রোগ চিকিৎসায় নতুন সম্ভাবনার পাশাপাশি বাড়ল জৈব-নিরাপত্তা উদ্বেগ

এআই তৈরি করল নতুন জীবন্ত ভাইরাস

  • যুক্তরাষ্ট্রের গবেষকরা এআই ব্যবহার করে প্রথমবারের মতো সম্পূর্ণ নতুন ধরনের রেপ্লিকেট সক্ষম ভাইরাস নকশা করেছেন
  • পরীক্ষাগারে তৈরি ১৬টি নতুন ব্যাকটেরিওফেজ ভাইরাস ই. কোলাই ব্যাকটেরিয়া সফলভাবে ধ্বংস করতে সক্ষম হয়েছে
  • উদ্ভাবিত এই প্রযুক্তি অ্যান্টিবায়োটিক-প্রতিরোধী মারাত্মক ব্যাকটেরিয়ার চিকিৎসায় নতুন যুগের সূচনা করতে পারে
  • ইভো-১ ও ইভো-২ নামের এআই মডেলগুলোকে ম

এআই তৈরি করল নতুন জীবন্ত ভাইরাস
৭ আগষ্ট, ২০২৬ ০০:৫৪  

যুক্তরাষ্ট্রের গবেষকরা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে সম্পূর্ণ নতুন ধরনের ভাইরাস তৈরি করেছেন, যা পরীক্ষাগারে সফলভাবে প্রতিলিপি (রেপ্লিকেট) তৈরি করতে সক্ষম। ইতিহাসে এই প্রথমবারের মতো কোনো সম্পূর্ণ ভাইরাসের জিনোম এআই দিয়ে সফলভাবে নকশা করা হলো। গবেষকদের তৈরি ১৬টি নতুন ভাইরাস মূলত ব্যাকটেরিয়াকে সংক্রমিত করে এবং তা মানুষের জন্য কোনো হুমকি নয়। বিজ্ঞানীদের মতে, এটি ভবিষ্যতে ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়াজনিত রোগের চিকিৎসায় নতুন যুগের সূচনা করতে পারে। তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, এআই দিয়ে জেনারেটিক ভাইরাস তৈরির সক্ষমতা জৈব-নিরাপত্তা নিয়ে ‘জরুরি’ উদ্বেগও তৈরি করেছে।

স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক ব্রায়ান হাই বলেন, “জেনারেটিভ এআইয়ের মাধ্যমে জটিল জৈব কাঠামো নকশার ক্ষেত্রে এটি পরবর্তী ধাপ। এই প্রথম কোনো পূর্ণাঙ্গ জিনোম এআই দিয়ে তৈরি হলো, যা প্রতিলিপি তৈরি করতে পারে এবং কোষের ভেতরে বিভিন্ন কাজও করতে পারে। এটি আমাদের জন্য একেবারেই নতুন ক্ষেত্র।” প্রযুক্তিটি মূলত চ্যাটজিপিটির মতো লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেলের (LLM) নীতিতে কাজ করে; যেখানে শব্দের পরিবর্তে জীবনের ভাষা অর্থাৎ জিনগত কোডের পূর্বাভাস দেওয়া হয়। ইভো-১ ও ইভো-২ (Evo-1 & Evo-2) নামের এআই মডেলগুলোকে ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া, উদ্ভিদ ও মানুষের জিনগত তথ্য দিয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়ার পর ব্যাকটেরিওফেজ নকশার নির্দেশ দেওয়া হয়। গবেষকরা ৩০২টি এআই-নকশা থেকে পরীক্ষাগারে সংশ্লেষণ করে ১৬টি কার্যকরী ভাইরাস তৈরি করেন, যা সফলভাবে ই. কোলাই (E. coli) ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করে। স্ট্যানফোর্ডের পিএইচডি গবেষক স্যামুয়েল কিং জানান, ব্যাকটেরিয়ায় ভরা পেট্রি ডিশে ভাইরাস প্রয়োগের পর স্পষ্ট স্বচ্ছ দাগ ফুটে ওঠায় বোঝা যায় যে ব্যাকটেরিয়াগুলো ধ্বংস হয়েছে।

নতুন এই ফেজ প্রযুক্তি অ্যান্টিবায়োটিক-প্রতিরোধী জটিল সংক্রামক ব্যাধির চিকিৎসায় চিকিৎসাবিজ্ঞানীদের নতুন আশা দেখাচ্ছে। তবে বিজ্ঞানীরা গভীর আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, এই একই প্রযুক্তির অপব্যবহার করে অসৎ উদ্দেশ্যে মারাত্মক কোনো মানব সংক্রামক রোগজীবাণু তৈরি করা হতে পারে। জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর হেলথ সিকিউরিটির গবেষক ড. থমাস ইংলেসবি ও ড. মরিটজ হ্যাঙ্কে ‘সায়েন্স’ সাময়িকীতে লিখেছেন, এই গবেষণা বিশ্বজুড়ে জৈব-নিরাপত্তা ও সতর্কতার ক্ষেত্রে নতুন ও জটিল প্রশ্ন দাঁড় করিয়েছে। এখন মূল বিষয় হলো, এআই দিয়ে ভাইরাস তৈরি সম্ভব তা প্রমাণিত; তাই মানবজাতির ক্ষতি এড়াতে মানুষের ক্ষতি করে এমন ক্ষতিকর ভাইরাস গবেষণা থেকে এআইকে দূরে রাখার বিষয়ে বৈশ্বিক নীতিমালা তৈরি করা জরুরি।

//ডিবিটেক/বিবিসি/এসএমই//