১২ নভেম্বর আইইবি নির্বাচন ২০২৭-২০২৮

দেশের ৭০ হাজার প্রকৌশলীর ভোটগ্রহণ একযোগে

  • আগামী ১২ নভেম্বর আইইবি ২০২৭-২০২৮ মেয়াদের দেশব্যাপী একযোগে নির্বাচন
  • ৭০ হাজারের বেশি নিবন্ধিত প্রকৌশলী বিরতিহীনভাবে ভোট দেবেন
  • প্রেসিডেন্ট পদসহ ৭টি বিভাগ ও ২টি চ্যাপ্টারে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা

দেশের ৭০ হাজার প্রকৌশলীর ভোটগ্রহণ একযোগে
২৪ অক্টোবর, ২০২৬ ১১:৫৫  

দেশের প্রকৌশলীদের সবচেয়ে বড় এবং ঐতিহ্যবাহী পেশাজীবী সংগঠন ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন, বাংলাদেশ (আইইবি)-এর ২০২৭-২০২৮ মেয়াদের নির্বাচন আগামী ১২ নভেম্বর ২০২৬ (বৃহস্পতিবার) দেশব্যাপী একযোগে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। প্রাক-নির্বাচনী এই আবহ ও প্রস্তুতি ঘিরে দেশের প্রকৌশল সমাজ এবং প্রযুক্তি খাতে ব্যাপক উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়েছে।

কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটির (সিইসি) পূর্বঘোষিত তফসিল অনুযায়ী চূড়ান্ত ভোটার তালিকা এবং বৈধ প্রার্থীদের তালিকা প্রকাশের আনুষ্ঠানিকতা ইতিমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে। এখন কেবল মাঠ পর্যায়ে শেষ মুহূর্তের জোর প্রচারণা ও ভোটগ্রহণের চূড়ান্ত প্রস্তুতি চলছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে প্রকাশ, ভোটারদের সুবিধার্থে আধুনিক ডেটাবেজ, অনলাইন ট্র্যাকিং এবং সমন্বিত আইটি ব্যবস্থার মাধ্যমে দেশ-বিদেশের কেন্দ্রগুলোর সঙ্গে কেন্দ্রীয় কমিশন সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রক্ষা করছে। আগামী দুই বছরের জন্য প্রযুক্তি, পরিকাঠামো ও প্রকৌশল খাতের নেতৃত্ব নির্ধারণে এবার রেকর্ডসংখ্যক প্রকৌশলী ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন।

আইইবি নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, আইইবি'র রোলে বর্তমানে ৭০,০০০ এরও বেশি প্রকৌশলী নিবন্ধিত রয়েছেন, যাদের মধ্যে প্রায় ৩০% ফেলো (Fellow) এবং ৫০% মেম্বার (Member) ক্যাটাগরির। এই নিবন্ধিত ফেলো ও মেম্বার প্রকৌশলীদের মধ্য থেকে যারা নিয়মিত চাঁদা পরিশোধ করে চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় স্থান পেয়েছেন, তারাই আগামী ১২ নভেম্বর সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন।

সদর দফতর, দেশজুড়ে ছড়িয়ে থাকা বিভিন্ন কেন্দ্র, উপ-কেন্দ্র এবং ওভারসিজ চ্যাপ্টারগুলোতে একযোগে এই ভোটগ্রহণ পরিচালিত হবে। এবারের নির্বাচনে সবচেয়ে বেশি আকর্ষণ তৈরি হয়েছে কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির শীর্ষ পদগুলোকে ঘিরে। বিশেষ করে প্রেসিডেন্ট পদের ১টি আসনের বিপরীতে প্রাথমিক খসড়ায় ৭ জন হেভিওয়েট প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন। তারা হলেন— ইঞ্জিনিয়ার মো. আবদুর রউফ, ইঞ্জিনিয়ার খান মনজুর মোর্শেদ, ইঞ্জিনিয়ার মো. রফিকুল ইসলাম তালুকদার (PEng.), ইঞ্জিনিয়ার সৈয়দ মাহফুজ আহমদ (PEng.), অধ্যাপক ড. ইঞ্জিনিয়ার মো. রেজাউল করিম (রেজা, PEng.), অধ্যাপক ড. ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ আলী এবং অধ্যাপক ড. ইঞ্জিনিয়ার মো. সাব্বির মোস্তফা খান।

