট্রোল রুম স্থাপন করা হচ্ছে।

সম্প্রতি শহরে সংঘটিত একাধিক অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের প্রেক্ষাপটে এই প্রযুক্তিনির্ভর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। চলতি সেপ্টেম্বরেই জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) অভিযান চালিয়ে অনলাইনে জুয়া ও প্রতারণায় জড়িত ২১ জনকে গ্রেপ্তার করে। এছাড়া কিশোর গ্যাংয়ের সন্দেহজনক তৎপরতা ও রাতের আড্ডা প্রতিরোধে ২৫ জন কিশোরকে আটক করে পরবর্তীতে মুচলেকায় অভিভাবকদের জিম্মায় দেওয়া হয়। অতীতে হারুয়া এলাকায় সংঘর্ষে প্রাণহানি, আখড়াবাজারে ভাঙচুর এবং নরসুন্দা নদীর লেকপাড় ও জেলা স্মরণী মোড়ে ধারাবাহিক ছিনতাই ও দোকানপাটের তার-এসি চুরির ঘটনায় নগরবাসীর মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল।

পুলিশের এই আধুনিক উদ্যোগকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেছেন সাধারণ নাগরিকরা। তবে অতীতে বিভিন্ন স্থানে ক্যামেরা বসিয়ে রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে তা বিকল হয়ে পড়ার অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা ক্যামেরাগুলোর নিরবচ্ছিন্ন কার্যকারিতা এবং ফুটেজ দেখে তাৎক্ষণিক পুলিশি হস্তক্ষেপ নিশ্চিতের দাবি জানান।

কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আবুল কালাম ভূঁইয়া জানান, সার্ভার স্টেশন থেকে ফুটেজ সার্বক্ষণিক মনিটর করা হবে। কোথাও সন্দেহজনক জটলা বা অপরাধের প্রস্তুতি লক্ষ্য করা মাত্রই মাঠে থাকা টহল পুলিশকে তাৎক্ষণিক বার্তা দিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কিশোরগঞ্জের পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, "অপরাধীরা প্রায়শই রাতের অন্ধকারকে সুযোগ হিসেবে নেয়। এজন্য নতুন ক্যামেরাগুলো এমন প্রযুক্তির, যা অতি অল্প আলোতেও রঙিন ও নিখুঁত ফুটেজ ধারণে সক্ষম। অপরাধ প্রতিরোধ ও অপরাধীদের দ্রুত শনাক্তে বিজ্ঞানসম্মতভাবে লোকেশন নির্বাচন করা হয়েছে।" প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, আধুনিক ডিভাইসের পাশাপাশি দ্রুত ডেটা অ্যানালাইটিক্স এবং নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণই এই পুলিশি উদ্যোগের চূড়ান্ত কার্যকারিতা নিশ্চিত করবে।
//ডিবিটেক/ডিপিওকে/ এসএমই/ এমআইএসটি//