ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে প্রবাসী শিক্ষকদের যুক্ত করবে ইউজিসি

ডিজিটাল ট্রান্সফরমেশনের অংশ হিসেবে আগামী দুই বছরের মধ্যে ১৮০টি বিশ্ববিদ্যালয়কে সমন্বিত ডিজিটাল ইকোসিস্টেমে যুক্ত করতে এবং প্রবাসী শিক্ষক-গবেষকদের ভার্চ্যুয়াল প্ল্যাটফর্মে শিক্ষা ও গবেষণায় সম্পৃক্ত করতে উদ্যোগ নিয়েছে ইউজিসি

ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে প্রবাসী শিক্ষকদের যুক্ত করবে ইউজিসি
২২ জুলাই, ২০২৬ ১৮:৩২  

ডিজিটাল ট্রান্সফরমেশনের মাধ্যমে বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশি এবং আন্তর্জাতিক শিক্ষক-গবেষকদের ভার্চ্যুয়াল প্ল্যাটফর্মে দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শিক্ষা ও গবেষণা কার্যক্রমে যুক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি)। একই সঙ্গে আগামী দুই বছরের মধ্যে দেশের ১৮০টি বিশ্ববিদ্যালয়কে একটি সমন্বিত ডিজিটাল উচ্চশিক্ষা ইকোসিস্টেমের আওতায় আনার পরিকল্পনা নিয়েছে সংস্থাটি।

২২ জুলাই, বুধবার  রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত ‘বিডিরেন–ক্যামব্রিজ ইউনিভার্সিটি প্রেস কোলাবোরেশন: পাথওয়ে টুয়ার্ডস গ্লোবাল নলেজ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইউজিসির চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, উচ্চশিক্ষায় শিখন ঘাটতি কমানো এবং শিক্ষা ও গবেষণায় সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে উচ্চগতির ইন্টারনেট, ক্যাম্পাসজুড়ে বিনামূল্যে ওয়াই-ফাই, স্মার্ট ক্লাসরুম, ডিজিটাল লাইব্রেরি এবং আন্তর্জাতিক গবেষণা ডাটাবেজ ও ই-রিসোর্সে প্রবেশাধিকার সম্প্রসারণ করা হবে। কমিশন আগামী দুই বছরের মধ্যে এসব কার্যক্রম বাস্তবায়নের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে।

অধ্যাপক মামুন আহমেদ বলেন, উচ্চশিক্ষায় ডিজিটাল রূপান্তরের লক্ষ্য শুধু প্রযুক্তিগত অবকাঠামো উন্নয়ন নয়; বরং দেশের প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর জন্য মানসম্মত শিক্ষা ও গবেষণার সমান সুযোগ নিশ্চিত করা। ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে কোনো বিশ্ববিদ্যালয় যেন শিক্ষা ও গবেষণায় পিছিয়ে না পড়ে, সে লক্ষ্যেই ইউজিসি কাজ করছে।

তিনি জানান, ইউজিসি, বাংলাদেশ রিসার্চ অ্যান্ড এডুকেশন নেটওয়ার্ক (বিডিরেন) এবং হায়ার এডুকেশন অ্যাক্সিলারেশন অ্যান্ড ট্রান্সফরমেশন (হিট) প্রকল্প যৌথভাবে এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করবে। এর আওতায় দেশের ১৮০টি বিশ্ববিদ্যালয়কে ধাপে ধাপে একটি সমন্বিত ডিজিটাল ইকোসিস্টেমের সঙ্গে সংযুক্ত করা হবে।

এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে নতুন ও প্রান্তিক অঞ্চলের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো আন্তর্জাতিক মানের ই-রিসোর্স, গবেষণা সামগ্রী এবং ডিজিটাল শিক্ষাসেবায় সহজ প্রবেশাধিকার পাবে। পাশাপাশি দেশের বাইরে কর্মরত বাংলাদেশি ও আন্তর্জাতিক শিক্ষক-গবেষকেরা ভার্চ্যুয়াল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে অনলাইন পাঠদান, গবেষণা তত্ত্বাবধান এবং আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় একাডেমিক সহযোগিতায় অংশ নিতে পারবেন।

ইউজিসি চেয়ারম্যান আরও বলেন, আগামী দুই বছরের মধ্যে ডিজিটাল লাইব্রেরি সুবিধা উল্লেখযোগ্যভাবে সম্প্রসারণ করা হবে। আন্তর্জাতিক মানের বই, গবেষণা জার্নাল এবং স্বীকৃত গবেষণা ডাটাবেজে প্রবেশাধিকার বাড়িয়ে শিক্ষক, গবেষক ও শিক্ষার্থীদের জন্য বৈশ্বিক জ্ঞানভাণ্ডার ব্যবহারের সুযোগ নিশ্চিত করা হবে। একই সঙ্গে প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও কার্যক্রম চালিয়ে যেতে একটি টেকসই প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো গড়ে তোলা হবে।

তিনি বলেন, চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রযুক্তিনির্ভর উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থার বিকল্প নেই। ডিজিটাল অবকাঠামো শক্তিশালী হলে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে জ্ঞান ও গবেষণার বৈষম্য কমবে এবং আন্তর্জাতিক শিক্ষা ও গবেষণা সহযোগিতা আরও সম্প্রসারিত হবে।

অনুষ্ঠানে ইউজিসির আইসিটি বিভাগের পরিচালক মো. ওমর ফারুখ, হিট প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক অধ্যাপক ড. আসাদুজ্জামান, ক্যামব্রিজ ইউনিভার্সিটি প্রেসের ন্যাশনাল হেড দেব্রতম ভট্টাচার্য এবং হেড অব পাবলিশিং কুদসিয়া আহমেদ বক্তব্য দেন। বক্তারা উচ্চশিক্ষার আন্তর্জাতিকীকরণ, গবেষণার মানোন্নয়ন এবং ডিজিটাল সহযোগিতার মাধ্যমে বৈশ্বিক জ্ঞানভাণ্ডারে শিক্ষার্থী ও গবেষকদের প্রবেশাধিকার সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
//ডিবিটেক/ইউএইচইউ/এনএএম//