এছাড়া ১টি ভাইস প্রেসিডেন্ট (একাডেমিক ও আন্তর্জাতিক) পদের জন্য লড়ছেন ইঞ্জিনিয়ার শেখ আল আমিন, ইঞ্জিনিয়ার এ. কে. এম. শরিফুল ইসলাম (শরিফ, PEng.), অধ্যাপক ড. ইঞ্জিনিয়ার মো. রেজাউল করিম এবং ইঞ্জিনিয়ার মহিউদ্দিন আহমেদ (সেলিম)।

কেন্দ্রীয় কমিটির পাশাপাশি আইইবি'র মূল ৭টি প্রকৌশল বিভাগ (Engineering Divisions) এবং ২টি বিশেষ চ্যাপ্টারে (Chapters) পদভিত্তিক তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা হচ্ছে। সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের (CED) ১৭টি পদের মধ্যে চেয়ারম্যান পদে লড়ছেন অধ্যাপক ড. ইঞ্জিনিয়ার মো. রেজাউল করিম (রেজা, PEng.) এবং ইঞ্জিনিয়ার মো. নুরুল ইসলাম; ভাইস-চেয়ারম্যান পদে লড়ছেন ইঞ্জিনিয়ার মো. হেলালুর রহমান ভূঁইয়া ও ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ জাকির হোসেন (PEng.)। একইভাবে মেকানিক্যাল (MED), ইলেকট্রিক্যাল (EED), কম্পিউটার (CoED) এবং কেমিক্যাল, এগ্রিকালচার ও টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগগুলোতে ১৭টি বা ১২টি করে পদের বিপরীতে হেভিওয়েট ও অভিজ্ঞ প্রার্থীরা প্যানেল গুছিয়ে মাঠে নেমেছেন।

নারী প্রকৌশলীদের ‘উইমেন ইঞ্জিনিয়ারিং চ্যাপ্টার’ (WEC)-এর ৯টি পদের মধ্যে চেয়ারম্যান পদে ড. ইঞ্জিনিয়ার হোসনে আরা বেগম ও ইঞ্জিনিয়ার ইশরাত জাহান (জেসমিন) এবং ভাইস-চেয়ারম্যান পদে ইঞ্জিনিয়ার রোমানা খানম ও ইঞ্জিনিয়ার ফারহানা চৌধুরী লড়াই করছেন। এছাড়া ‘ইয়ং ইঞ্জিনিয়ারিং চ্যাপ্টার’ (YEC)-এর ৯টি পদে তরুণ আইটি ও অবকাঠামো প্রকৌশলীদের নেতৃত্ব নির্বাচনে প্রার্থীরা জোর প্রচারণা চালাচ্ছেন।

আঞ্চলিক কেন্দ্রগুলোতেও নির্বাচনের উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। ঢাকা কেন্দ্রের গুরুত্বপূর্ণ ২৭টি সেন্ট্রাল কাউন্সিল মেম্বার পদের বিপরীতে ইঞ্জিনিয়ার এ. এইচ. এম. আব্দুল হাদি এবং ইঞ্জিনিয়ার মো. আবদুর রউফসহ অসংখ্য প্রার্থী মাঠে সক্রিয় আছেন। সিইসির চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মো. সেলিম ভূঁইয়া (PEng.) জানান, আগামী ১০ নভেম্বরের মধ্যে ডাকযোগে আসা ব্যালট (Postal Ballots) সংগ্রহ ও দেশের সকল কেন্দ্রে চূড়ান্ত ব্যালট এবং নির্বাচনী সরঞ্জাম পাঠানোর কাজ সম্পন্ন করা হবে। আধুনিক কারিগরি অবকাঠামো ও প্রকৌশলবিদ্যার অগ্রযাত্রায় এই নিবেদিত সংগঠনটির নেতৃত্ব আগামী দুই বছরের জন্য কাদের হাতে অর্পিত হচ্ছে, তা দেখতে এখন অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন সারা দেশের প্রাক-প্রকৌশল ও প্রকৌশলী সমাজ।

//ডিবিটেক/আইইএনএম/এমআইএস/এসএমপি//