ভিডিও কল ও ক্যাশলেস ব্যবস্থা
ইনোভেশন ফেয়ারে কারাগারের ডিজিটাল সেবা
- কারাবন্দিদের জন্য ভিডিও কলিং সুবিধা
- এআই দিয়ে স্বজন যাচাই
- আরএফআইডিতে ক্যাশলেস ক্যান্টিন
রাজধানীর ইনোভেশন ফেয়ারে কারাবন্দিদের জন্য ভিডিও কল, বায়োমেট্রিক হাজিরা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক স্বজন যাচাই এবং আরএফআইডিনির্ভর ক্যাশলেস ক্যান্টিনসহ কারা ব্যবস্থাপনার ডিজিটাল সেবা প্রদর্শন করছে কারা অধিদপ্তর। এসব প্রযুক্তির মাধ্যমে কারাগারের প্রশাসনিক কার্যক্রমে স্বচ্ছতা, নিরাপত্তা ও জবাবদিহি বাড়ানোর পাশাপাশি বন্দি ও স্বজনদের যোগাযোগ আরও সহজ করার উদ্যোগ তুলে ধরা হচ্ছে।
১২ সেপ্টেম্বর, শনিবার রাজধানীর নভোথিয়েটার প্রাঙ্গণে আয়োজিত ইনোভেশন ফেয়ারে কারা অধিদপ্তরের স্টলে একটি কিয়স্ক, বায়োমেট্রিক অ্যাটেনডেন্স ডিভাইস এবং ভিডিও কলিং ফোন প্রদর্শন করা হচ্ছে। পাশের মনিটরে দেখানো হচ্ছে, কারাগারের অভ্যন্তরে এসব প্রযুক্তি কীভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে। আধুনিক এসব সেবা দেখতে স্টলে ভিড় করছেন দর্শনার্থীরা।
স্টলের দায়িত্বপ্রাপ্ত কারা অধিদপ্তরের জেলার মো. আবুল হোসেন জানান, কারা অধিদপ্তরের ভিডিও কলিং ব্যবস্থা বর্তমানে পাইলট প্রকল্প হিসেবে মুন্সীগঞ্জ জেলা কারাগারে চালু রয়েছে। সম্প্রতি কারা অধিদপ্তর জানিয়েছে, নির্দিষ্ট নিয়মে বন্দিরা সপ্তাহে একবার ১০ মিনিট করে স্বজনদের সঙ্গে ভিডিও কলে কথা বলার সুযোগ পাবেন।
ভিডিও কলের ক্ষেত্রে বন্দির অনুমোদিত নিকটাত্মীয়—স্বামী, স্ত্রী, সন্তান, বাবা-মা ও ভাই-বোনের নম্বর আগে থেকেই ব্যবস্থায় নিবন্ধিত থাকবে। নির্ধারিত নম্বরেই যোগাযোগ করা যাবে। কারা কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, বিশেষ শ্রেণির বন্দি ও রাজনৈতিক মামলার আসামিদের ভিডিও কলের ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট নির্দেশনা অনুসরণ করা হবে। কোন বন্দি কতক্ষণ ও কীভাবে কথা বলতে পারবেন, তা কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী নির্ধারিত হবে।
কারা ব্যবস্থাপনার এই প্রযুক্তিনির্ভর উদ্যোগের অংশ হিসেবে ভিডিও কলে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। কারাগারের নিজস্ব ব্যবস্থায় বন্দির বাবা, মা, ভাই ও বোনের পরিচয় আগে থেকে নিবন্ধিত থাকবে। ভিডিও কলে নিবন্ধিত ব্যক্তির বাইরে অন্য কেউ ক্যামেরার সামনে এলে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক ব্যবস্থা স্বয়ংক্রিয়ভাবে কল বিচ্ছিন্ন করবে। একই সঙ্গে বন্দিদের ভিডিও কথোপকথন রেকর্ড করা হবে।
কারাপেআইয়ে ঘরে বসেই সেবা
কারা অধিদপ্তরের জেলার মো. আবুল হোসেন জানান, ‘কারাপেআই’ অ্যাপের মাধ্যমে বন্দিদের স্বজনরা ঘরে বসেই বন্দির হিসাবে টাকা জমা এবং ভিডিও কলের প্রয়োজনীয় তথ্য নিবন্ধন করতে পারবেন। ফলে এসব তথ্যের জন্য বারবার কারাগারে যেতে হবে না।
কারাপেআইয়ের সরকারি ওয়েবসাইটেও কারা অধিদপ্তরের বাস্তবায়িত ও নিরাপদ সেবা হিসেবে প্ল্যাটফর্মটির উল্লেখ রয়েছে।
