সাবেক উপাচার্য সায়েমের পুনর্বহালের দাবি বহাল রেখে একাডেমিক কার্যক্রমে ফিরছেন শিক্ষক-কর্মকর্তারাও

এক মাস পর ক্লাসে ফিরছেন চুয়েট শিক্ষার্থীরা: উপাচার্যের কার্যালয়ে তালা বহাল, অসহযোগ অব্যাহত

  • সেশনজটের ঝুঁকি কাটাতে বুধবার থেকে ক্লাসে ফেরা; ২৪ ব্যাচের ক্লাস শুরু হতে পারে ১ নভেম্বর
  • শিক্ষার্থীদের স্বার্থে শিক্ষকরা ক্লাসে গেলেও নতুন উপাচার্যের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক কর্মবিরতি বহাল
  • ভিসি ভবনে তালা বহাল; অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম ক্যাম্পাসে প্রবেশের চেষ্টা করলে ফের সর্বাত্মক আন্দোলনের হুঁশিয়ারি

এক মাস পর ক্লাসে ফিরছেন চুয়েট শিক্ষার্থীরা: উপাচার্যের কার্যালয়ে তালা বহাল, অসহযোগ অব্যাহত
২৬ অক্টোবর, ২০২৬ ২০:২৭  

টানা এক মাসেরও বেশি সময় ধরে চলা অচলাবস্থা ও সেশনজটের মারাত্মক ঝুঁকি কাটিয়ে অবশেষে শ্রেণিকক্ষে ফেরার আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) শিক্ষার্থীরা। তবে দীর্ঘদিনের ‘সর্বাত্মক শাটডাউন’ কর্মসূচি প্রত্যাহার করে ক্লাসে ফিরলেও বিতর্কিতভাবে অপসারিত সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের মূল দাবি থেকে কোনোভাবেই সরে না আসার কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন আন্দোলনকারীরা। একই সঙ্গে নবনিযুক্ত উপাচার্যের প্রতি পূর্বঘোষিত পূর্ণাঙ্গ অসহযোগ নীতি কঠোরভাবে বহাল রেখেই শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে ক্লাসে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী সমিতি।

২৬ অক্টোবর, সোমবার দুর্গাপূজার ছুটি শেষে শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে ফিরলেও এদিন কোনো একাডেমিক ক্লাস অনুষ্ঠিত হয়নি। আন্দোলনকারী প্ল্যাটফর্ম ‘রিফর্ম চুয়েট’-এর সিদ্ধান্তের আলোকে আগামী বুধবার (২৮ অক্টোবর) থেকে নিয়মিত ক্লাসে ফিরতে চান শিক্ষার্থীরা। এর আগেই স্থগিত থাকা বিভিন্ন পরীক্ষার সময়সূচি ঘোষণা করা হতে পারে বলে জানা গেছে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট অভ্যন্তরীণ সূত্রমতে, আগামী ১ নভেম্বর থেকে ২০২৪ ব্যাচের প্রতিটি বিভাগের ক্লাস একযোগে শুরু করার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

এর আগে রবিবার (২৫ অক্টোবর) শিক্ষকদের উদ্দেশে দেওয়া এক খোলা চিঠির মাধ্যমে শিক্ষাজীবন রক্ষার্থে ক্লাসে ফেরার অনুকূল পরিবেশ তৈরিতে শিক্ষকদের সক্রিয় সহযোগিতা কামনা করেন শিক্ষার্থীরা। চিঠিতে তাঁরা উল্লেখ করেন, দীর্ঘ সময় ক্লাস ও পরীক্ষা বন্ধ থাকায় সাধারণ শিক্ষার্থীরা অপূরণীয় একাডেমিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। তবে এই ক্লাসে ফেরাকে আন্দোলন সমাপ্তির সংকেত হিসেবে বিবেচনা না করার আহ্বান জানান তাঁরা।

এদিকে একই দিন সকালে চুয়েট শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আহসান উল্লাহর সভাপতিত্বে সাধারণ সভা এবং পরবর্তীতে কর্মকর্তা ও কর্মচারী সমিতির সঙ্গে এক যৌথ জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভা শেষে এক যৌথ বিবৃতিতে জানানো হয়, শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবনের স্বার্থে শিক্ষক-কর্মকর্তারা একাডেমিক কার্যক্রমে সহযোগিতা করবেন; তবে বিতর্কিত প্রক্রিয়ায় নিয়োগ পাওয়া নতুন উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমের যেকোনো প্রশাসনিক কার্যক্রমের বিরুদ্ধে ঘোষিত অসহযোগ কর্মসূচি ও প্রশাসনিক কর্মবিরতি পূর্ণাঙ্গভাবে বহাল থাকবে। ক্যাম্পাসে বহিরাগতদের অনধিকার প্রবেশ ঠেকাতে প্রধান ফটক বন্ধ রেখে নিরাপত্তা জোরদারের আহ্বান জানান শিক্ষক নেতারা। একই সঙ্গে ইউজিসির মাধ্যমে পরামর্শক কমিটি গঠন এবং অভ্যন্তরীণ সদস্যদের বাদ দিয়ে অনলাইনে সিন্ডিকেট সভা ডাকার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়।

শিক্ষার্থীরা স্পষ্ট জানিয়েছেন, ক্লাসে ফিরলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ভবনে ঝুলানো তালা বহাল থাকবে। নতুন উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম কোনোভাবেই ক্যাম্পাসে প্রবেশের চেষ্টা করলে তাৎক্ষণিকভাবে পুনরায় সর্বাত্মক শাটডাউন ডাকার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ২১ সেপ্টেম্বর চুয়েটের তৎকালীন উপাচার্য অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে আকস্মিক অপসারণ করে কুয়েটের অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে নিয়োগ দেয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এই সিদ্ধান্তকে অযৌক্তিক ও নিয়মবহির্ভূত আখ্যা দিয়ে গত ২২ সেপ্টেম্বর থেকে একযোগে সর্বাত্মক শাটডাউন ও সর্বাত্মক অসহযোগ কর্মসূচি পালন করে আসছিল চুয়েটের সাধারণ শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী ঐক্য পরিষদ বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে প্রকাশ।

//ডিবিটেক/সিআরএইচ/এসএমপি/এমআইএসটি//