২০৬০ সালের মধ্যে বৈশ্বিক পারমাণবিক বিদ্যুৎ সক্ষমতা তিন গুণ বাড়ার পূর্বাভাস আইএইএ-এর
রূপপুরে নিরাপত্তা ভালভের কারিগরি সংকট: আইএইএ-এর সহায়তায় দ্রুত চালুর তোড়জোড়
- রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের দুই নিরাপত্তা ভালভের সমস্যা সমাধানে আইএইএ ও রুশ বিশেষজ্ঞদের সমন্বিত উদ্যোগ
- কারিগরি ত্রুটি কাটিয়ে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের লক্ষ্যে জোর প্রচেষ্টা; রাশিয়ান রাষ্ট্রদূতের অক্টোবরে ৩০০ মেগাওয়াট সরবরাহের প্রত্যাশা
- ২০৬০ সালের মধ্যে বৈশ্বিক পারমাণবিক বিদ্যুৎ সক্ষমতা দ্বিগুণ বা তিন গুণ বেড়ে ৬৯৬ গিগাওয়াটে পৌঁছানোর পূর্বাভাস আইএইএ-এর
চলমান বিদ্যুৎ গ্রিডের ঘাটতি ও জ্বালানি আমদানির অর্থনৈতিক চাপের মধ্যে দেশের প্রথম রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র দ্রুত চালু করতে জোর উদ্যোগ গ্রহণ করেছে সরকার। সম্প্রতি ভিয়েনায় আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) মহাপরিচালক রাফায়েল মারিয়ানো গ্রোসির সঙ্গে বৈঠকে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম কেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের কমিশনিং সহজতর করতে আইএইএর কারিগরি সহায়তা চেয়েছেন। একইসঙ্গে নিরাপত্তা ও সুরক্ষার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সুদৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে।
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং রোসাটম সূত্রে জানা গেছে, কেন্দ্রটির প্রথম ইউনিটের কমিশনিং প্রক্রিয়ায় দুটি প্রধান নিরাপত্তা ভালভে (Safety Valves) কারিগরি সমস্যা দেখা দেওয়ায় পরবর্তী ধাপে রূপান্তর বিলম্বিত হচ্ছে। সমস্যা পর্যালোচনা করতে চার হাজার প্রকৌশলীর পাশাপাশি রাশিয়ার বিশেষ বিশেষজ্ঞ দল কাজ শুরু করেছে। কারিগরি পর্যালোচনা শেষে এই দুটি ভালভ মেরামত, পরিবর্তন নাকি দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য সংরক্ষিত ভালভ ব্যবহার করা হবে—সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। বাংলাদেশে নিযুক্ত রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত আলেকজান্ডার খোজিন আগামী মাসে (অক্টোবর) জাতীয় গ্রিডে আংশিকভাবে (৩০০ মেগাওয়াট) বিদ্যুৎ সরবরাহের আশা ব্যক্ত করলেও রূপপুর প্রকল্পের পরিচালক ড. মো. কবির হোসেন জানান, ভালভ সংক্রান্ত সমস্যা সমাধান এবং পরবর্তী দুই-তিনটি ধাপে সফল টেস্ট রান শেষ করার পরই চূড়ান্ত সময় নির্ধারণ করা সম্ভব হবে।
পাবনার রূপপুরে রাশিয়ার সহায়তায় নির্মিত দুটি ভিভিইআর-১২০০ (VVER-1200) চুল্লির মোট উৎপাদন সক্ষমতা ২,৪০০ মেগাওয়াট। ২০২৬ সালের ২৮ এপ্রিল প্রথম ইউনিটে পারমাণবিক জ্বালানি লোডিং সম্পন্ন হওয়ার মাধ্যমে বাংলাদেশ পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের অতি কাছাকাছি পৌঁছায়। তবে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা মান বজায় রাখার ওপর কঠোর জোর দেওয়ায় সম্পূর্ণ প্রক্রিয়ায় প্রতিটি স্তরের শতভাগ অনুমোদন নিশ্চিত করা হচ্ছে।
আইএইএ-এর সাম্প্রতিক 'এনার্জি, ইলেকট্রিসিটি অ্যান্ড নিউক্লিয়ার পাওয়ার এস্টিমেটস' শীর্ষক প্রতিবেদন অনুসারে, ক্রমবর্ধমান বিদ্যুতের চাহিদা ও কম কার্বন নিঃসরণের লক্ষ্যে বিশ্বজুড়ে পারমাণবিক শক্তির নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হচ্ছে। ২০২৫ সালের ৩৭৭.১ গিগাওয়াট থেকে বিশ্ব সক্ষমতা ২০৬০ সাল নাগাদ বেড়ে ৬৯৬ গিগাওয়াটে উন্নীত হতে পারে, যার বড় অংশই হবে এশিয়া অঞ্চলে। একইসঙ্গে ভবিষ্যতে স্মল মডুলার রিয়্যাক্টর (SMR) বৈশ্বিক চাহিদার ২৮ শতাংশ জুড়ে থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে, যা দীর্ঘমেয়াদে বাংলাদেশের পারমাণবিক কর্মসূচির পরবর্তী রূপরেখা নির্ধারণে ভূমিকা রাখবে।
//ডিবিটেক/এসএমই/এমআইএসটি//