ক্যাশলেস ক্যান্টিনে আরএফআইডি
বন্দিদের কেনাকাটায় স্বচ্ছতা আনতে চালু করা হয়েছে ‘ক্যাশলেস প্রিজন্স’ ব্যবস্থা। এর মাধ্যমে স্বজনরা ঘরে বসে মোবাইল ব্যাংকিং বা মোবাইল আর্থিক সেবা ব্যবহার করে বন্দির ‘প্রিজনার্স ক্যাশ’ বা পিসি হিসাবে টাকা পাঠাতে পারবেন।
বন্দিদের জন্য একটি বিশেষ পরিচয়সংবলিত রিস্টব্যান্ড ব্যবহারের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। এতে কারাগারের ভেতরে বন্দিদের অবস্থান শনাক্ত ও ব্যবস্থাপনা সহজ হবে।
নগদ লেনদেন ছাড়াই বন্দিরা ক্যাশলেস ক্যান্টিন থেকে প্রয়োজনীয় পণ্য কিনতে পারবেন। নির্ধারিত অর্থ স্বয়ংক্রিয়ভাবে হিসাব থেকে কেটে নেওয়া হবে এবং বন্দি নিজের হিসাবের স্থিতি দেখতে পারবেন। মুক্তির সময় রিলিজ স্লিপের মাধ্যমে অবশিষ্ট অর্থ ফেরত পাওয়ার সুযোগও থাকবে।
মুন্সীগঞ্জ জেলা কারাগারে পরীক্ষামূলকভাবে চালু হওয়া এই ব্যবস্থায় আরএফআইডি প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে বন্দিদের অবস্থান শনাক্ত করা, ওয়ার্ডভিত্তিক সঠিক গণনা এবং নগদবিহীন আর্থিক লেনদেন পরিচালনা করা সম্ভব হচ্ছে।
আগের ব্যবস্থায় বন্দিরা পিসি কার্ড ব্যবহার করে কারাগারের ক্যান্টিন থেকে খাবার ও অন্যান্য পণ্য সংগ্রহ করতেন। নতুন ব্যবস্থায় নির্দিষ্ট বন্দির সঙ্গে যুক্ত আরএফআইডি-সক্ষম রিস্টব্যান্ড বা ডিভাইস ব্যবহার করে কেনাকাটা করা যাবে। এতে লেনদেনে স্বচ্ছতা বাড়বে এবং নগদ অর্থ ব্যবহারের সুযোগ কমবে।
কারা ব্যবস্থার এই ডিজিটাল রূপান্তরের সহযোগী হিসেবে কাজ করছে স্পেলবাউন্ড কমিউনিকেশন্স লিমিটেড।
গত ৫ জুলাই সাবেক আইজি প্রিজনস ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ মো. মোতাহের হোসেন মুন্সীগঞ্জ জেলা কারাগারে বন্দিদের স্বজনদের সঙ্গে ভিডিও কলে যোগাযোগের প্রকল্প উদ্বোধন করেন। পাইলট প্রকল্পের অভিজ্ঞতা ও নির্দেশনার ভিত্তিতে পরবর্তী সময়ে দেশের অন্যান্য কারাগারেও ভিডিও কলসহ এসব ডিজিটাল সেবা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হবে। ভিডিও কলের সুবিধা শিগগিরই অন্যান্য কারাগারে সম্প্রসারণের কথা জানিয়েছে কারা অধিদপ্তর।
কারা অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে ৭৪টি কারাগার রয়েছে। এর মধ্যে ১৫টি কেন্দ্রীয় ও ৫৯টি জেলা কারাগার। এসব কারাগারের প্রশাসনিক কার্যক্রম ঢাকার বকশীবাজারে অবস্থিত কারা অধিদপ্তরের সদর দপ্তর থেকে নিয়ন্ত্রণ করা হয়।
কারাগারের ডিজিটাল রূপান্তরের এই উদ্যোগগুলোকে বন্দি ব্যবস্থাপনা আরও আধুনিক, স্বচ্ছ, প্রযুক্তিনির্ভর ও জবাবদিহিমূলক করার অংশ হিসেবে দেখছে সংশ্লিষ্টরা। কারা ব্যবস্থাপনাকে প্রযুক্তিনির্ভর ও আধুনিক করার বিষয়ে কারা মহাপরিদর্শকও সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন উদ্যোগের কথা জানিয়েছেন।
মেলা আগামী ১৪ সেপ্টেম্বর, সোমবার পর্যন্ত প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে।
//ডিবিটেক/বিএনও/ইএসএম/ এফওইবি//





