আইপিওর আবেদন করলো অ্যানথ্রোপিক, ২ ট্রিলিয়ন ডলার মূল্যায়নের সম্ভাবনা
শীর্ষস্থানীয় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘অ্যানথ্রোপিক’ আনুষ্ঠানিকভাবে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্তির বা আইপিওর জন্য আবেদন জানিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি মার্কিন সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি)-এ তাদের রেজিস্ট্রেশন ফর্ম এস-১ জমা দিয়েছে। নথিপত্র অনুযায়ী, কোম্পানিটি ‘এএনটি’ টিকারে নাসডাক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত হতে যাচ্ছে।
শেয়ারের সংখ্যা ও প্রস্তাবিত প্রাথমিক দর এখনো নির্ধারিত না হলেও, চলতি নভেম্বরের মাঝামাঝি নাগাদ শেয়ারবাজারে অভিষেকের সময় অ্যানথ্রোপিকের সার্বিক বাজার মূল্যায়ন (ভ্যালুয়েশন) প্রায় ২ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছাতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আর্থিক অবস্থা ও বিস্ফোরক আয় প্রবৃদ্ধি
জমা দেওয়া নথিপত্র অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত অ্যানথ্রোপিক মোট ১৪১.১ বিলিয়ন ডলার মূলধন সংগ্রহ করেছে, যার মধ্যে হাতে নগদ ও সমতুল্য সম্পদ রয়েছে ১১২.৪ বিলিয়ন ডলার। চলতি বছরের জুন মাসে শেষ হওয়া প্রান্তিকে কোম্পানির রাজস্ব আয় বছরে ১,৩৬৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
তবে একই সময়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অবকাঠামো ও কম্পিউটিং খরচও বেড়েছে ৩০০ শতাংশ। এর আগে গত বছর প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনাগত ক্ষতি (অপারেটিং লস) ছিল ৮ বিলিয়ন ডলার। তা সত্ত্বেও রাজস্ব প্রবৃদ্ধির এই বিশাল সূচক বিশ্বজুড়ে এআইভিত্তিক বাণিজ্যিক সেবার তীব্র চাহিদাকেই ফুটিয়ে তুলেছে।
ঝুঁকি সতর্কতা ও নিরাপদ এআই উন্নয়নের অঙ্গীকার
এআই শিল্পে অন্যতম অগ্রগামী প্রতিষ্ঠান হলেও অ্যানথ্রোপিকের প্রধান নির্বাহী (সিইও) দারিও আমোদেই এই প্রযুক্তির অনিয়ন্ত্রিত প্রসার রোধে বরাবরই সোচ্চার ভূমিকা রেখেছেন। আইপিওর নথিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সম্ভাব্য ঝুঁকির চারটি প্রধান ক্ষেত্র চিহ্নিত করা হয়েছে: প্রযুক্তির অপব্যবহার, নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলা, কর্তৃত্ববাদী সরকারের অপপ্রয়োগ এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক বিশৃঙ্খলা।
কোম্পানিটি সতর্ক করে জানিয়েছে যে, মানব বিশেষজ্ঞদের ছাড়িয়ে যাওয়া উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন এআই মডেল আগামী কয়েক বছরের মধ্যেই সহজলভ্য হতে পারে। তাই বিনিয়োগকারীদের সতর্ক করার পাশাপাশি অ্যানথ্রোপিক স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, ব্যবসার পাশাপাশি মানবজাতির জন্য একটি নিরাপদ ও ইতিবাচক ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করাই তাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।
ডিবিটেক/বিএমটি । সূত্র: এনগ্যাজেট





