জনমিতিক লভ্যাংশ কাজে না লাগলে বাড়বে বেকারত্বের চাপ

যুব দক্ষতা বাড়ানো এখন সময়ের দাবি

  • প্রতি চার যুবকের একজন বেকার
  • ৪০% তরুণ শিক্ষা-প্রশিক্ষণের বাইরে
  • দক্ষতা উন্নয়নে সংস্কারের ওপর জোর

যুব দক্ষতা বাড়ানো এখন সময়ের দাবি
২৮ জুলাই, ২০২৬ ১৪:১৯  

বাংলাদেশের বিপুল যুব জনসংখ্যাকে দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তর করা না গেলে দেশের জনমিতিক লভ্যাংশ ভবিষ্যতে বড় অর্থনৈতিক ও সামাজিক বোঝায় পরিণত হবে বলে সতর্ক করেছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। তিনি বলেন, প্রযুক্তিনির্ভর দক্ষতা, কারিগরি শিক্ষা এবং শ্রমবাজারের চাহিদাভিত্তিক প্রশিক্ষণ ছাড়া টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি সম্ভব নয়।

বিশ্ব যুব দক্ষতা দিবস ২০২৬ উপলক্ষে ২৮ জুলাই, মঙ্গলবার রাজধানীর বিনিয়োগ ভবনের মাল্টিপারপাস অডিটোরিয়ামে জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (এনএসডিএ) আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নূরুল হক নূর, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এবিএম আব্দুস সাত্তার এবং জাতীয় মানবসম্পদ উন্নয়ন তহবিলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. তৌহিদুর রহমান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন এনএসডিএর নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. নাজনীন কাউসার চৌধুরী।

উদ্বেগজনক যুব বাস্তবতা
ড. তিতুমীর বলেন, বর্তমানে দেশের প্রতি চারজন যুবকের একজন বেকার। এছাড়া ১৫ থেকে ২৪ বছর বয়সী তরুণ-তরুণীদের ৪০ শতাংশ শিক্ষা, কর্মসংস্থান কিংবা প্রশিক্ষণের বাইরে রয়েছে। নারীদের ক্ষেত্রে এই হার প্রায় ৬০ শতাংশ, যা দেশের মানবসম্পদ উন্নয়নের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শক্তি তার তরুণ জনগোষ্ঠী। কিন্তু দক্ষতার ঘাটতি ও কর্মসংস্থানের সীমাবদ্ধতার কারণে এই সম্ভাবনা ধীরে ধীরে জনমিতিক বোঝায় পরিণত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।

প্রযুক্তিনির্ভর দক্ষতা উন্নয়নে জোর
অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা জানান, দক্ষ জনশক্তি গড়ে তুলতে শিক্ষা ব্যবস্থায় কাঠামোগত সংস্কার, পাঠ্যক্রম আধুনিকায়ন এবং ষষ্ঠ শ্রেণি থেকেই কারিগরি শিক্ষার সম্প্রসারণ করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, সরকারি পর্যায়ে টিভেট (Technical and Vocational Education and Training) প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ও সক্ষমতা বাড়ানো, বহুভাষিক দক্ষতা উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

২০৩৪ সালের লক্ষ্য
সরকারের লক্ষ্য ২০৩৪ সালের মধ্যে ১ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়ে তোলা এবং অন্তত ১ কোটি মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা। এ লক্ষ্য অর্জনে দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়ন, নারীদের শ্রমবাজারে অংশগ্রহণ বৃদ্ধি, নতুন আন্তর্জাতিক শ্রমবাজার সৃষ্টি এবং প্রযুক্তিনির্ভর প্রশিক্ষণ ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণের আহ্বান
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নূরুল হক নূর বলেন, দক্ষতা উন্নয়ন কার্যক্রমে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি বেসরকারি খাতের সক্রিয় অংশগ্রহণ জরুরি।

তিনি জানান, সরকারের ১১০টি কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের (টিটিসি) অবকাঠামো বেসরকারি প্রতিষ্ঠানও ব্যবহার করতে পারবে। এছাড়া কাতার, সৌদি আরবসহ বিভিন্ন দেশের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষ কর্মী তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। গত বছর বিএমইটির বিভিন্ন প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানে ১ লাখ ৬৭ হাজার মানুষকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, অটোমেশন ও ডিজিটাল অর্থনীতির যুগে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়াতে প্রযুক্তিনির্ভর দক্ষতা, কারিগরি শিক্ষা এবং জীবনব্যাপী শেখার (Lifelong Learning) সংস্কৃতি গড়ে তোলা এখন সময়ের সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার।
//ডিবিটেক/ এমএফএ/ এমএনএ//