বি-২ পরীক্ষা শেষে অনুমোদনের অপেক্ষা

রূপপুরে স্টেজ-সি শুরুর অপেক্ষা

  • প্রথম ইউনিটের বি-২ ধাপের ফিজিক্যাল টেস্টসহ প্রয়োজনীয় পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে
  • পরীক্ষার প্রতিবেদন নিয়ন্ত্রক সংস্থা বায়েরা’র কাছে জমা দেওয়া হয়েছে
  • অনুমোদনের পর স্টেজ-সি, গ্রিড সংযোগ ও পরীক্ষামূলক পরিচালনার ধাপ এগোবে

রূপপুরে স্টেজ-সি শুরুর অপেক্ষা
২৬ অক্টোবর, ২০২৬ ০৯:৪৯  

পাবনার ঈশ্বরদীতে নির্মাণাধীন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে বি-২ ধাপের ফিজিক্যাল টেস্টসহ প্রয়োজনীয় পরীক্ষা ও কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে। এসব পরীক্ষার প্রতিবেদন বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (বায়েরা) কাছে জমা দেওয়া হয়েছে। নিয়ন্ত্রক সংস্থার চূড়ান্ত অনুমোদন মিললে ইউনিটটি বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রস্তুতিমূলক গুরুত্বপূর্ণ ধাপ ‘স্টেজ-সি’ বা ‘পাওয়ার স্টার্টআপে’ প্রবেশ করবে। তবে এই অনুমোদন, জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু এবং বাণিজ্যিক উৎপাদন—তিনটি পৃথক মাইলফলক।

রিঅ্যাক্টরের ক্ষমতা ধাপে ধাপে বাড়ানোর পরীক্ষা

প্রকল্পসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, স্টেজ-সি পর্যায়ে রিঅ্যাক্টরের ক্ষমতা ধাপে ধাপে বাড়িয়ে বিদ্যুৎকেন্দ্রের গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রপাতি ও ব্যবস্থাগুলোর কার্যকারিতা যাচাই করা হবে। এর মাধ্যমে কেন্দ্রটির নিরাপদ, স্থিতিশীল ও নির্ভরযোগ্য পরিচালনা এবং জাতীয় বিদ্যুৎ গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের সক্ষমতা পরীক্ষা করা হবে।

নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেডের (এনপিসিবিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. জাহেদুল হাসান বলেন, এ পর্যায়ে রিঅ্যাক্টর, প্রাথমিক ও দ্বিতীয় পর্যায়ের ব্যবস্থা, টারবাইন-জেনারেটর, বৈদ্যুতিক ব্যবস্থা, যন্ত্রপাতি ও নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা এবং সুরক্ষা ও নিরাপত্তাব্যবস্থার কার্যকারিতা পরীক্ষা করা হবে। একই সঙ্গে এসব ব্যবস্থার মধ্যে যথাযথ সমন্বয় নিশ্চিত করা হবে।

তিনি বলেন, রিঅ্যাক্টরের ক্ষমতা বাড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে কেন্দ্রের গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রপাতি ও ব্যবস্থাগুলোর কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ ও যাচাই করা হবে। বিশেষ করে টারবাইনের নিয়ন্ত্রণ ও সুরক্ষাব্যবস্থা, জেনারেটর এবং সংশ্লিষ্ট বৈদ্যুতিক ব্যবস্থাগুলো স্বাভাবিক পরিচালন পরিস্থিতিতে সঠিকভাবে কাজ করছে কি না, তা পরীক্ষা করা হবে।

জাতীয় গ্রিডে সংযোগ গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক

ড. জাহেদুল হাসান জানান, স্টেজ-সি পর্যায়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হলো জেনারেটরকে জাতীয় বিদ্যুৎ গ্রিডের সঙ্গে সফলভাবে যুক্ত করা। এ প্রক্রিয়ায় গ্রিডের সঙ্গে সমন্বয় বজায় রেখে স্থিতিশীলভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহের সক্ষমতা যাচাই করা হবে। একই সঙ্গে কেন্দ্রের বিভিন্ন ব্যবস্থার নিরাপদ ও নির্ভরযোগ্য কার্যক্রম নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে।

প্রয়োজনীয় পরীক্ষা সন্তোষজনকভাবে সম্পন্ন করা, কমিশনিং-সংক্রান্ত শর্ত পূরণ এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদন পাওয়ার পর ইউনিটটিকে পরবর্তী ধাপ ‘পাইলট অপারেশন’ বা পরীক্ষামূলক পরিচালনায় নেওয়ার পথ তৈরি হবে বলে জানান তিনি।

বাণিজ্যিক উৎপাদনের আগে আরও যাচাই

স্টেজ-সি বা পাওয়ার স্টার্টআপ শুরু হওয়া মানেই জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ কিংবা বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু হওয়া নয়। প্রতিটি ধাপে নির্ধারিত কারিগরি পরীক্ষা, কমিশনিং কার্যক্রম এবং নিরাপত্তা যাচাই সম্পন্ন করতে হবে। পাশাপাশি নিয়ন্ত্রক সংস্থার প্রযোজ্য অনুমোদন ও শর্ত পূরণও অপরিহার্য।

অতএব, রূপপুরের প্রথম ইউনিটের বি-২ ধাপের পরীক্ষা সম্পন্ন হওয়া পরবর্তী কমিশনিং কার্যক্রমের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি। তবে স্টেজ-সি শুরুর সময়, গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের তারিখ এবং বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরুর সময় সম্পর্কে এই তথ্যের ভিত্তিতে নির্দিষ্ট সময়সীমা নিশ্চিত করা যাচ্ছে না।

//ডিবিটেক/বিআইসি/এসএমপি/এমআইএসটি//